১১:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
তেলের ধাক্কা শুধু যুদ্ধের নয়, নীতিহীনতারও মূল্য রঘু রাইয়ের ক্যামেরা ছিল শুধু ছবি তোলার যন্ত্র নয়, এক ধরনের জীবনদর্শন ট্রাম্পের কঠোর আশ্রয়নীতি কি স্থায়ী রূপ নিচ্ছে? যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল ঘিরে বিতর্ক, সমালোচনায় রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ নিউইয়র্কে আবাসন নির্মাণে বড় বাধা কমছে, বদলে যেতে পারে শহরের ভবিষ্যৎ ট্রাম্পের প্রতিশোধ রাজনীতি নিয়ে চাপে রিপাবলিকানরা ট্রাম্প-শি বৈঠকে বাণিজ্যের হাসি, আড়ালে তাইওয়ান-ইউক্রেন-ইরান উত্তেজনা ব্রিটিশ রাজনীতির নেতৃত্ব সংকট: জনপ্রিয়তার লড়াই নয়, বাস্তবতার পরীক্ষা লন্ডনে টমি রবিনসন ঘিরে উত্তেজনা, ফিলিস্তিনপন্থী পাল্টা বিক্ষোভে কড়া নিরাপত্তা জাকার্তার ‘সামতামা ভিলেজ’: বর্জ্য আলাদা করেই কমছে ল্যান্ডফিলে চাপ

স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধে মিশ্র ফল: মনোযোগ বাড়লেও পরীক্ষার নম্বরে বড় পরিবর্তন নেই

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত অনেক আশা নিয়ে নেওয়া হয়েছিল—শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বাড়ানো, বুলিং কমানো, পরীক্ষার ফল উন্নত করা এবং উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্য ছিল এর পেছনে। কিন্তু নতুন এক বড় গবেষণা বলছে, এই নিষেধাজ্ঞা কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনলেও সব লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি।

গবেষণাটি দেখায়, যেসব স্কুল কঠোরভাবে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, সেখানে শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ফোন বিশেষ লক করা পাউচে রাখতে হয়, সেখানে এই পরিবর্তন বেশি স্পষ্ট। তবে এই ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি একটি বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে—শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফল কি উন্নত হয়েছে?

গবেষণার ফল বলছে, গড় হিসেবে পরীক্ষার নম্বরে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। অর্থাৎ, মোবাইল নিষিদ্ধ করলেই পড়াশোনার ফল ভালো হবে—এমন সরল সমীকরণ বাস্তবে কাজ করছে না।

Cellphones in schools: Most Americans favor bans, but not all-day bans  | Pew Research Center

মনোযোগ বাড়লেও ফলাফলে প্রভাব সীমিত

শিক্ষকরা অবশ্য এই পরিবর্তনে সন্তুষ্ট। তাদের মতে, ক্লাসে অপ্রয়োজনীয় ফোন ব্যবহার কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বাড়ছে এবং পড়াশোনার পরিবেশ আরও নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও সময়ের সঙ্গে নিজেদের মানসিক স্বস্তি বাড়ার কথা জানিয়েছে।

তবে গবেষকরা বলছেন, পরীক্ষার ফল অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে—পারিবারিক পরিবেশ, শিক্ষকতার মান, পাঠ্যক্রম ইত্যাদি। শুধু মোবাইল নিষিদ্ধ করলেই এই জটিল সমীকরণ বদলে যায় না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ফোনের পরিবর্তে শিক্ষার্থীরা অন্য প্রযুক্তি যেমন ল্যাপটপে মনোযোগ হারাচ্ছে।

শুরুতে বেড়েছে শাস্তির হার

এই নীতির একটি নেতিবাচক দিকও সামনে এসেছে। কঠোর নিষেধাজ্ঞা চালুর প্রথম বছরে শিক্ষার্থীদের শাস্তির হার বেড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী নিয়ম ভাঙার কারণে সমস্যায় পড়েছে, আবার কেউ কেউ ফোন না থাকায় সহপাঠীদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Five Things to Know About Largest Cell Phone Ban Study | AP News

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা কিছুটা কমেছে। গবেষকরা মনে করছেন, নতুন নিয়মে অভ্যস্ত হতে একটি সময় লাগে, এবং সেই সময় পেরিয়ে গেলে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়।

সামাজিক জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন

সবচেয়ে আকর্ষণীয় পরিবর্তন দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের সামাজিক আচরণে। স্কুলে বিরতির সময় বা খাবারের সময় শিক্ষার্থীরা একে অপরের সঙ্গে বেশি কথা বলছে, সরাসরি যোগাযোগ বাড়ছে। আগে যেখানে সবাই নিজের ফোনে ব্যস্ত থাকত, এখন সেখানে কথোপকথনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

