০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
খাবারের নিশ্চয়তা থেকে শান্তির রাজনীতি: যুদ্ধের আড়ালে মানুষের আসল প্রয়োজন কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা কারাগারে ইমরান খানকে হত্যা করা হচ্ছে—বাবার জীবন নিয়ে চরম শঙ্কায় দুই ছেলে ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল, ইউক্রেনে বড় পদক্ষেপের সুযোগ দেখছে পুতিন: গোয়েন্দা রিপোর্ট বেসরকারি শিক্ষকদের অধিকার ও সুশাসনে নতুন উদ্যোগ, গঠিত হলো শিক্ষক অ্যালায়েন্স ভারতে প্যাকেটজাত খাবারে লাল সতর্কতা লেবেল, জনরোষের পর অবস্থান বদল সরকারের জলাশয়ের নাম বদলে ট্রাম্পের উদ্যোগে ধাক্কা, মার্কিনদের আগ্রহ নেই: সিএনএনের তথ্য বিশ্লেষক পেনসিলভানিয়ায় ভয়াবহ হাম ছড়িয়ে পড়ছে, ঝুঁকিতে টিকাদান-অযোগ্য শিশুরা নেপালে বন্যার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা:আগাম সতর্কতার সীমাবদ্ধতা ইরান ছয় মাস পরও অটুট, যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর: স্মরণে শ্রদ্ধা, ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সোচ্চার শ্রমিকরা

সাভারে রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পূর্তিতে নিহতদের স্মরণে আবারও শোক আর ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে। আহত শ্রমিক, নিহতদের স্বজন এবং শ্রমিক অধিকারকর্মীরা একত্র হয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন এবং একই সঙ্গে ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার দাবিও জোরালোভাবে তুলেছেন। সারাক্ষণ রিপোর্ট

শুক্রবার সকালে দুর্ঘটনাস্থলের অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে এবং প্রার্থনার মাধ্যমে নিহতদের স্মরণ করা হয়। একসময় যেখানে বহুতল ভবনটি দাঁড়িয়ে ছিল, সেই স্থানেই এখন স্মৃতির ভারে নত হয়ে মানুষ দাঁড়ান, হারানোর বেদনা স্মরণ করেন।

প্রতিবাদ মিছিল ও দাবির পুনরাবৃত্তি

শ্রদ্ধা জানানোর আগে শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি প্রতিবাদ মিছিল করেন। মিছিল থেকে তারা ভবন ধসের জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি, আহত শ্রমিকদের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

শ্রমিক নেতারা জানান, এত বছর পেরিয়ে গেলেও বিচারপ্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি, যা ভুক্তভোগীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। অনেক আহত শ্রমিক এখনো চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে তারা উল্লেখ করেন।

ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ

শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে যেসব শ্রমিক এখনো শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

শ্রমিক নেতারা আরও বলেন, এই ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভুক্তভোগীদের অনেক দাবি অপূর্ণ রয়ে গেছে। তাদের মতে, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

বিভিন্ন সংগঠনের অংশগ্রহণ

৪ দফা দাবিতে মিছিল, শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী

স্মরণ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন অংশ নেয়। তাদের সঙ্গে ছিলেন নিহতদের পরিবার ও স্বজনরা। সবার কণ্ঠেই ছিল একটাই দাবি—ন্যায়বিচার এবং সম্মানজনক পুনর্বাসন।

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের বাসস্ট্যান্ডের কাছে রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ে। এ ঘটনায় প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৮ জন এবং আহত হন আরও হাজার হাজার শ্রমিক। এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত।

এই ঘটনার ১৩ বছর পরও বিচার ও ক্ষতিপূরণের প্রশ্নে অনিশ্চয়তা থেকেই গেছে, যা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য এক দীর্ঘস্থায়ী বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রানা প্লাজার স্মৃতি আজও দেশের শ্রমিক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক, যেখানে ন্যায়বিচারের দাবি এখনো অমীমাংসিত।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

খাবারের নিশ্চয়তা থেকে শান্তির রাজনীতি: যুদ্ধের আড়ালে মানুষের আসল প্রয়োজন

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর: স্মরণে শ্রদ্ধা, ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সোচ্চার শ্রমিকরা

০৬:৫৯:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

সাভারে রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পূর্তিতে নিহতদের স্মরণে আবারও শোক আর ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে। আহত শ্রমিক, নিহতদের স্বজন এবং শ্রমিক অধিকারকর্মীরা একত্র হয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন এবং একই সঙ্গে ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার দাবিও জোরালোভাবে তুলেছেন। সারাক্ষণ রিপোর্ট

শুক্রবার সকালে দুর্ঘটনাস্থলের অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে এবং প্রার্থনার মাধ্যমে নিহতদের স্মরণ করা হয়। একসময় যেখানে বহুতল ভবনটি দাঁড়িয়ে ছিল, সেই স্থানেই এখন স্মৃতির ভারে নত হয়ে মানুষ দাঁড়ান, হারানোর বেদনা স্মরণ করেন।

প্রতিবাদ মিছিল ও দাবির পুনরাবৃত্তি

শ্রদ্ধা জানানোর আগে শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি প্রতিবাদ মিছিল করেন। মিছিল থেকে তারা ভবন ধসের জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি, আহত শ্রমিকদের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

শ্রমিক নেতারা জানান, এত বছর পেরিয়ে গেলেও বিচারপ্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি, যা ভুক্তভোগীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। অনেক আহত শ্রমিক এখনো চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে তারা উল্লেখ করেন।

ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ

শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে যেসব শ্রমিক এখনো শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

শ্রমিক নেতারা আরও বলেন, এই ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভুক্তভোগীদের অনেক দাবি অপূর্ণ রয়ে গেছে। তাদের মতে, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

বিভিন্ন সংগঠনের অংশগ্রহণ

৪ দফা দাবিতে মিছিল, শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী

স্মরণ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন অংশ নেয়। তাদের সঙ্গে ছিলেন নিহতদের পরিবার ও স্বজনরা। সবার কণ্ঠেই ছিল একটাই দাবি—ন্যায়বিচার এবং সম্মানজনক পুনর্বাসন।

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের বাসস্ট্যান্ডের কাছে রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ে। এ ঘটনায় প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৮ জন এবং আহত হন আরও হাজার হাজার শ্রমিক। এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত।

এই ঘটনার ১৩ বছর পরও বিচার ও ক্ষতিপূরণের প্রশ্নে অনিশ্চয়তা থেকেই গেছে, যা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য এক দীর্ঘস্থায়ী বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রানা প্লাজার স্মৃতি আজও দেশের শ্রমিক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক, যেখানে ন্যায়বিচারের দাবি এখনো অমীমাংসিত।