১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
শিক্ষকদের আত্মত্যাগে নয়, ন্যায্য মর্যাদায় গড়ে ওঠে শিক্ষাব্যবস্থা প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকলেও দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা: এএফপিকে জানালেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব অর্থনীতির নতুন বিপদ: বাণিজ্য নয়, ভারসাম্যহীনতার গভীর সংকট ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ৫০; হাসপাতালে ভর্তি ১৪,৬৯০ আসামে বন্যায় মৃত বেড়ে ৭৫, ক্ষতিগ্রস্ত ১১ লাখের বেশি মানুষ একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা এখন জরুরি প্রয়োজনে তুলতে পারবেন ১০ লাখ টাকা নেপালে বাঘের সংখ্যা বেড়ে ৪২৯, ২০১০ সালের তুলনায় প্রায় চার গুণ কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ: মিরাজ শেখকে উদ্ধারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাইল আসক ক্ষমতার অসুখ: নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় বিপদ অহংকার নয়, জবাবদিহির অভাব ফরচুন গ্লোবাল ৫০০: আয় ধরে রাখলেও মুনাফায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক পিছিয়ে চীনা কোম্পানিগুলো

চীনবিরোধী বিক্ষোভে কারাদণ্ড: কাজাখস্তানে ১১ জনের সাজা, মধ্য এশিয়ায় চীনের প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্ক

চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে ভিন্নমত প্রকাশ কতটা কঠিন—তার নতুন উদাহরণ তৈরি হয়েছে কাজাখস্তানে। দেশটির একটি আদালত শান্তিপূর্ণ চীনবিরোধী বিক্ষোভের ঘটনায় ১১ জনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। একই ঘটনায় আরও আটজনকে কারাবিহীন শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

রায়ের পেছনের অভিযোগ

আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্তরা চীনা জনগণের বিরুদ্ধে জাতিগত বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার দায়ে দোষী। তবে অভিযুক্তদের দাবি, তাদের আন্দোলন ছিল রাজনৈতিক এবং তা ছিল চীনের নেতৃত্ব ও নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। গত বছরের নভেম্বরে চীন-কাজাখস্তান সীমান্তের কাছে তারা এই বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভের কারণ

এই বিক্ষোভের মূল দাবি ছিল চীনে আটক আলিমনুর তুরগানবায় নামের এক কাজাখ নাগরিকের মুক্তি। তিনি চীনে সফরের সময় আটক হন। তার স্ত্রী গুলদারিয়া শেরিজাতও এই বিক্ষোভে অংশ নিয়ে এখন কারাদণ্ড পেয়েছেন।

At U.N., China Defends Mass Detention of Uighur Muslims - The New York Times

বিক্ষোভকারীরা চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলে মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ, সেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে এবং অনেককে পুনঃশিক্ষা শিবিরে আটকে রাখা হচ্ছে। যদিও চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

বিক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া

বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন চীন, কমিউনিস্ট পার্টি এবং দেশটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। তারা চীনের পতাকা ও নেতার প্রতিকৃতি পুড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই ঘটনার পর চীন কাজাখস্তান সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়।

নাগিজ আতাজুর্তের ভূমিকা

এই বিক্ষোভে নাগিজ আতাজুর্ত নামের একটি মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীদের অংশগ্রহণ নিয়ে চীন বিশেষভাবে আপত্তি তোলে। এই সংগঠনটি শিনজিয়াং অঞ্চলের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করে এবং দীর্ঘদিন ধরেই চীনের সমালোচনার মুখে রয়েছে। সংগঠনটির সহ-নেতা বেকজাত মাকসুতকানকেও এই মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

Criminalising Peaceful Protest: Kazakhstan's Case Against Atajurt Activists  - IPHR

মধ্য এশিয়ায় চীনের প্রভাব

এই বিচার প্রক্রিয়া নতুন করে সামনে এনেছে মধ্য এশিয়ায় চীনের প্রভাবের বিষয়টি। অঞ্চলটির দেশগুলো চীনের বড় বাণিজ্য অংশীদার, বিনিয়োগকারী ও ঋণদাতা হিসেবে নির্ভরশীল। ফলে শিনজিয়াং ইস্যুতে চীনের অবস্থানের বিরোধিতা করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