এই পরিবর্তন শিক্ষকদের কাছেও ইতিবাচক মনে হয়েছে। তারা মনে করেন, এটি শিক্ষার্থীদের সামাজিক দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে—যা পরীক্ষার নম্বর দিয়ে মাপা যায় না, কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সার্বিকভাবে বলা যায়, স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত কিছু ক্ষেত্রে সুফল এনেছে, বিশেষ করে মনোযোগ ও সামাজিক আচরণে। তবে শিক্ষার মান উন্নয়নে এটি একমাত্র সমাধান নয়—এটি এখন পরিষ্কার।

School smartphone bans reflect growing concern over youth mental health and  academic performance • Utah News Dispatch

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তেলের ধাক্কা শুধু যুদ্ধের নয়, নীতিহীনতারও মূল্য

স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধে মিশ্র ফল: মনোযোগ বাড়লেও পরীক্ষার নম্বরে বড় পরিবর্তন নেই

১০:৪৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত অনেক আশা নিয়ে নেওয়া হয়েছিল—শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বাড়ানো, বুলিং কমানো, পরীক্ষার ফল উন্নত করা এবং উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্য ছিল এর পেছনে। কিন্তু নতুন এক বড় গবেষণা বলছে, এই নিষেধাজ্ঞা কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনলেও সব লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি।

গবেষণাটি দেখায়, যেসব স্কুল কঠোরভাবে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, সেখানে শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ফোন বিশেষ লক করা পাউচে রাখতে হয়, সেখানে এই পরিবর্তন বেশি স্পষ্ট। তবে এই ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি একটি বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে—শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফল কি উন্নত হয়েছে?

গবেষণার ফল বলছে, গড় হিসেবে পরীক্ষার নম্বরে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। অর্থাৎ, মোবাইল নিষিদ্ধ করলেই পড়াশোনার ফল ভালো হবে—এমন সরল সমীকরণ বাস্তবে কাজ করছে না।

Cellphones in schools: Most Americans favor bans, but not all-day bans  | Pew Research Center

মনোযোগ বাড়লেও ফলাফলে প্রভাব সীমিত

শিক্ষকরা অবশ্য এই পরিবর্তনে সন্তুষ্ট। তাদের মতে, ক্লাসে অপ্রয়োজনীয় ফোন ব্যবহার কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বাড়ছে এবং পড়াশোনার পরিবেশ আরও নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও সময়ের সঙ্গে নিজেদের মানসিক স্বস্তি বাড়ার কথা জানিয়েছে।

তবে গবেষকরা বলছেন, পরীক্ষার ফল অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে—পারিবারিক পরিবেশ, শিক্ষকতার মান, পাঠ্যক্রম ইত্যাদি। শুধু মোবাইল নিষিদ্ধ করলেই এই জটিল সমীকরণ বদলে যায় না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ফোনের পরিবর্তে শিক্ষার্থীরা অন্য প্রযুক্তি যেমন ল্যাপটপে মনোযোগ হারাচ্ছে।

শুরুতে বেড়েছে শাস্তির হার

এই নীতির একটি নেতিবাচক দিকও সামনে এসেছে। কঠোর নিষেধাজ্ঞা চালুর প্রথম বছরে শিক্ষার্থীদের শাস্তির হার বেড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী নিয়ম ভাঙার কারণে সমস্যায় পড়েছে, আবার কেউ কেউ ফোন না থাকায় সহপাঠীদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Five Things to Know About Largest Cell Phone Ban Study | AP News

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা কিছুটা কমেছে। গবেষকরা মনে করছেন, নতুন নিয়মে অভ্যস্ত হতে একটি সময় লাগে, এবং সেই সময় পেরিয়ে গেলে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়।

সামাজিক জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন

সবচেয়ে আকর্ষণীয় পরিবর্তন দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের সামাজিক আচরণে। স্কুলে বিরতির সময় বা খাবারের সময় শিক্ষার্থীরা একে অপরের সঙ্গে বেশি কথা বলছে, সরাসরি যোগাযোগ বাড়ছে। আগে যেখানে সবাই নিজের ফোনে ব্যস্ত থাকত, এখন সেখানে কথোপকথনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

এই পরিবর্তন শিক্ষকদের কাছেও ইতিবাচক মনে হয়েছে। তারা মনে করেন, এটি শিক্ষার্থীদের সামাজিক দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে—যা পরীক্ষার নম্বর দিয়ে মাপা যায় না, কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সার্বিকভাবে বলা যায়, স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত কিছু ক্ষেত্রে সুফল এনেছে, বিশেষ করে মনোযোগ ও সামাজিক আচরণে। তবে শিক্ষার মান উন্নয়নে এটি একমাত্র সমাধান নয়—এটি এখন পরিষ্কার।

School smartphone bans reflect growing concern over youth mental health and  academic performance • Utah News Dispatch