তীব্র তাপদাহ আর ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষের জীবন এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। খুলনাসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় দিন-রাত দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট
অসহনীয় গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত
তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মানুষের বিশ্রাম ও ঘুম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় সকাল, দুপুর এমনকি গভীর রাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে বাসা-বাড়ি ও অফিস—সবখানেই কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।

খুলনা শহরের শিববাড়ি এলাকার এক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, অফিসে স্বাভাবিক কাজ করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় কাজের গতি থেমে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে অফিসে গরম অসহনীয় হয়ে ওঠে, যা কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।
গ্রামেও একই চিত্র
শুধু শহর নয়, গ্রামাঞ্চলেও পরিস্থিতি একই রকম। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার এক বাসিন্দা জানান, দিনে ৮ থেকে ১০ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এক ঘণ্টা থাকে, আবার চলে যায়। তীব্র গরমে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে, পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তাপমাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, খুলনায় তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। গত কয়েক দিনের তুলনায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে অস্বস্তি আরও বেড়েছে। এই তাপপ্রবাহ শুক্রবারও অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সামান্য স্বস্তি ফিরতে পারে।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণ

বিদ্যুৎ বিতরণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি সংকটের কারণে সরবরাহ কমে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং বাড়াতে হচ্ছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানির ঘাটতি তৈরি হওয়ায় এই সংকট আরও গভীর হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক সময়ে যেখানে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৭৫৬ মেগাওয়াট, সেখানে সরবরাহ ছিল মাত্র ৬১৯ মেগাওয়াট। ফলে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা লোডশেডিং বাড়ানোর অন্যতম কারণ।
সরকারের পরিকল্পনা
এদিকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। সেচ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এবং শহর-গ্রামের বৈষম্য কমাতে রাজধানীতে পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হবে।
স্বস্তির অপেক্ষায় মানুষ
তীব্র গরম ও বিদ্যুৎ সংকট—এই দুইয়ের চাপে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবন এখন দিশেহারা। অনেকেই বলছেন, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে জনজীবনে এর প্রভাব আরও গভীর হবে। এখন সবাই অপেক্ষা করছেন বৃষ্টি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির জন্য।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















