০৯:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
ইন্দোনেশিয়ায় এলপিজির বদলে সিএনজি পরিকল্পনা, প্রয়োজন হতে পারে শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ জ্বালানি সংকট ও মিয়ানমার ইস্যুতে উত্তপ্ত আসিয়ান সম্মেলন ঈদ কেনাকাটায় রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকান-শপিংমল চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তিতে দোষী দুই কর্মকর্তা, যুক্তরাজ্যে প্রথম বড় রায় রাশিয়ার যুদ্ধের জন্য লোক পাঠানোর অভিযোগে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্সি ইরানের তেল রপ্তানি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, কিন্তু সমুদ্রপথে এখনও চলছে গোপন বেচাকেনা ভারত-ভিয়েতনাম সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়, প্রতিরক্ষা ও বিরল খনিজ সহযোগিতায় ১৩ চুক্তি গ্রেট নিকোবর প্রকল্পে গ্রামসভা বিতর্ক, ৫০ শতাংশ কোরাম ছাড়াই বনভূমি হস্তান্তরে অনুমোদনের অভিযোগ বিদ্যুৎ কিনতে দুই এনডব্লিউপিজিসিএল কেন্দ্রের সংশোধিত ট্যারিফ অনুমোদন বিপিএলে দুর্নীতির অভিযোগে খেলোয়াড়-ম্যানেজারদের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা

দুই দশকের জোটে ইতি, ডিএমকের সঙ্গে কংগ্রেসের বিচ্ছেদে তামিল রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ডিএমকে-কংগ্রেস জোটের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে। মাঝখানে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে স্বল্প সময়ের বিচ্ছেদ হলেও পরে আবার একসঙ্গে আসে দল দুটি। তবে ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের পর সম্পর্ক এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে দুই পক্ষই কার্যত আলাদা পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভারতের জোট রাজনীতিতে ডিএমকে ও কংগ্রেস দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিজেপি এবং হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে দক্ষিণ ভারতে এই জোটকে একটি বড় প্রতিরোধ শক্তি হিসেবেও দেখা হতো। কিন্তু সম্পর্কের ভেতরে টানাপোড়েন কখনও পুরোপুরি দূর হয়নি।

আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ থেকেই মূল সংকট

ডিএমকে ও কংগ্রেসের সম্পর্কের বড় সংকটগুলোর একটি ছিল আসন ভাগাভাগি। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ৯০টি আসন দাবি করেছিল। শেষ পর্যন্ত ৬০টির বেশি আসন পেলেও জোটের ভেতরে অসন্তোষ থেকে যায়। একই ধরনের পরিস্থিতি আবার তৈরি হয় ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে। আলোচনা এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, যেখানে দুই পক্ষের সম্পর্ক কার্যত ভেঙে পড়ার অবস্থায় যায়।

ভারতের জাতীয় রাজনীতিতেও এই জোট একসময় গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ২০০৪ সালে কেন্দ্রের সরকার গঠনের সময় ডিএমকে নেতা এম. করুণানিধি তাঁর দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দাবি করেন। প্রাক-নির্বাচনী সমঝোতা অনুযায়ী দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত মন্ত্রীদের শপথ না নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। সে সময় কংগ্রেস জোটসঙ্গীদের ওপর নির্ভরশীল থাকায় শেষ পর্যন্ত দাবি মেনে নেয়।

তবে ২০০৯ সালে পরিস্থিতি বদলে যায়। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় নিজেদের কাছেই রাখে কংগ্রেস। পরে ২জি স্পেকট্রাম দুর্নীতি ইস্যু দুই দলের দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার থেকে বেরিয়ে যায় ডিএমকে।

তবুও ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আবার এক হয় দুই দল।

DMK, Congress stuck in Tamil Nadu seat talks - Frontline

বিজেপির উত্থানও জোট টিকিয়ে রেখেছিল

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির উত্থান এবং তামিলনাড়ুতে বিকল্প মিত্রের অভাব কংগ্রেসকে দীর্ঘদিন জোটে ধরে রেখেছিল। কারণ এআইএডিএমকে অনেক সময় নরম হিন্দুত্ব অবস্থান নিয়েছে এবং বিজেপির সঙ্গে তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছন্দ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

একজন জ্যেষ্ঠ কংগ্রেস নেতা বলেছেন, বহুদিন ধরেই জোট ছাড়ার আলোচনা চলছিল, কিন্তু উপযুক্ত কারণ পাওয়া যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত টিভিকে নেতা বিজয়ের পক্ষ থেকে যোগাযোগ আসার পর দলটি নতুন পথ ভাবতে শুরু করে। তাঁর দাবি, তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসের অধিকাংশ কর্মী এই বিচ্ছেদে সন্তুষ্ট।

