দেশের রিকন্ডিশন গাড়ির বাজারে হঠাৎ বড় ধস নেমেছে। আমদানিকারক ও ডিলারদের সংগঠন বারভিডা জানিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিক্রি আগের মাসের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে করে খাতটির ব্যবসায়ীরা ক্রমেই চাপের মুখে পড়ছেন।
বিক্রির ধারাবাহিক পতন
বারভিডার তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকেই বিক্রিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চ মাসে বিক্রি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমে যায়। এরপর এপ্রিল মাসে এসে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে, যেখানে বিক্রি নেমে এসেছে প্রায় ৫০ শতাংশে। অর্থাৎ, এক মাসের ব্যবধানে বাজারে বড় ধরনের পতন ঘটেছে।

গত বছরের তুলনাতেও বড় ধাক্কা
শুধু মাসভিত্তিক নয়, বছরভিত্তিক হিসাবেও চিত্রটি উদ্বেগজনক। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছর বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছে বারভিডা। এতে বোঝা যাচ্ছে, বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি ক্রেতাদের আগ্রহও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ বাড়ছে
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ রহমান জানিয়েছেন, বিক্রি এভাবে কমতে থাকলে ব্যবসায়ীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে। যদিও সংগঠনটি এখনো পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি, তবুও বাজারের সামগ্রিক অবস্থা যে ভালো নয়, তা স্পষ্ট।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিক্রির এই নিম্নগতি অব্যাহত থাকলে আমদানিকারক ও ডিলারদের ব্যবসায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। এতে করে সংশ্লিষ্ট খাতের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

বাজারে অনিশ্চয়তা
রিকন্ডিশন গাড়ির বাজারে এই পতন নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর গতি অনেক বেশি বেড়েছে। ক্রেতাদের আগ্রহ কমে যাওয়া এবং বাজারের অনিশ্চয়তা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সামনে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই খাত দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় সংকটে পড়তে পারে। বিশেষ করে ধারাবাহিক বিক্রি কমে গেলে আমদানি কার্যক্রম ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
রিকন্ডিশন গাড়ির বাজারে চলমান এই মন্দা পরিস্থিতি এখন ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সতর্ক সংকেত হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