রাজনৈতিক বাস্তবতা

কাজাখস্তানের নেতৃত্ব চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী বলেই মনে করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ অস্বীকার করে সরকার বরং চীনের অবস্থানের প্রতি সহমর্মিতা দেখাচ্ছে। এর ফলে দেশটির অভ্যন্তরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

এই ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তবতায় অর্থনৈতিক নির্ভরতা অনেক সময় নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বড় প্রভাব ফেলে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকদের আত্মত্যাগে নয়, ন্যায্য মর্যাদায় গড়ে ওঠে শিক্ষাব্যবস্থা

চীনবিরোধী বিক্ষোভে কারাদণ্ড: কাজাখস্তানে ১১ জনের সাজা, মধ্য এশিয়ায় চীনের প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্ক

০২:৫৫:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে ভিন্নমত প্রকাশ কতটা কঠিন—তার নতুন উদাহরণ তৈরি হয়েছে কাজাখস্তানে। দেশটির একটি আদালত শান্তিপূর্ণ চীনবিরোধী বিক্ষোভের ঘটনায় ১১ জনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। একই ঘটনায় আরও আটজনকে কারাবিহীন শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

রায়ের পেছনের অভিযোগ

আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্তরা চীনা জনগণের বিরুদ্ধে জাতিগত বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার দায়ে দোষী। তবে অভিযুক্তদের দাবি, তাদের আন্দোলন ছিল রাজনৈতিক এবং তা ছিল চীনের নেতৃত্ব ও নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। গত বছরের নভেম্বরে চীন-কাজাখস্তান সীমান্তের কাছে তারা এই বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভের কারণ

এই বিক্ষোভের মূল দাবি ছিল চীনে আটক আলিমনুর তুরগানবায় নামের এক কাজাখ নাগরিকের মুক্তি। তিনি চীনে সফরের সময় আটক হন। তার স্ত্রী গুলদারিয়া শেরিজাতও এই বিক্ষোভে অংশ নিয়ে এখন কারাদণ্ড পেয়েছেন।

At U.N., China Defends Mass Detention of Uighur Muslims - The New York Times

বিক্ষোভকারীরা চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলে মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ, সেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে এবং অনেককে পুনঃশিক্ষা শিবিরে আটকে রাখা হচ্ছে। যদিও চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

বিক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া

বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন চীন, কমিউনিস্ট পার্টি এবং দেশটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। তারা চীনের পতাকা ও নেতার প্রতিকৃতি পুড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই ঘটনার পর চীন কাজাখস্তান সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়।

নাগিজ আতাজুর্তের ভূমিকা

এই বিক্ষোভে নাগিজ আতাজুর্ত নামের একটি মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীদের অংশগ্রহণ নিয়ে চীন বিশেষভাবে আপত্তি তোলে। এই সংগঠনটি শিনজিয়াং অঞ্চলের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করে এবং দীর্ঘদিন ধরেই চীনের সমালোচনার মুখে রয়েছে। সংগঠনটির সহ-নেতা বেকজাত মাকসুতকানকেও এই মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

Criminalising Peaceful Protest: Kazakhstan's Case Against Atajurt Activists  - IPHR

মধ্য এশিয়ায় চীনের প্রভাব

এই বিচার প্রক্রিয়া নতুন করে সামনে এনেছে মধ্য এশিয়ায় চীনের প্রভাবের বিষয়টি। অঞ্চলটির দেশগুলো চীনের বড় বাণিজ্য অংশীদার, বিনিয়োগকারী ও ঋণদাতা হিসেবে নির্ভরশীল। ফলে শিনজিয়াং ইস্যুতে চীনের অবস্থানের বিরোধিতা করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

রাজনৈতিক বাস্তবতা

কাজাখস্তানের নেতৃত্ব চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী বলেই মনে করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ অস্বীকার করে সরকার বরং চীনের অবস্থানের প্রতি সহমর্মিতা দেখাচ্ছে। এর ফলে দেশটির অভ্যন্তরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

এই ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তবতায় অর্থনৈতিক নির্ভরতা অনেক সময় নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বড় প্রভাব ফেলে।