০৬:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
রাশিয়ায় ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ কঠোর, জনরোষ বাড়ছে রাজশাহীর কলেজে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা, তদন্ত ও বিচার দাবিতে সরব জামায়াত গোপন তথ্য দিয়ে পলিমার্কেটে বাজি ধরলেন মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সদস্য, গ্রেপ্তার মুরগির দামে স্বস্তি, কিন্তু ডিম-চিনি-পেঁয়াজে চাপ: বাজারে মিশ্র চিত্র লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় সাংবাদিক নিহত, ইরান-মার্কিন আলোচনায় অচলাবস্থা গাইবান্ধায় রহস্যজনক মৃত্যু: অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে ঘিরে প্রশ্নের ঝড় হরমুজে মাইন পাতা ইরানি নৌকা দেখলেই গুলি করার নির্দেশ ট্রাম্পের কৌতূহলের সীমানা ভেঙে ঢাবিতে আন্তর্জাতিক কুইজ উৎসব, ২-৪ মে বসছে জ্ঞানের আসর গাজায় নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৭২ হাজার ৫০০ সার্ক কি আদৌ কার্যকর করা সম্ভব

রেকর্ড ভোটে উত্তাল বাংলা, কিন্তু ভোটার কমেছে ১২%—এসআইআরের ছায়ায় নতুন সমীকরণ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণে নজিরবিহীন উপস্থিতি দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার এই দফায় ভোটদানের হার ৯২ শতাংশেরও বেশি, যা ২০২১ সালের তুলনায় ১০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি। তবে এই রেকর্ড শতাংশের আড়ালে রয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন—মোট ভোটারের সংখ্যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

ভোটের হার বাড়লেও কমেছে মোট ভোটার

নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এবার এই ১৫২টি আসনে প্রায় ৪৭ লক্ষ কম মানুষ ভোট দিয়েছেন ২০২১ সালের তুলনায়। অর্থাৎ শতাংশের দিক থেকে রেকর্ড হলেও বাস্তবে ভোটার উপস্থিতি কমেছে প্রায় ১২ শতাংশ। এর বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর, যার ফলে ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে।

Bengal polls: 20 days to go for phase 1, chaos continues over missing names  after SIR

এসআইআর প্রক্রিয়ায় বড় কাটছাঁট

গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় মোট ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা কমেছে ১১.৬৩ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের মতে, মৃত, স্থান পরিবর্তনকারী, একাধিক জায়গায় নিবন্ধিত বা যাচাইকালে অনুপস্থিত ব্যক্তিদের নামই মূলত বাদ দেওয়া হয়েছে। খসড়া পর্যায়ে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়ে, পরে নোটিস ও আপিল পর্যায়ে আরও ৩২ লক্ষ নাম মুছে ফেলা হয়।

রাজনৈতিক তর্কে এসআইআর

এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকেই এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছেন এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে এই ইস্যু বড় হয়ে ওঠে। তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে বিজেপি দাবি করে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নামই সরানো হয়েছে।

ভোটে উচ্ছ্বাস, ব্যাখ্যায় বিভাজন

ভোটগ্রহণ শেষে উভয় দলই এই উচ্চ ভোটদানের হারকে নিজেদের পক্ষে ব্যাখ্যা করেছে। তৃণমূলের মতে, মানুষ তাদের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য ব্যাপকভাবে ভোট দিয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে, এই ফলাফল তাদের জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Decoding the Bengal turnout surge: SIR effect, dip in absolute numbers |  Political Pulse News - The Indian Express

মুর্শিদাবাদে ভোটারদের সংগ্রাম

এসআইআরের কারণে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। এখানকার এক পরিযায়ী শ্রমিক রোশন আলি জানান, চেন্নাই থেকে ভোট দিতে ফিরতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ট্রেনে জায়গা না থাকলেও তাকে ফিরতে হয়েছে, কারণ ভোটার তালিকায় নাম থাকা তার জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে কাজ করতে গেলে ভোটার পরিচয়পত্রই প্রথম যাচাই করা হয়—এই কারণেই ভোট দিতে আসা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

