দেশে চলতি বছরের মার্চে শুরু হওয়া হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সোমবার একদিনেই সর্বোচ্চ ১৭ জনের মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এটি এ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা, যা পরিস্থিতির গভীরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মৃত্যুর হিসাব ও অঞ্চলভিত্তিক চিত্র
সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় মোট ১৭টি মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুইটি মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামজনিত বলে শনাক্ত হয়েছে, আর বাকি ১৫টি মৃত্যুকে সন্দেহজনক হিসেবে ধরা হয়েছে। সন্দেহভাজন মৃত্যুর মধ্যে ঢাকায়ই সর্বোচ্চ ১০টি ঘটনা ঘটেছে, যা রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সংক্রমণের চাপ বেশি থাকার ইঙ্গিত দেয়।

মোট মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্চের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত হামজনিত নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ জনে। একই সময়ে সন্দেহভাজন মৃত্যুর সংখ্যা ২৫৯ জনে পৌঁছেছে।
এদিকে সংক্রমণের দিক থেকেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় ১,৩০২টি নতুন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১,৭৯৩ জনে।
নতুন সংক্রমণ ও চিকিৎসা পরিস্থিতি
একই সময়ে ১৫৪টি নতুন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা মোট নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যা বাড়িয়ে ৫,৪৬৭ জনে নিয়ে গেছে।

চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপরও চাপ বাড়ছে। এখন পর্যন্ত মোট ২৮,৮৩২ জন সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৫,১৫১ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, যা মোট আক্রান্তদের একটি বড় অংশ হলেও নতুন সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
প্রতিরোধ ও টিকাদান পরিস্থিতি
স্বাস্থ্য খাতের তথ্য অনুযায়ী, দেশে হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং শিশুদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে টিকার আওতায় এসেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতি দেখাচ্ছে যে ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক হলেও প্রতিরোধযোগ্য রোগ। নিয়মিত টিকাদান, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















