রাজশাহীর একটি কলেজে হামলার ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার এই ঘটনাকে ‘গুরুতর ও উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
রাজশাহীর দুর্গাপুর এলাকায় অবস্থিত দাওকান্দি সরকারি কলেজে চলমান পরীক্ষার মধ্যে হঠাৎ করে একদল লোক প্রবেশ করে বলে অভিযোগ উঠে। তারা ক্যাম্পাসে ঢুকে চাঁদা দাবি করে এবং বাধা দিলে শিক্ষকদের ওপর হামলা চালায়। পাশাপাশি কলেজের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এই ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হন, যাদের মধ্যে কলেজের অধ্যক্ষসহ শিক্ষক ও কর্মচারী রয়েছেন।
শিক্ষকদের ওপর হামলায় উদ্বেগ
জামায়াতে ইসলামীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতির মধ্যেই শিক্ষকদের ওপর হামলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিরই ইঙ্গিত দেয়। এমন পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষকরা জাতি গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শিক্ষকদের ওপর হামলা শুধু একটি ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর আঘাত।
অভিযোগ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনার জন্য স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়ী করে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ ধরনের সহিংসতা শিক্ষার পরিবেশকে নষ্ট করে এবং শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনে ব্যাঘাত ঘটায় বলে মন্তব্য করা হয়।
তদন্ত ও বিচার দাবি
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে, হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেন তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি, সেটিও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
আহতদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা
আহত শিক্ষক ও কর্মচারীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















