০৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
তীব্র তাপপ্রবাহে মে পর্যন্ত জ্বলবে করাচি, জরুরি প্রস্তুতির নির্দেশ—আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় গাফিলতি নিয়ে তদন্ত জাতিসংঘে বাংলাদেশ: এলডিসি থেকে উত্তরণে ন্যায্য সহায়তা চাই, উন্নয়নশীল বিশ্বের স্বার্থ রক্ষার আহ্বান পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার ছায়া কি রাতের আকাশেও পড়েছিল? পুরোনো আকাশচিত্রে মিলল বিস্ময়কর ইঙ্গিত বান্দরবানের পরাবন বনে অবৈধ লগিং: পাহাড় কেটে চলছে কাঠের গোপন বাণিজ্য নিউইয়র্কের স্মৃতি আর বয়সের গল্পে ফিরে দেখা: ৭১ বছরে জে ম্যাকইনার্নির নতুন উপন্যাসে শহরের বদলে যাওয়া জীবন ইরানে জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী পাঠাল বাংলাদেশ, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিশেষ উদ্যোগ সংসদে জামায়াত সংসদ সদস্যের অভিযোগ: ওয়াসার পানিতে পোকা, দুর্গন্ধ — পান অযোগ্য রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং, জুলাই-আগস্টে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য জ্যান মরিস: এক জীবন, এক রূপান্তর—লেখক থেকে ইতিহাসের সাক্ষী নারীর কণ্ঠে সংগ্রাম ও স্বপ্ন: ‘সাউন্ড অব উইমেন’-এ লোকসঙ্গীত ও র‍্যাপের অনন্য মেলবন্ধন

ঝালমুড়ি ঘিরে নির্বাচনী উত্তাপ, মোদি–মমতার পাল্টাপাল্টি মন্তব্য

পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনী প্রচার তীব্র হতে শুরু করতেই ঝালমুড়িকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে তীব্র বাক্যযুদ্ধ শুরু হয়েছে। নির্বাচনী মাঠে এই সাধারণ খাবারই এখন রাজনৈতিক প্রতীক হয়ে উঠেছে।

কয়েক দিন আগে ঝাড়গ্রামে এক দোকানে ঝালমুড়ি খেয়ে প্রচার থেকে সামান্য বিরতি নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই ঘটনাই দ্রুত নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগরে এক জনসভায় মোদি বলেন, তিনি ঝালমুড়ি খেয়েছেন, কিন্তু তার ঝাল লেগেছে তৃণমূলের গায়ে। ইঙ্গিতপূর্ণ এই মন্তব্যে তিনি দাবি করেন, তার এই সাধারণ খাবার উপভোগ অনেকের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে।

এর জবাব দিতে দেরি করেননি তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার বৌবাজারে এক সভায় তিনি বলেন, ঝালমুড়ির ঝাল খেতে তারা অভ্যস্ত, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কখনও মাছ খেয়েছেন কি না—এই প্রশ্ন তোলেন তিনি। খাদ্যাভ্যাস নিয়ে এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিজেপিকে ‘শুধু নিরামিষভোজী দল’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন এবং বলেন, তিনি সব ধরনের খাবারে বিশ্বাস করেন, কোনো বিভাজন করেন না।

West Bengal Elections 2026 highlights: First phase of polling complete;  estimated voter turnout crosses 92% - The Hindu

নারী সংরক্ষণ ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিতর্ক

নির্বাচনী প্রচারে নারী সংরক্ষণ ইস্যুতেও তর্ক জোরদার হয়। মোদি অভিযোগ করেন, সংসদে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের প্রস্তাবে তৃণমূল বিরোধিতা করেছে। তার দাবি, তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গের নারীদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে এবং তাদের ওপর হওয়া অত্যাচারের জবাব ভোটের মাধ্যমে দিতে হবে।

একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমবঙ্গের নারীদের জন্য ‘দশটি গ্যারান্টি’র ঘোষণা দেন। এর মধ্যে রয়েছে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, প্রতিটি ব্লকে মহিলা থানার ব্যবস্থা, ‘মাতৃ শক্তি বন্দন যোজনা’র আওতায় প্রতিটি নারীকে ৩ হাজার টাকা এবং স্নাতক সম্পন্ন করলে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি।

পরিবর্তনের বার্তা ও ভোটের আহ্বান

মোদি দাবি করেন, রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। প্রথম দফার ভোটে নারী ও তরুণদের বড় অংশগ্রহণ তা প্রমাণ করেছে। তার ভাষায়, ভয়ের জায়গা দখল করছে আস্থা, আর এই নির্বাচনে মানুষ কঠোর শাসনের বিরুদ্ধে রায় দেবে।

