ভারতের লোকসভার বিরোধী দলনেতা Rahul Gandhi এই সপ্তাহান্তে Great Nicobar সফরে যেতে পারেন বলে জানা গেছে। দ্বীপের আদিবাসী পরিষদের আমন্ত্রণেই তাঁর এই সম্ভাব্য সফর, যেখানে মূল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে বড় অবকাঠামো প্রকল্পের কারণে জমি ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ।
আদিবাসী জমি নিয়ে প্রধান উদ্বেগ
গ্রেট নিকোবরের ট্রাইবাল কাউন্সিল সম্প্রতি রাহুল গান্ধীকে আমন্ত্রণ জানায়। তাদের অভিযোগ, দ্বীপে চলমান ও পরিকল্পনাধীন উন্নয়ন প্রকল্পের ফলে আদিবাসী জমি অন্য কাজে ব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ২০০৪ সালের সুনামির আগে যে গ্রামগুলোতে তারা বসবাস করতেন, সেগুলোর অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি গ্রাম এই প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
আদিবাসী প্রতিনিধিরা জানান, এসব জমি শুধু বসবাসের জায়গা নয়, তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই জমি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি তারা সহজে মেনে নিতে রাজি নন।

উন্নয়ন প্রকল্প বনাম পরিবেশ ও অধিকার
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত ট্রান্সশিপমেন্ট প্রকল্প এখনও খসড়া পর্যায়ে রয়েছে এবং গ্রেট নিকোবরের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করবে। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বনভূমি ধ্বংস এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী জমি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।
‘সারেন্ডার সার্টিফিকেট’ বিতর্ক
ট্রাইবাল কাউন্সিলের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের কিছু পূর্বপুরুষের গ্রাম ছেড়ে দেওয়ার জন্য ‘সারেন্ডার সার্টিফিকেট’ দিতে বলা হয়েছে। এই প্রস্তাব নিয়ে তারা গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এটি তাদের ঐতিহাসিক অধিকার ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের উপর সরাসরি আঘাত।

সম্ভাব্য সফরের রূপরেখা
সূত্র অনুযায়ী, রাহুল গান্ধী শুক্রবার কলকাতায় পৌঁছাতে পারেন। এরপর শনিবার Port Blair হয়ে হেলিকপ্টারে গ্রেট নিকোবর যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে তিনি ট্রাইবাল কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই সফর শুধু রাজনৈতিক দিক থেকে নয়, পরিবেশ ও আদিবাসী অধিকার ইস্যুতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















