জাতিসংঘের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ফোরামে বাংলাদেশ আবারও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর আর্থিক সংকটের বাস্তবতা। একই সঙ্গে টেকসইভাবে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে সরকার।
বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের আহ্বান
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত উন্নয়ন অর্থায়ন ফোরামের সাধারণ আলোচনায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো অনেক ক্ষেত্রেই উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কার্যকর আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে যে অর্থায়নের ঘাটতি দিন দিন বাড়ছে, তা পূরণে এখনই সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ দরকার।

সংকুচিত হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশের নীতিগত পরিসর
বাংলাদেশের প্রতিনিধি বলেন, বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক সংঘাত, সরকারি উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়া, জলবায়ুজনিত ধাক্কা, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা এবং জ্বালানি অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়াকে আরও টেকসই করতে প্রস্তুতির সময়সীমা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অগ্রগতি
আলোচনায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়। বলা হয়, সরকার বর্তমানে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, ব্যবসায় আস্থা পুনর্গঠন, ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করা এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সরাসরি সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঋণ ব্যয় কমানো ও বিনিয়োগে জোর
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ঋণের খরচ কমানো জরুরি। একই সঙ্গে অকার্যকর অবকাঠামো প্রকল্পে ঋণ গ্রহণ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়। বিদেশি বিনিয়োগ যেন উৎপাদনশীল খাতে আসে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর নিশ্চিত করে—এ বিষয়েও জোর দেওয়া হয়।
এছাড়া জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, ক্ষতি ও ক্ষতিপূরণ ইস্যুতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং পাচার হওয়া সম্পদ যথাযথ মালিকের কাছে ফেরত দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
ন্যায্য বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই ধরনের সম্মিলিত উদ্যোগই উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ভবিষ্যতের পথকে সহজ করবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















