সিলেট অঞ্চলের হাওড় এলাকাগুলোতে বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হলেও ডিজেলের সংকট ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। সময়মতো ধান কাটতে না পারায় যেমন বাড়ছে ক্ষতির আশঙ্কা, তেমনি প্রতিদিনই বেড়ে যাচ্ছে খরচের চাপ।
ধান কাটার সময়েই সবচেয়ে বড় সংকট
হাওড় অঞ্চলে বোরো চাষের ফলন এবার ভালো হলেও ফসল ঘরে তুলতেই সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়ছেন কৃষকরা। সুনামগঞ্জ জেলার ১২টি উপজেলায় ১৩৭টি ছোট-বড় হাওড়ে এ বছর ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন।
কিন্তু ধান কাটার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ডিজেল সংকট এবং যন্ত্রের ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

হারভেস্টারের ভাড়া বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি
হাওড় এলাকায় দ্রুত ধান কাটার জন্য কম্বাইন হারভেস্টারের ওপর নির্ভরতা বেশি। কিন্তু এবার এই যন্ত্রের ভাড়া বেড়ে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। গত বছর যেখানে এক একর জমির ধান কাটতে খরচ হতো ৪৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা, সেখানে এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫০০ থেকে ১২ হাজার টাকায়। অনেক জায়গায় এর চেয়েও বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
যন্ত্রের সংখ্যা কম থাকায় চাহিদা অনুযায়ী সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে দলবদ্ধভাবে আগাম বুকিং করছেন।
ডিজেল সংকটে থমকে যাচ্ছে কাজ
হারভেস্টার মালিক ও চালকেরাও পড়েছেন বিপাকে। পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় যন্ত্র চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রশাসনিক অনুমতি থাকলেও ডিলারদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ফলে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে, যা সরাসরি ভাড়ার ওপর প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে যন্ত্র রক্ষণাবেক্ষণের খরচও বেড়ে গেছে।
সময়মতো ধান কাটতে না পারার শঙ্কা

অনেক কৃষক জানিয়েছেন, বেশি ভাড়া দিয়েও সময়মতো হারভেস্টার পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে অকাল বৃষ্টি বা আগাম বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। হাওড় এলাকায় এমন প্রাকৃতিক ঝুঁকি সবসময়ই থাকে, তাই ধান কাটায় দেরি মানেই বড় ক্ষতি।
উৎপাদন খরচ বাড়লেও ধানের দাম বাড়েনি
সার, বীজ, সেচ ও শ্রম খরচ—সবকিছুর দাম বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় ধানের বাজারমূল্য বাড়েনি। এতে কৃষকদের লাভের বদলে ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। অনেকেই ঋণ করে চাষ করছেন, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
প্রশাসনের ব্যাখ্যা
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জেলায় প্রকৃতপক্ষে জ্বালানির ঘাটতি নেই। তবে নিয়ন্ত্রিত সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে, সংকট এখনও কাটেনি। সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পারলে হাওড়ের কৃষকদের জন্য এটি বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















