চট্টগ্রামে স্থানীয় পর্যায়ে সমাজ উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে চারটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগে তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইএসডিই বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় ‘পার্টনার্স ফর প্রস্পেরিটি’ কর্মসূচির আওতায় এই সহায়তা দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, স্থানীয় সংগঠনগুলোর মাধ্যমে সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠান ও অংশগ্রহণ
রবিবার চট্টগ্রাম নগরের আইএসডিই প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুসলিম চ্যারিটির কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর এম. ফজলুল করিম। সভাপতিত্ব করেন আইএসডিই বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রকল্প কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম।
এ সময় বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাদের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তৃণমূল উন্নয়নে স্থানীয় সংগঠনের ভূমিকা
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম. ফজলুল করিম বলেন, স্থানীয় সংগঠনগুলো সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে কার্যকর শক্তি। তাদের হাতে সরাসরি সহায়তা পৌঁছালে তা দ্রুত মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। তিনি আরও জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নকে তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত করার লক্ষ্য রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

সভাপতির বক্তব্যে এস এম নাজের হোসাইন বলেন, এই কর্মসূচি শুধু আর্থিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি স্থানীয় সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি প্ল্যাটফর্ম। ছোট উদ্যোগই বড় পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করে—এই বিশ্বাস থেকেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অনুদানের খাত ও ব্যবহার
অনুষ্ঠানে চারটি সংগঠনের প্রতিনিধিদের হাতে মোট ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি সংগঠন দরিদ্র রোগীদের জন্য ফিজিওথেরাপি মেশিন ক্রয়ের জন্য সহায়তা পেয়েছে। আরেকটি সংগঠন দরিদ্র নারীদের আয়বর্ধক কর্মসংস্থানে সহায়তার জন্য অর্থ পেয়েছে। এছাড়া একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ক্রয় এবং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পানির জন্য আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্যও অনুদান দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আয়োজকেরা জানান, নির্বাচিত সংগঠনগুলোকে ক্ষুদ্র পরিসরের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সচেতনতা ও সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তারা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নের পথকে আরও মজবুত করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















