দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ১১টি ব্যাংক ২০২৫ অর্থবছরের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারেনি। এর মধ্যে ১০টি ব্যাংক নতুন করে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা ব্যাংকগুলোর আর্থিক দুর্বলতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রবিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এসব ব্যাংকের শেয়ারের ওপর মার্জিন ঋণ সুবিধাও স্থগিত করা হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
যেসব ব্যাংক লভ্যাংশ দেয়নি
লভ্যাংশ ঘোষণা না করা ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে এবি ব্যাংক পিএলসি, ইউসিবি পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি, প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি, আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি, ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি, এনআরবি ব্যাংক পিএলসি এবং ওয়ান ব্যাংক পিএলসি।
এর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক আগেই ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ছিল। বাকি ১০টি ব্যাংককে নতুন করে এই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে একই কারণে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি এবং এসবিএসি ব্যাংক পিএলসিকেও টানা দুই বছর লভ্যাংশ না দেওয়ায় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামানো হয়েছিল।
কেন এই অবস্থায় ব্যাংকগুলো
ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূলত নিয়ন্ত্রক বিধিনিষেধ এবং প্রভিশন ঘাটতির কারণে তারা লভ্যাংশ দিতে পারেনি।
রূপালী ব্যাংক জানিয়েছে, তাদের প্রায় ১৪ হাজার ১৪ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতির বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু ছাড় দিয়েছে। প্রিমিয়ার ব্যাংক প্রায় ৯ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকার ঘাটতি সমন্বয় না করেই আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার অনুমতি পেয়েছে।
একইভাবে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রায় ২ হাজার ১৬১ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতি সমন্বয় ছাড়াই হিসাব সম্পন্নের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আর এনআরবি ব্যাংক জানিয়েছে, বিতরণযোগ্য মুনাফা না থাকায় তাদের লভ্যাংশ ঘোষণা করতে দেওয়া হয়নি।
আর্থিক সূচকে দুর্বলতা
কিছু ব্যাংকের আর্থিক অবস্থাও বেশ নাজুক। এবি ব্যাংকের প্রতি শেয়ার আয় ঋণাত্মক ৪৩.৪২ টাকা এবং প্রতি শেয়ারের নিট সম্পদ মূল্য ঋণাত্মক ৩৬.২৪ টাকা। ন্যাশনাল ব্যাংকের ক্ষেত্রেও প্রতি শেয়ার আয় ঋণাত্মক ৭.৫৫ টাকা এবং নিট সম্পদ মূল্য ঋণাত্মক ৭.৩৭ টাকা দেখা গেছে।
লেনদেনে বিশেষ সিদ্ধান্ত
লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের পর রবিবার এসব ব্যাংকের শেয়ারের লেনদেনে কোনো মূল্যসীমা নির্ধারণ করা হয়নি। একইসঙ্গে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এসব ব্যাংকের শেয়ার কেনার জন্য ব্রোকার ও মার্চেন্ট ব্যাংকারদের ঋণ সুবিধা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শেয়ারবাজারে এর প্রভাব
এই সিদ্ধান্তগুলো শেয়ারবাজারে ব্যাংক খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ধারাবাহিকভাবে লভ্যাংশ দিতে না পারা এবং ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামা ব্যাংকগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
লভ্যাংশহীন ব্যাংক ও জেড ক্যাটাগরি
১১টি ব্যাংক লভ্যাংশ না দিয়ে ১০টি নতুন করে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যাওয়ায় শেয়ারবাজারে চাপ বেড়েছে, মার্জিন ঋণও বন্ধ করা হয়েছে।
লভ্যাংশহীন ব্যাংক জেড ক্যাটাগরি শেয়ারবাজার
লভ্যাংশ না দেওয়া ১১ ব্যাংক, ১০টি জেড ক্যাটাগরিতে—বিনিয়োগে বাড়ছে ঝুঁকি
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















