মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকে শুরু হওয়া জ্বালানি সংকটের আঁচ এখন সরাসরি বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে পৌঁছেছে। তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন চাহিদার ধারেকাছেও নেই। সন্ধ্যা ৮টায় সারাদেশে চাহিদা ছিল ১৬,২৩৭ মেগাওয়াট, আর উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৩,৯৮৮ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২,২৪৯ মেগাওয়াটে। গ্রামীণ বিদ্যুৎ বোর্ডের আওতায় মানুষ দিনে পাঁচ থেকে দশ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং সহ্য করছেন।
কোথায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ
নোয়াখালী, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, খুলনা, কুমিল্লার মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। খুলনার বাটিয়াঘাটায় চিংড়িচাষি প্রসাদ রায় বলেন, “একঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলেই চিংড়ি মরে। জেনারেটর চালানো সম্ভব না।” ময়মনসিংহের এক শিক্ষক জানান, এসএসসি পরীক্ষার্থীরা সন্ধ্যার পরই পড়তে পারছেন না। রাজশাহীতে তাপমাত্রা ৩৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার করেছে, তবু বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।
কেন এই সংকট
সরকারের হিসাবে দেশের ১৪৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৭২টি গ্যাস, কয়লা বা ফার্নেস অয়েলের অভাবে পুরোদমে চলতে পারছে না। ভারতের আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিটও বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রামের এসএস পাওয়ার এবং পটুয়াখালীর আরএনপিএল কয়লার অভাবে কম উৎপাদন করছে। রাষ্ট্রীয় মন্ত্রী আনিন্দ ইসলাম অমিত জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে শহরেও লোডশেডিং বাড়ানো হচ্ছে, যাতে গ্রামের কৃষকরা সেচে বিদ্যুৎ পান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















