ময়মনসিংহের ফুলপুরে জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে দাদিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নাতির বিরুদ্ধে। বুধবার রাতে উপজেলার একটি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত নারী আয়েশা খাতুন, বয়স প্রায় ৭০। তিনি দীর্ঘদিন ধরে একাই বসবাস করছিলেন। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত নাতি জসিম উদ্দিনকে আটক করেছে পুলিশ।
পারিবারিক পটভূমি ও সম্পর্কের টানাপোড়েন
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, বহু বছর আগে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর একাই জীবন কাটাচ্ছিলেন আয়েশা খাতুন। তার একমাত্র ছেলে জসিমের জন্মের কিছুদিন পরই মারা যান। পরে জসিমের মা অন্যত্র বিয়ে করলেও সেখানেও স্থায়ী হননি। শেষ পর্যন্ত ছোটবেলা থেকেই জসিমকে লালন-পালন করেন তার দাদি আয়েশা।
বড় হয়ে জসিম নিজের পরিবার গড়ে আলাদা বাড়িতে থাকতেন। তবে সাম্প্রতিক পারিবারিক কলহের জেরে তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেলে তিনি একাই বসবাস শুরু করেন।

জমি নিয়ে বিরোধের সূত্র
আয়েশা খাতুনের মালিকানাধীন কিছু জমি ছিল, যার একটি অংশে জসিম চাষাবাদ করতেন। স্থানীয়দের ধারণা, ওই জমিতে অন্য আত্মীয়দের দাবি উঠতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই জসিম তার দাদিকে জমি নিজের নামে লিখে দিতে চাপ দিচ্ছিলেন।
এ নিয়ে দাদি-নাতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
ঘটনার বিবরণ
বুধবার রাত প্রায় ৯টার দিকে আবারও জমির কাগজ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা বেড়ে গেলে জসিম ধারালো অস্ত্র দিয়ে আয়েশা খাতুনকে আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা দ্রুত জসিমকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে তাকে হেফাজতে নেয় এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
আইনগত ব্যবস্থা
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















