পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আর্মি রকেট ফোর্স কমান্ড দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ফতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি সফল প্রশিক্ষণমূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে। মঙ্গলবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে সেনাদের প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন প্রযুক্তিগত মান যাচাই এবং ক্ষেপণাস্ত্রের উপ-ব্যবস্থাগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশেষভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটির নির্ভুলতা বৃদ্ধি ও টিকে থাকার সক্ষমতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
উন্নত প্রযুক্তির সংযোজন
আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, ফতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রটিতে আধুনিক অ্যাভিওনিক্স এবং অত্যাধুনিক নেভিগেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তির কারণে ক্ষেপণাস্ত্রটির লক্ষ্যভেদ ক্ষমতা এবং কার্যকারিতা আরও উন্নত হয়েছে।
এই প্রশিক্ষণ উৎক্ষেপণ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানস ডিভিশন, আর্মি রকেট ফোর্স কমান্ড এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন কৌশলগত প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা।

সফলতায় সন্তুষ্টি প্রকাশ
বিবৃতিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ফোরাম দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ফতেহ সিরিজের এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এই সফল উৎক্ষেপণে জড়িত সকলের দক্ষতা, নিষ্ঠা ও প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন।
নৌবাহিনীর পরীক্ষার পর নতুন পদক্ষেপ
এই প্রশিক্ষণ উৎক্ষেপণটি এমন সময় সম্পন্ন হলো, যখন এর এক সপ্তাহ আগে পাকিস্তান নৌবাহিনী দেশীয়ভাবে তৈরি তাইমুর এয়ার-লঞ্চড ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল লাইভ ফায়ারিং পরিচালনা করে।
আইএসপিআর জানায়, ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তার লক্ষ্য পূরণ করে এবং সমুদ্রভিত্তিক শত্রু হুমকি সনাক্ত, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং দূরবর্তী অবস্থান থেকে ধ্বংস করার সক্ষমতা প্রদর্শন করে।
নৌবাহিনীর ওই প্রদর্শনীকে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর ফলে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত ও বহুমাত্রিক আঘাত হানার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