বিশেষ ব্যবস্থা ও বিতর্ক

পশ্চিমবঙ্গে এই প্রক্রিয়ায় কিছু বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যেমন মাইক্রো পর্যবেক্ষক, বিচারিক কর্মকর্তা ও আপিল ট্রাইব্যুনাল নিয়োগ। যাঁরা নথি জমা দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যেও প্রায় ২৭.১০ লক্ষের নাম বাদ পড়ে। পরে আপিলের জন্য ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলেও খুব অল্প সংখ্যক নামই পুনর্বহাল হয়েছে।

সার্বিকভাবে, রেকর্ড ভোটদানের উচ্ছ্বাসের মধ্যেও ভোটার তালিকার এই বড় পরিবর্তন নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়ায় ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ কঠোর, জনরোষ বাড়ছে

রেকর্ড ভোটে উত্তাল বাংলা, কিন্তু ভোটার কমেছে ১২%—এসআইআরের ছায়ায় নতুন সমীকরণ

০৪:২১:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণে নজিরবিহীন উপস্থিতি দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার এই দফায় ভোটদানের হার ৯২ শতাংশেরও বেশি, যা ২০২১ সালের তুলনায় ১০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি। তবে এই রেকর্ড শতাংশের আড়ালে রয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন—মোট ভোটারের সংখ্যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

ভোটের হার বাড়লেও কমেছে মোট ভোটার

নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এবার এই ১৫২টি আসনে প্রায় ৪৭ লক্ষ কম মানুষ ভোট দিয়েছেন ২০২১ সালের তুলনায়। অর্থাৎ শতাংশের দিক থেকে রেকর্ড হলেও বাস্তবে ভোটার উপস্থিতি কমেছে প্রায় ১২ শতাংশ। এর বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর, যার ফলে ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে।

Bengal polls: 20 days to go for phase 1, chaos continues over missing names  after SIR

এসআইআর প্রক্রিয়ায় বড় কাটছাঁট

গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় মোট ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা কমেছে ১১.৬৩ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের মতে, মৃত, স্থান পরিবর্তনকারী, একাধিক জায়গায় নিবন্ধিত বা যাচাইকালে অনুপস্থিত ব্যক্তিদের নামই মূলত বাদ দেওয়া হয়েছে। খসড়া পর্যায়ে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়ে, পরে নোটিস ও আপিল পর্যায়ে আরও ৩২ লক্ষ নাম মুছে ফেলা হয়।

রাজনৈতিক তর্কে এসআইআর

এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকেই এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছেন এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে এই ইস্যু বড় হয়ে ওঠে। তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে বিজেপি দাবি করে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নামই সরানো হয়েছে।

ভোটে উচ্ছ্বাস, ব্যাখ্যায় বিভাজন

ভোটগ্রহণ শেষে উভয় দলই এই উচ্চ ভোটদানের হারকে নিজেদের পক্ষে ব্যাখ্যা করেছে। তৃণমূলের মতে, মানুষ তাদের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য ব্যাপকভাবে ভোট দিয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে, এই ফলাফল তাদের জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Decoding the Bengal turnout surge: SIR effect, dip in absolute numbers |  Political Pulse News - The Indian Express

মুর্শিদাবাদে ভোটারদের সংগ্রাম

এসআইআরের কারণে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। এখানকার এক পরিযায়ী শ্রমিক রোশন আলি জানান, চেন্নাই থেকে ভোট দিতে ফিরতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ট্রেনে জায়গা না থাকলেও তাকে ফিরতে হয়েছে, কারণ ভোটার তালিকায় নাম থাকা তার জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে কাজ করতে গেলে ভোটার পরিচয়পত্রই প্রথম যাচাই করা হয়—এই কারণেই ভোট দিতে আসা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

বিশেষ ব্যবস্থা ও বিতর্ক

পশ্চিমবঙ্গে এই প্রক্রিয়ায় কিছু বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যেমন মাইক্রো পর্যবেক্ষক, বিচারিক কর্মকর্তা ও আপিল ট্রাইব্যুনাল নিয়োগ। যাঁরা নথি জমা দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যেও প্রায় ২৭.১০ লক্ষের নাম বাদ পড়ে। পরে আপিলের জন্য ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলেও খুব অল্প সংখ্যক নামই পুনর্বহাল হয়েছে।

সার্বিকভাবে, রেকর্ড ভোটদানের উচ্ছ্বাসের মধ্যেও ভোটার তালিকার এই বড় পরিবর্তন নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।