বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত, রোগীকেন্দ্রিক এবং কার্যকর করে তুলতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও সমন্বিত তথ্যব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্যখাতের বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক এবং উন্নয়ন সহযোগীরা। রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী জাতীয় কর্মশালায় তারা বলেন, স্বাস্থ্যখাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় “লিপফ্রগিং” বা দ্রুত অগ্রগতিনির্ভর মডেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ব্র্যাক, মেডট্রনিক ল্যাবস এবং পাথ (PATH)-এর যৌথ উদ্যোগে ৫ ও ৬ মে অনুষ্ঠিত “বাংলাদেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার লিপফ্রগিং” শীর্ষক কর্মশালায় সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। কর্মশালায় স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, রোগীর সেবাপ্রাপ্তি সহজ করা এবং সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার বাস্তবসম্মত উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার গুরুত্ব
আলোচনায় উঠে আসে, বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবায় সমন্বয়ের অভাব, দুর্বল রেফারেল ফলোআপ ব্যবস্থা, রোগীর অসম্পূর্ণ তথ্য এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সীমিত প্রযুক্তিগত সহায়তা অনেক মানুষকে সময়মতো ও মানসম্মত চিকিৎসা পাওয়া থেকে বঞ্চিত করছে। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।
কর্মশালায় রোগীসেবায় সাতটি বড় ঘাটতি চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক সমাধানের দিক তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ছিল ডিজিটাল ও এআইনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থা, দূরবর্তী বিশেষজ্ঞ সহায়তা, স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, রোগীর তথ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং সমন্বিত স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণের জন্য কাঠামো তৈরি।

সরকারের অগ্রাধিকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, গ্রাম ও শহরের মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যচর্চার ওপর জোর দিয়ে বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের সংস্কৃতি গড়ে তোলা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর ও সবার জন্য সহজলভ্য করতে ডিজিটালাইজেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে রোগীরা দ্রুত তথ্য ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পেতে সক্ষম হবেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক জাহিদা রহমান, অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসী তাসনিম, ডা. আবু আহাম্মদ আল মামুন, ডা. সৈয়দ কামরুল ইসলাম এবং ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেন্নুসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া এডিবি, বিশ্বব্যাংক, জাইকা, ইউনিসেফ এবং অস্ট্রেলিয়া সরকারের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
রোগীকেন্দ্রিক ব্যবস্থার ওপর জোর
ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, বাংলাদেশের কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য সাফল্য থাকলেও এখনও অনেক রোগী স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে বিচ্ছিন্ন ও জটিল বলে মনে করেন। অসংক্রামক রোগ, মানসিক স্বাস্থ্য, মাতৃ ও শিশুসেবা এবং জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আরও সমন্বিত ও রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, “লিপফ্রগিং” কেবল বিদ্যমান ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করা নয়, বরং এমন একটি রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা যেখানে সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য, সেবা প্রদানকারী এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
আসিফ সালেহ আরও বলেন, বাংলাদেশ যদি বাস্তবভিত্তিক ও সম্প্রসারণযোগ্য একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মডেল গড়ে তুলতে পারে, তবে সেটি বৈশ্বিক পর্যায়েও অনুসরণযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটাল রূপান্তর নিয়ে আয়োজিত জাতীয় কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা রোগীকেন্দ্রিক ও সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছেন।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার লিপফ্রগিং
বাংলাদেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর করতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও রোগীকেন্দ্রিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















