০৩:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
চীনের রপ্তানি বুম থামছে না, নতুন বাজারে বিস্তারেই বাড়ছে উদ্বৃত্ত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে চীনা স্যাটেলাইটের প্রভাব, নতুন শক্তির ভারসাম্যে বদল চীনবিরোধী বিক্ষোভে কারাদণ্ড: কাজাখস্তানে ১১ জনের সাজা, মধ্য এশিয়ায় চীনের প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্ক ভারতের শহরে হর্নের দাপট: শব্দদূষণে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অর্থনীতির ক্ষতি বাড়ছে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে হস্তক্ষেপের শঙ্কা: ট্রাম্প ঘিরে নতুন উদ্বেগ পাকিস্তানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে সেনাপ্রধান আসিম মুনির জ্বালানি সংকটে কৃষিযন্ত্রের বাজারে ধস, বিক্রি কমে ৭০ শতাংশ—চাপে পড়ছে কৃষি উৎপাদন রিকন্ডিশন গাড়ির বাজারে ধস, এক মাসে বিক্রি অর্ধেকে নেমেছে জ্বালানি সংকটে ধস মোটরসাইকেল বাজারে, গ্রামে বিক্রি কমেছে ৭০-৮০ শতাংশ বাংলাদেশে হাম ঝুঁকি এখনও উচ্চ, জরুরি টিকাদান জোরদারের তাগিদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

বাংলাদেশে হাম ঝুঁকি এখনও উচ্চ, জরুরি টিকাদান জোরদারের তাগিদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

বাংলাদেশে চলমান হাম প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, নজরদারি জোরদার, দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা এবং টিকাদানের পরিধি বাড়ানো না হলে সংক্রমণ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সংস্থাটি জোর দিয়ে বলছে, দেশের সব পৌর এলাকায় হাম প্রতিরোধী টিকার দুই ডোজের আওতা কমপক্ষে ৯৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে সন্দেহজনক সংক্রমণ দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

সীমান্ত এলাকায় বাড়তি সতর্কতা

বিশেষ করে জনসমাগম বেশি এমন সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। এসব এলাকায় দ্রুত সংক্রমণ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল মোতায়েন এবং জাতীয় প্রোটোকল সক্রিয় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে বিদেশ থেকে আসা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে না পারে।

টিকার অভাবে বাংলাদেশ এখন হামের উচ্চ ঝুঁকিতে'

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় কড়াকড়ি

প্রাদুর্ভাবের সময় হাসপাতালগুলোতে কঠোর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আক্রান্ত রোগীদের আলাদা রাখা এবং অন্যদের সঙ্গে সংস্পর্শ কমিয়ে আনা জরুরি, যাতে হাসপাতালভিত্তিক সংক্রমণ না ছড়ায়।

ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর প্রতি অগ্রাধিকার

টিকাদান কার্যক্রমে স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবহন ও পর্যটন খাতের কর্মী এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত অঞ্চলের অভিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালুর সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো যায়।

সংস্থাটি আরও বলছে, পর্যাপ্ত টিকার মজুত রাখা এবং বাস্তুচ্যুত ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভ্রমণ বা বাণিজ্যে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়েছে তারা।

উচ্চ ঝুঁকির কারণ ও বাস্তবতা

বাংলাদেশে হামের পরিস্থিতি 'উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ': বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বাংলাদেশে হাম সংক্রমণের ঝুঁকি এখনও উচ্চ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে চলমান সংক্রমণ, বিপুলসংখ্যক ঝুঁকিপূর্ণ শিশু, টিকাদানে ঘাটতি এবং হাম-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর আশঙ্কা। অধিকাংশ আক্রান্ত শিশু হয় টিকা নেয়নি, নয়তো আংশিক টিকা পেয়েছে। এমনকি টিকা নেওয়ার উপযুক্ত বয়স না হওয়া শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

এক থেকে চৌদ্দ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যেই প্রায় ৯১ শতাংশ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যা দেশের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট করছে। অতীতে বাংলাদেশ হাম নির্মূলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও সাম্প্রতিক সময়ে টিকার ঘাটতি, নিয়মিত টিকাদানে ব্যত্যয় এবং ২০২০ সালের পর বড় পরিসরে কর্মসূচি না হওয়ায় ঝুঁকি বেড়েছে।