Narendra Modi: জনসভা না কি ভোটের ইঙ্গিত? মোদীর দাবি কতটা বাস্তব? | Aaro  Ananda

একই সুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ৫ মে-র পর বিজেপি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গের নারীদের বাসে ভাড়া দিতে হবে না।

অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা অভিযোগ করেন, বিজেপি নারীদের জন্য কোনো নগদ সহায়তা দেয়নি, বরং নোটবন্দির মাধ্যমে মানুষের টাকা কেড়ে নিয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য বিজেপি কী করেছে, যে কারণে মানুষ তাদের ভোট দেবে।

এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে স্পষ্ট, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী লড়াইয়ে এখন প্রতিটি প্রতীক, এমনকি ঝালমুড়িও, রাজনৈতিক বার্তার বাহক হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র তাপপ্রবাহে মে পর্যন্ত জ্বলবে করাচি, জরুরি প্রস্তুতির নির্দেশ—আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় গাফিলতি নিয়ে তদন্ত

ঝালমুড়ি ঘিরে নির্বাচনী উত্তাপ, মোদি–মমতার পাল্টাপাল্টি মন্তব্য

০৩:৪৮:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনী প্রচার তীব্র হতে শুরু করতেই ঝালমুড়িকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে তীব্র বাক্যযুদ্ধ শুরু হয়েছে। নির্বাচনী মাঠে এই সাধারণ খাবারই এখন রাজনৈতিক প্রতীক হয়ে উঠেছে।

কয়েক দিন আগে ঝাড়গ্রামে এক দোকানে ঝালমুড়ি খেয়ে প্রচার থেকে সামান্য বিরতি নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই ঘটনাই দ্রুত নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগরে এক জনসভায় মোদি বলেন, তিনি ঝালমুড়ি খেয়েছেন, কিন্তু তার ঝাল লেগেছে তৃণমূলের গায়ে। ইঙ্গিতপূর্ণ এই মন্তব্যে তিনি দাবি করেন, তার এই সাধারণ খাবার উপভোগ অনেকের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে।

এর জবাব দিতে দেরি করেননি তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার বৌবাজারে এক সভায় তিনি বলেন, ঝালমুড়ির ঝাল খেতে তারা অভ্যস্ত, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কখনও মাছ খেয়েছেন কি না—এই প্রশ্ন তোলেন তিনি। খাদ্যাভ্যাস নিয়ে এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিজেপিকে ‘শুধু নিরামিষভোজী দল’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন এবং বলেন, তিনি সব ধরনের খাবারে বিশ্বাস করেন, কোনো বিভাজন করেন না।

West Bengal Elections 2026 highlights: First phase of polling complete;  estimated voter turnout crosses 92% - The Hindu

নারী সংরক্ষণ ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিতর্ক

নির্বাচনী প্রচারে নারী সংরক্ষণ ইস্যুতেও তর্ক জোরদার হয়। মোদি অভিযোগ করেন, সংসদে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের প্রস্তাবে তৃণমূল বিরোধিতা করেছে। তার দাবি, তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গের নারীদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে এবং তাদের ওপর হওয়া অত্যাচারের জবাব ভোটের মাধ্যমে দিতে হবে।

একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমবঙ্গের নারীদের জন্য ‘দশটি গ্যারান্টি’র ঘোষণা দেন। এর মধ্যে রয়েছে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, প্রতিটি ব্লকে মহিলা থানার ব্যবস্থা, ‘মাতৃ শক্তি বন্দন যোজনা’র আওতায় প্রতিটি নারীকে ৩ হাজার টাকা এবং স্নাতক সম্পন্ন করলে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি।

পরিবর্তনের বার্তা ও ভোটের আহ্বান

মোদি দাবি করেন, রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। প্রথম দফার ভোটে নারী ও তরুণদের বড় অংশগ্রহণ তা প্রমাণ করেছে। তার ভাষায়, ভয়ের জায়গা দখল করছে আস্থা, আর এই নির্বাচনে মানুষ কঠোর শাসনের বিরুদ্ধে রায় দেবে।

Narendra Modi: জনসভা না কি ভোটের ইঙ্গিত? মোদীর দাবি কতটা বাস্তব? | Aaro  Ananda

একই সুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ৫ মে-র পর বিজেপি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গের নারীদের বাসে ভাড়া দিতে হবে না।

অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা অভিযোগ করেন, বিজেপি নারীদের জন্য কোনো নগদ সহায়তা দেয়নি, বরং নোটবন্দির মাধ্যমে মানুষের টাকা কেড়ে নিয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য বিজেপি কী করেছে, যে কারণে মানুষ তাদের ভোট দেবে।

এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে স্পষ্ট, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী লড়াইয়ে এখন প্রতিটি প্রতীক, এমনকি ঝালমুড়িও, রাজনৈতিক বার্তার বাহক হয়ে উঠেছে।