দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাব এবার সরাসরি আঘাত হেনেছে মোটরসাইকেল বাজারে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বিক্রি কমেছে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত। গত কয়েক দিনে দেশের অন্তত ২৫টি জেলা ও ৯টি উপজেলা থেকে পাওয়া তথ্য এবং খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
জ্বালানি সংকটেই বাজারে ধস
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া জ্বালানি সংকট বাজারের গতিপথ পাল্টে দিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় মধ্যবিত্ত ক্রেতারা নতুন মোটরসাইকেল কেনার সিদ্ধান্ত স্থগিত করছেন। একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অনেকের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। এমনকি উচ্চবিত্তের একটি অংশও ব্যক্তিগত গাড়ি কেনা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। সব মিলিয়ে বাজারে বিক্রি তলানিতে নেমেছে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি দ্রুত না বদলালে এই খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে সামগ্রিক অর্থনীতিতে।
‘পিক সিজন’ এপ্রিলে বড় ধস
২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) সারাদেশে মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৩টি। গত বছরের একই সময়ে বিক্রি ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪১৫টি। অর্থাৎ এক বছরে বাজার সংকুচিত হয়েছে প্রায় ৯ শতাংশ।

এর আগে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বাজারে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি থাকলেও ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা যায়। তবে ২০২৬ সালের শুরুতেই সেই ধারায় ভাটা পড়েছে।
একক মাস হিসেবে সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে এপ্রিলে, যা সাধারণত বিক্রির ‘পিক সিজন’ হিসেবে পরিচিত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিক্রি ছিল ৩৪ হাজার ৪৭৫টি, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭ হাজার ৬৬০টি এবং মার্চে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫১ হাজার ৯৫৮টিতে। কিন্তু এপ্রিলের ২২ তারিখ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে মাত্র ১০ হাজার মোটরসাইকেল, যেখানে গত বছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৩১ হাজার ৫১৮টি।
গ্রামাঞ্চলে সংকট বেশি, শহরে তুলনামূলক কম
ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে গ্রামাঞ্চলে। শহরে তুলনামূলকভাবে সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও গ্রামে সংকট তীব্র হওয়ায় ক্রেতারা নতুন বাইক কেনা থেকে বিরত থাকছেন। ফলে গ্রামীণ বাজারে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

একই সঙ্গে দেখা যাচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। জ্বালানিনির্ভরতার বাইরে বিকল্প হিসেবে কিছু ক্রেতা এই দিকে ঝুঁকছেন।
বিক্রির ধাক্কায় চাপে ব্যবসা
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বিক্রি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ায় শোরুম পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকা নিয়েই সংকটে পড়বে। তাই দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বিকল্প আমদানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জ্বালানি সংকটের এই প্রভাব কেবল একটি খাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে—এমন আশঙ্কাই এখন বাড়ছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















