০৮:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
নেপালে বাঘের সংখ্যা বেড়ে ৪২৯, ২০১০ সালের তুলনায় প্রায় চার গুণ কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ: মিরাজ শেখকে উদ্ধারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাইল আসক ক্ষমতার অসুখ: নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় বিপদ অহংকার নয়, জবাবদিহির অভাব ফরচুন গ্লোবাল ৫০০: আয় ধরে রাখলেও মুনাফায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক পিছিয়ে চীনা কোম্পানিগুলো চীনের নতুন রহস্যময় পারমাণবিক সাবমেরিন ঘিরে উদ্বেগ, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তি বাড়ানোর ইঙ্গিত বাংলাদেশে হামের মৃত্যু বেড়ে ৮৩১, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর প্রাণহানি শিক্ষককে বাদ দিয়ে নয়, প্রযুক্তিকে পাশে নিয়েই শিক্ষা সংস্কার রেড সিতে জাহাজ চলাচলে নতুন ফি আরোপের চিন্তা হুথিদের, বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি যৌথ হামলায় নতুন মোড়, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের উত্তাপ চীনের কাছ থেকে ৪০০ কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে ইরান, যুদ্ধের মাঝেই ৭০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ভেঙে ইরানের তেল রপ্তানি অব্যাহত, বাজারে চাপ কমার ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মধ্যেও ইরান তার তেল রপ্তানি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য সরবরাহ সংকটের আশঙ্কাকে আপাতত কিছুটা প্রশমিত করেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটি কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল লোড ও পরিবহন করতে সক্ষম হয়েছে, যা অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে।

অবরোধের মধ্যেও তেল প্রবাহ অব্যাহত
তেলবাহী জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, ইরান তার রপ্তানি টার্মিনালগুলোতে অন্তত ৪.৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল লোড করেছে। এর পাশাপাশি প্রায় ৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল অবরোধ অতিক্রম করে গন্তব্যের পথে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিমাণ তেলের আর্থিক মূল্য প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার।

ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর উত্তরের তীর ঘেঁষে অবস্থান, তাকে অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। এই প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত।

বাজারে আশঙ্কা কমছে
প্রথমদিকে ধারণা করা হচ্ছিল, অবরোধের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে। তবে সাম্প্রতিক তথ্য সেই আশঙ্কা কিছুটা কমিয়েছে। বাজারে এখন ধারণা করা হচ্ছে, সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না, বরং আংশিকভাবে চলমান রয়েছে।

তেলদরের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনাও কমে এসেছে। সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

bne IntelliNews - Iran Kharg Island oil exports continue at 1.4mn bpd, as US  set to unfreeze sanctions on oil tankers

কূটনৈতিক তৎপরতা ও প্রস্তাব
এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালীতে চলাচল সহজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তবে তার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। এই প্রস্তাবটি মধ্যস্থতার মাধ্যমে পৌঁছানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পারমাণবিক ইস্যু এতে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এটি গ্রহণ করা কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে
এই পরিস্থিতিতে অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিও বেড়েছে। বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানালেও বাস্তবে উত্তেজনা প্রশমনের কোনো সুস্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। ইরান ইতোমধ্যে সতর্ক করে দিয়েছে, তাদের তেল অবকাঠামোর ওপর হামলা হলে তা বড় ধরনের প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে।

একই সঙ্গে দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ছে। দীর্ঘদিনের ইন্টারনেট সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিদিন কয়েক কোটি ডলারের ক্ষতি হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে, যা অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাজারে বার্তা কী
বিশ্লেষকদের মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরান আংশিকভাবে হলেও তেল রপ্তানি চালিয়ে যেতে পারছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তেলের দামে হঠাৎ বড় ধরনের উল্লম্ফনের সম্ভাবনা কম থাকবে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে যদি সরাসরি সংঘর্ষ, অবকাঠামোতে হামলা বা হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, অবরোধ কার্যকর হলেও তা পুরোপুরি সফল নয়। আর সেই ফাঁকটিই এখন বৈশ্বিক তেল বাজারে স্থিতিশীলতার একটি সাময়িক ভিত্তি তৈরি করেছে।

