দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাব এখন সরাসরি পড়ছে কৃষি খাতে। বিশেষ করে ডিজেলের অপ্রতুলতা ও দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষিযন্ত্রের বাজারে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ধস। মাঠ পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগের বছরের তুলনায় বিক্রি কমে গেছে কয়েকগুণ, যা ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনেও বড় চাপ তৈরি করতে পারে।
কৃষিযন্ত্র বিক্রিতে বড় পতন
নড়াইলের রূপগঞ্জ বাজারের শ্যালো মেশিন বিক্রেতা সুজয় বিশ্বাস জানান, তেল না পেলে শ্যালো মেশিন চলবে কীভাবে—এই প্রশ্নেই এখন ক্রেতারা পিছিয়ে যাচ্ছেন। অন্য বছর এই সময় ১৫ থেকে ২০টি মেশিন বিক্রি হলেও এবার এখনও একটি মেশিনও বিক্রি হয়নি।
মানিকগঞ্জের ওয়ালেজ গেইড এলাকায় আরিফ ট্রেডার্সের মালিক মোস্তফা জামান বলেন, গত বছর যেখানে ভুট্টা মাড়াই মেশিন বিক্রি হয়েছিল প্রায় ৮০টি, সেখানে এ বছর বিক্রি নেমে এসেছে মাত্র ১৫টিতে। এতে ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি কৃষকরাও প্রয়োজনীয় যন্ত্র কিনতে পারছেন না।

৭০ শতাংশ পর্যন্ত বিক্রি কমে যাওয়ার আশঙ্কা
শরীয়তপুরের এক ব্যবসায়ী নুরে আলম জানান, কৃষি খাতে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্যের বিক্রি প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এতে পুরো কৃষি ব্যবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষকরা উৎপাদন ব্যয় কমাতে নতুন যন্ত্র কেনা থেকে বিরত থাকছেন, ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে পড়ছে।
বিকল্প প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছেন কৃষক
সিরাজগঞ্জ শহরের ব্যবসায়ী নাঈম আহমেদ বলেন, ডিজেল সংকটের কারণে অনেক কৃষক এখন শ্যালো ইঞ্জিনকে বিদ্যুৎ বা সোলার ব্যবস্থায় রূপান্তর করছেন। তবে এই রূপান্তর করতে প্রাথমিক খরচ বেশি হওয়ায় সবাই তা করতে পারছেন না। ফলে অনেকেই উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন বা জমি অনাবাদি রাখার ঝুঁকিতে পড়ছেন।

জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিযন্ত্রের বিক্রি কমে যাওয়ার অর্থ হলো ভবিষ্যতে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাওয়া। আধুনিক কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে এই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে। এতে খাদ্য সরবরাহে চাপ বাড়তে পারে এবং বাজারে মূল্যস্ফীতিও আরও বাড়তে পারে।
কৃষি খাতের টিকে থাকার লড়াই
বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষক ও ব্যবসায়ী—দুই পক্ষই চাপে রয়েছে। একদিকে জ্বালানির দাম ও সংকট, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষি খাত একটি কঠিন সময় পার করছে। দ্রুত এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















