০১:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
প্রদেশ নয়, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণই পাকিস্তানের প্রকৃত সংস্কার টাইটানিকের শতাধিক নিদর্শন নিলাম বন্ধ করলেন মার্কিন বিচারক আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তন, এলসি ছাড়াই সীমাহীন মূল্যের চুক্তিতে পণ্য আমদানির সুযোগ মহেশখালীর সাগরে নিউজিল্যান্ডের পরিবারের নৌকাডুবি, নিখোঁজ কিশোর চীনের জে-১০ সিই কিনছে বাংলাদেশ ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৯০৭; মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৮ বুধবার বাংলাদেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী, দেশজুড়ে নানা আয়োজন ঢাকা-যশোর রুটে আবার ইউএস-বাংলার ফ্লাইট, ৯ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন দুই ট্রিপ মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড অনুমোদন, মূলধন শক্তিশালী হবে প্রিন্স হ্যারি–মেগানের নতুন ব্রিটেনযাত্রা, পেছনে পড়ে থাকবে আর্চির প্রিয় ‘মুরগির বাড়ি’

ময়মনসিংহে লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত পোলট্রি খামার: হিটস্ট্রোকে মরছে মুরগির বাচ্চা, বাড়ছে লোকসান

দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ না থাকার বাস্তবতায় ময়মনসিংহের পোলট্রি খামারগুলোতে নেমে এসেছে গভীর সংকট। বিদ্যুৎ না থাকায় খামারে প্রয়োজনীয় পরিবেশ বজায় রাখা যাচ্ছে না, ফলে হিটস্ট্রোকে মারা যাচ্ছে ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা। এতে খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

খামারের ভেতরের সংকট
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গোপালনগর গ্রামের খামারি নজরুল ইসলাম জানান, চলতি মাসের ৮ এপ্রিল তিনি ব্রয়লার বাচ্চা এনে পালন শুরু করেন। বর্তমানে বাচ্চার বয়স ১৮ দিন। কিন্তু এই সময়ের মধ্যেই লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক বাচ্চা হিটস্ট্রোকে মারা গেছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে মৃত্যুহার আরও বাড়বে, যা তাকে মারাত্মক লোকসানের দিকে ঠেলে দেবে।

তার মতে, বিদ্যুৎ না থাকলে রাতের অন্ধকারে বাচ্চাগুলো খাবার খেতে চায় না। আবার দিনের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকলে তীব্র গরমে তারা হাঁপাতে থাকে এবং একসময় স্ট্রোক করে মারা যায়। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে খামার খালি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খরচ বাড়ছে, লাভ কমছে
একই এলাকার আরেক খামারি আল আমিন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় খামারে ফ্যান চালানো সম্ভব হয় না। ফলে পর্যাপ্ত বাতাসের অভাবে বাচ্চাগুলো দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ অবস্থায় বাচ্চাগুলোকে বাঁচাতে অতিরিক্ত ওষুধ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তিনি আরও জানান, খরচ বাড়লেও বাজারে বিক্রি করে সেই টাকা ওঠানো যাচ্ছে না। এতে খামারিরা ক্রমেই আর্থিক সংকটে পড়ছেন। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এই ক্ষতি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

টিকে থাকার লড়াই
শহরের খামারি আব্দুস সালাম বলেন, বর্তমানে দিনে-রাতে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। এতে খামার পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার মতে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়া এই খাত টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্য
এদিকে লোডশেডিংয়ের বিষয়ে ময়মনসিংহ বিদ্যুৎ ভবনের সহকারী প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম জানান, বিভিন্ন কারণে বিদ্যুৎ ঘাটতি বেড়েছে। সরকার পরিস্থিতি উন্নত করার চেষ্টা করছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন না হওয়ায় গ্রাহকদের পর্যাপ্ত সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পোলট্রি খামারিরা বিদ্যুৎ সংকটের কারণে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই খাতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

ময়মনসিংহে লোডশেডিংয়ে পোলট্রি খামারের ক্ষতি বাড়ছে, হিটস্ট্রোকে মারা যাচ্ছে মুরগির বাচ্চা, খামারিরা পড়ছেন লোকসানে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রদেশ নয়, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণই পাকিস্তানের প্রকৃত সংস্কার

ময়মনসিংহে লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত পোলট্রি খামার: হিটস্ট্রোকে মরছে মুরগির বাচ্চা, বাড়ছে লোকসান

০৫:৩৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ না থাকার বাস্তবতায় ময়মনসিংহের পোলট্রি খামারগুলোতে নেমে এসেছে গভীর সংকট। বিদ্যুৎ না থাকায় খামারে প্রয়োজনীয় পরিবেশ বজায় রাখা যাচ্ছে না, ফলে হিটস্ট্রোকে মারা যাচ্ছে ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা। এতে খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

খামারের ভেতরের সংকট
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গোপালনগর গ্রামের খামারি নজরুল ইসলাম জানান, চলতি মাসের ৮ এপ্রিল তিনি ব্রয়লার বাচ্চা এনে পালন শুরু করেন। বর্তমানে বাচ্চার বয়স ১৮ দিন। কিন্তু এই সময়ের মধ্যেই লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক বাচ্চা হিটস্ট্রোকে মারা গেছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে মৃত্যুহার আরও বাড়বে, যা তাকে মারাত্মক লোকসানের দিকে ঠেলে দেবে।

তার মতে, বিদ্যুৎ না থাকলে রাতের অন্ধকারে বাচ্চাগুলো খাবার খেতে চায় না। আবার দিনের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকলে তীব্র গরমে তারা হাঁপাতে থাকে এবং একসময় স্ট্রোক করে মারা যায়। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে খামার খালি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খরচ বাড়ছে, লাভ কমছে
একই এলাকার আরেক খামারি আল আমিন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় খামারে ফ্যান চালানো সম্ভব হয় না। ফলে পর্যাপ্ত বাতাসের অভাবে বাচ্চাগুলো দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ অবস্থায় বাচ্চাগুলোকে বাঁচাতে অতিরিক্ত ওষুধ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তিনি আরও জানান, খরচ বাড়লেও বাজারে বিক্রি করে সেই টাকা ওঠানো যাচ্ছে না। এতে খামারিরা ক্রমেই আর্থিক সংকটে পড়ছেন। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এই ক্ষতি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

টিকে থাকার লড়াই
শহরের খামারি আব্দুস সালাম বলেন, বর্তমানে দিনে-রাতে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। এতে খামার পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার মতে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়া এই খাত টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্য
এদিকে লোডশেডিংয়ের বিষয়ে ময়মনসিংহ বিদ্যুৎ ভবনের সহকারী প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম জানান, বিভিন্ন কারণে বিদ্যুৎ ঘাটতি বেড়েছে। সরকার পরিস্থিতি উন্নত করার চেষ্টা করছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন না হওয়ায় গ্রাহকদের পর্যাপ্ত সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পোলট্রি খামারিরা বিদ্যুৎ সংকটের কারণে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই খাতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

ময়মনসিংহে লোডশেডিংয়ে পোলট্রি খামারের ক্ষতি বাড়ছে, হিটস্ট্রোকে মারা যাচ্ছে মুরগির বাচ্চা, খামারিরা পড়ছেন লোকসানে।