সীমান্ত পারাপার বাড়াচ্ছে শঙ্কা

হাম কি শুধু শিশুদের রোগ? বড়দের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কতটুকু

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলেও হাম সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমারে টিকাদান চ্যালেঞ্জ এবং সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ঝুঁকি আরও বেড়েছে। বিশেষ করে যশোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মতো এলাকাগুলো বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারের মতো বড় নগরকেন্দ্রেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাপটে হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ এবং শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। জনসংখ্যার চলাচল বেশি হওয়া এবং বিশ্বজুড়ে সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় বৈশ্বিক ঝুঁকি মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ কারণে দীর্ঘমেয়াদে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

 

 

চীনের রপ্তানি বুম থামছে না, নতুন বাজারে বিস্তারেই বাড়ছে উদ্বৃত্ত

বাংলাদেশে হাম ঝুঁকি এখনও উচ্চ, জরুরি টিকাদান জোরদারের তাগিদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

০১:১৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশে চলমান হাম প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, নজরদারি জোরদার, দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা এবং টিকাদানের পরিধি বাড়ানো না হলে সংক্রমণ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সংস্থাটি জোর দিয়ে বলছে, দেশের সব পৌর এলাকায় হাম প্রতিরোধী টিকার দুই ডোজের আওতা কমপক্ষে ৯৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে সন্দেহজনক সংক্রমণ দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

সীমান্ত এলাকায় বাড়তি সতর্কতা

বিশেষ করে জনসমাগম বেশি এমন সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। এসব এলাকায় দ্রুত সংক্রমণ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল মোতায়েন এবং জাতীয় প্রোটোকল সক্রিয় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে বিদেশ থেকে আসা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে না পারে।

টিকার অভাবে বাংলাদেশ এখন হামের উচ্চ ঝুঁকিতে'

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় কড়াকড়ি

প্রাদুর্ভাবের সময় হাসপাতালগুলোতে কঠোর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আক্রান্ত রোগীদের আলাদা রাখা এবং অন্যদের সঙ্গে সংস্পর্শ কমিয়ে আনা জরুরি, যাতে হাসপাতালভিত্তিক সংক্রমণ না ছড়ায়।

ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর প্রতি অগ্রাধিকার

টিকাদান কার্যক্রমে স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবহন ও পর্যটন খাতের কর্মী এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত অঞ্চলের অভিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালুর সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো যায়।

সংস্থাটি আরও বলছে, পর্যাপ্ত টিকার মজুত রাখা এবং বাস্তুচ্যুত ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভ্রমণ বা বাণিজ্যে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়েছে তারা।

উচ্চ ঝুঁকির কারণ ও বাস্তবতা

বাংলাদেশে হামের পরিস্থিতি 'উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ': বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বাংলাদেশে হাম সংক্রমণের ঝুঁকি এখনও উচ্চ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে চলমান সংক্রমণ, বিপুলসংখ্যক ঝুঁকিপূর্ণ শিশু, টিকাদানে ঘাটতি এবং হাম-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর আশঙ্কা। অধিকাংশ আক্রান্ত শিশু হয় টিকা নেয়নি, নয়তো আংশিক টিকা পেয়েছে। এমনকি টিকা নেওয়ার উপযুক্ত বয়স না হওয়া শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

এক থেকে চৌদ্দ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যেই প্রায় ৯১ শতাংশ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যা দেশের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট করছে। অতীতে বাংলাদেশ হাম নির্মূলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও সাম্প্রতিক সময়ে টিকার ঘাটতি, নিয়মিত টিকাদানে ব্যত্যয় এবং ২০২০ সালের পর বড় পরিসরে কর্মসূচি না হওয়ায় ঝুঁকি বেড়েছে।

সীমান্ত পারাপার বাড়াচ্ছে শঙ্কা

হাম কি শুধু শিশুদের রোগ? বড়দের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কতটুকু

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলেও হাম সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমারে টিকাদান চ্যালেঞ্জ এবং সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ঝুঁকি আরও বেড়েছে। বিশেষ করে যশোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মতো এলাকাগুলো বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারের মতো বড় নগরকেন্দ্রেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাপটে হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ এবং শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। জনসংখ্যার চলাচল বেশি হওয়া এবং বিশ্বজুড়ে সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় বৈশ্বিক ঝুঁকি মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ কারণে দীর্ঘমেয়াদে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।