রাজধানীর বাজারে একদিকে মুরগির দাম কমে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও অন্যদিকে ডিম, চিনি ও পেঁয়াজের দাম বাড়ায় ভোগান্তি কাটেনি ক্রেতাদের। সাম্প্রতিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে এই উল্টো স্রোত সাধারণ মানুষের বাজেটে নতুন চাপ তৈরি করছে।
মুরগির দামে স্বস্তির ইঙ্গিত
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সোনালি মুরগির দাম কমে এসেছে। কেজিপ্রতি এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায়, যা মাসের শুরুতে ছিল ৪৩০ থেকে ৪৬০ টাকা। তবে মার্চের শুরুর তুলনায় এখনও দাম বেশি রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, খামারে রোগে মৃত্যুহার কমে যাওয়ায় সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে, ফলে দামও কমেছে।
ব্রয়লার মুরগির দামও কমে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় নেমেছে, যা আগে ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকা। দেশি মুরগির দামও কিছুটা কমে এখন ৭০০ থেকে ৭২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দাম কমলেও পুরো স্বস্তি নেই
ব্যবসায়ীদের মতে, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় মুরগির দাম আরও কমানো সম্ভব হচ্ছে না। ট্রাকভাড়া বাড়ায় খামার থেকে কম দামে পণ্য এলেও খুচরা বাজারে সেই সুবিধা পুরোপুরি পৌঁছাচ্ছে না।
ডিম-চিনি-পেঁয়াজে বাড়তি চাপ
মুরগির দামে স্বস্তি এলেও ডিম, চিনি ও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। ডজনপ্রতি ডিম এখন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০ টাকার মতো। খোলা চিনি কেজিপ্রতি বেড়ে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় উঠেছে। পেঁয়াজের দামও কেজিতে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় পৌঁছেছে।
গরুর মাংসের দাম স্থির, কমার লক্ষণ নেই
ঈদের পর বাড়া গরুর মাংসের দাম এখনও কমেনি। কেজিপ্রতি ৮২০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই দামে কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই।
ইলিশের দামে বিভ্রান্তি
পহেলা বৈশাখের পর ইলিশের দাম কিছুটা কমেছে বলে বিক্রেতারা দাবি করলেও ক্রেতাদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। মাঝারি আকারের ইলিশ এখনও ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর বড় ইলিশের দাম ২,৫০০ টাকার ওপরে।
ভোজ্যতেলের সংকট অব্যাহত
বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়নি। বাজারে পাঁচ লিটারের বোতল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে বেশি দামে খোলা তেল কিনছেন। ক্রেতারা বাজারে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
বাজারে এই মিশ্র পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, কিছু পণ্যে স্বস্তি এলেও সামগ্রিকভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামে চাপ এখনো কমেনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