তেল অবরোধেও ইরানের রপ্তানি

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ সত্ত্বেও ইরানের তেল রপ্তানি অব্যাহত থাকায় বাজারে বড় সংকটের আশঙ্কা আপাতত কমেছে

জনপ্রিয় সংবাদ

নেপালে বাঘের সংখ্যা বেড়ে ৪২৯, ২০১০ সালের তুলনায় প্রায় চার গুণ

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ভেঙে ইরানের তেল রপ্তানি অব্যাহত, বাজারে চাপ কমার ইঙ্গিত

০৭:০৬:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মধ্যেও ইরান তার তেল রপ্তানি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য সরবরাহ সংকটের আশঙ্কাকে আপাতত কিছুটা প্রশমিত করেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটি কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল লোড ও পরিবহন করতে সক্ষম হয়েছে, যা অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে।

অবরোধের মধ্যেও তেল প্রবাহ অব্যাহত
তেলবাহী জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, ইরান তার রপ্তানি টার্মিনালগুলোতে অন্তত ৪.৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল লোড করেছে। এর পাশাপাশি প্রায় ৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল অবরোধ অতিক্রম করে গন্তব্যের পথে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিমাণ তেলের আর্থিক মূল্য প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার।

ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর উত্তরের তীর ঘেঁষে অবস্থান, তাকে অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। এই প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত।

বাজারে আশঙ্কা কমছে
প্রথমদিকে ধারণা করা হচ্ছিল, অবরোধের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে। তবে সাম্প্রতিক তথ্য সেই আশঙ্কা কিছুটা কমিয়েছে। বাজারে এখন ধারণা করা হচ্ছে, সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না, বরং আংশিকভাবে চলমান রয়েছে।

তেলদরের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনাও কমে এসেছে। সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

bne IntelliNews - Iran Kharg Island oil exports continue at 1.4mn bpd, as US  set to unfreeze sanctions on oil tankers

কূটনৈতিক তৎপরতা ও প্রস্তাব
এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালীতে চলাচল সহজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তবে তার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। এই প্রস্তাবটি মধ্যস্থতার মাধ্যমে পৌঁছানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পারমাণবিক ইস্যু এতে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এটি গ্রহণ করা কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে
এই পরিস্থিতিতে অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিও বেড়েছে। বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানালেও বাস্তবে উত্তেজনা প্রশমনের কোনো সুস্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। ইরান ইতোমধ্যে সতর্ক করে দিয়েছে, তাদের তেল অবকাঠামোর ওপর হামলা হলে তা বড় ধরনের প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে।

একই সঙ্গে দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ছে। দীর্ঘদিনের ইন্টারনেট সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিদিন কয়েক কোটি ডলারের ক্ষতি হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে, যা অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাজারে বার্তা কী
বিশ্লেষকদের মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরান আংশিকভাবে হলেও তেল রপ্তানি চালিয়ে যেতে পারছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তেলের দামে হঠাৎ বড় ধরনের উল্লম্ফনের সম্ভাবনা কম থাকবে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে যদি সরাসরি সংঘর্ষ, অবকাঠামোতে হামলা বা হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, অবরোধ কার্যকর হলেও তা পুরোপুরি সফল নয়। আর সেই ফাঁকটিই এখন বৈশ্বিক তেল বাজারে স্থিতিশীলতার একটি সাময়িক ভিত্তি তৈরি করেছে।

তেল অবরোধেও ইরানের রপ্তানি

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ সত্ত্বেও ইরানের তেল রপ্তানি অব্যাহত থাকায় বাজারে বড় সংকটের আশঙ্কা আপাতত কমেছে