পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সহিংসতার আবহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এর মধ্যেই বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রাঠ খুনের ঘটনায় নতুন করে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনীতি। চন্দ্রনাথের মা দাবি করেছেন, ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের ‘প্রতিশোধ’ হিসেবেই তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমের সামনে চন্দ্রনাথ রাঠের মা বলেন, একজন মা হিসেবে তিনি কারও মৃত্যুদণ্ড চান না, তবে হত্যাকারীদের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দাবি করছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক বিদ্বেষ থেকেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
মধ্যমগ্রামে গুলি করে হত্যা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় সোমবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন চন্দ্রনাথ রাঠ। তাঁর গাড়ির গতিরোধ করে মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন হামলাকারী। এরপর গাড়ির জানালার কাছে এসে খুব কাছ থেকে তিন রাউন্ড গুলি চালানো হয়।
সে সময় চন্দ্রনাথ গাড়ির সামনের আসনে চালকের পাশে বসা ছিলেন। গুলিতে তিনিও গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। গাড়িচালকও গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকা জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে খালি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে এবং হামলাকারীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।
বিজেপির বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ
চন্দ্রনাথ রাঠের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনা ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বিক্ষোভে নামে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। পশ্চিম মেদিনীপুরের বাহদুতলা এলাকায় জাতীয় সড়ক অবরোধ করে তারা।
বিজেপির অভিযোগ, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই বিরোধী কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা বাড়ছে। দলটির নেতারা এই হত্যাকে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
এদিকে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার খবরও সামনে আসছে। রাজনৈতিক সংঘর্ষ, হামলা এবং পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

আদালতে যাচ্ছে তৃণমূল
অন্যদিকে, নির্বাচনে ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, তারা বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবে।
দলটির অভিযোগ, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়ম হয়েছে এবং ফলাফল নিয়ে তাদের গুরুতর আপত্তি রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু এখনও প্রকাশ করেনি তৃণমূল নেতৃত্ব।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন সরকার গঠনের পথও পরিষ্কার হয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল ইতোমধ্যে রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচনের গেজেট বিজ্ঞপ্তি জমা দিয়েছেন। এর ফলে সরকার গঠনের জন্য বিজেপিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
নির্বাচন-পরবর্তী এই অস্থির পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সহিংসতা, আইনি লড়াই এবং সরকার গঠন— সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনীতি এখন এক অনিশ্চিত ও উত্তপ্ত অধ্যায়ের মুখোমুখি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