স্টালিন-রাহুল দূরত্বে চূড়ান্ত ভাঙন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনের ফল যাই হোক না কেন, ডিএমকে নেতৃত্ব আগেই কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল। বিশেষ করে আসন ভাগাভাগির তিক্ত অভিজ্ঞতা মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্টালিনকে ক্ষুব্ধ করে।

স্টালিনের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো ছিল বলে তিনি বিশ্বাস করতেন। কিন্তু আলোচনা চলাকালে রাহুল গান্ধী সরাসরি যোগাযোগ করেননি। এমনকি নির্বাচনী প্রচারণাতেও দুই নেতাকে একই মঞ্চে খুব একটা দেখা যায়নি।

নির্বাচনে জয়ী কংগ্রেস প্রার্থীদের স্টালিনের সঙ্গে দেখা করে কৃতজ্ঞতা জানানোর প্রস্তাবও শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়। এরপরই স্পষ্ট হয়ে যায়, দুই দলের সম্পর্ক কার্যত শেষ হয়ে গেছে।

তবে কংগ্রেসের ভেতরেও এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এক নেতা প্রশ্ন তুলেছেন, বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকের সঙ্গে সব নির্বাচনে জোট করা কতটা বাস্তবসম্মত হবে। তাঁর মতে, বিজেপির বিরুদ্ধে স্টালিন যেভাবে অবস্থান নিয়েছেন, বিজয়ও ভবিষ্যতে একই অবস্থানে থাকবেন কি না, সেটি এখনও পরিষ্কার নয়।

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এই বিচ্ছেদ এখন নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডিএমকে-কংগ্রেস জোট ভাঙনের পর তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইন্দোনেশিয়ায় এলপিজির বদলে সিএনজি পরিকল্পনা, প্রয়োজন হতে পারে শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ

দুই দশকের জোটে ইতি, ডিএমকের সঙ্গে কংগ্রেসের বিচ্ছেদে তামিল রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

০৭:৪৫:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ডিএমকে-কংগ্রেস জোটের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে। মাঝখানে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে স্বল্প সময়ের বিচ্ছেদ হলেও পরে আবার একসঙ্গে আসে দল দুটি। তবে ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের পর সম্পর্ক এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে দুই পক্ষই কার্যত আলাদা পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভারতের জোট রাজনীতিতে ডিএমকে ও কংগ্রেস দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিজেপি এবং হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে দক্ষিণ ভারতে এই জোটকে একটি বড় প্রতিরোধ শক্তি হিসেবেও দেখা হতো। কিন্তু সম্পর্কের ভেতরে টানাপোড়েন কখনও পুরোপুরি দূর হয়নি।

আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ থেকেই মূল সংকট

ডিএমকে ও কংগ্রেসের সম্পর্কের বড় সংকটগুলোর একটি ছিল আসন ভাগাভাগি। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ৯০টি আসন দাবি করেছিল। শেষ পর্যন্ত ৬০টির বেশি আসন পেলেও জোটের ভেতরে অসন্তোষ থেকে যায়। একই ধরনের পরিস্থিতি আবার তৈরি হয় ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে। আলোচনা এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, যেখানে দুই পক্ষের সম্পর্ক কার্যত ভেঙে পড়ার অবস্থায় যায়।

ভারতের জাতীয় রাজনীতিতেও এই জোট একসময় গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ২০০৪ সালে কেন্দ্রের সরকার গঠনের সময় ডিএমকে নেতা এম. করুণানিধি তাঁর দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দাবি করেন। প্রাক-নির্বাচনী সমঝোতা অনুযায়ী দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত মন্ত্রীদের শপথ না নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। সে সময় কংগ্রেস জোটসঙ্গীদের ওপর নির্ভরশীল থাকায় শেষ পর্যন্ত দাবি মেনে নেয়।

তবে ২০০৯ সালে পরিস্থিতি বদলে যায়। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় নিজেদের কাছেই রাখে কংগ্রেস। পরে ২জি স্পেকট্রাম দুর্নীতি ইস্যু দুই দলের দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার থেকে বেরিয়ে যায় ডিএমকে।

তবুও ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আবার এক হয় দুই দল।

DMK, Congress stuck in Tamil Nadu seat talks - Frontline

বিজেপির উত্থানও জোট টিকিয়ে রেখেছিল

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির উত্থান এবং তামিলনাড়ুতে বিকল্প মিত্রের অভাব কংগ্রেসকে দীর্ঘদিন জোটে ধরে রেখেছিল। কারণ এআইএডিএমকে অনেক সময় নরম হিন্দুত্ব অবস্থান নিয়েছে এবং বিজেপির সঙ্গে তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছন্দ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

একজন জ্যেষ্ঠ কংগ্রেস নেতা বলেছেন, বহুদিন ধরেই জোট ছাড়ার আলোচনা চলছিল, কিন্তু উপযুক্ত কারণ পাওয়া যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত টিভিকে নেতা বিজয়ের পক্ষ থেকে যোগাযোগ আসার পর দলটি নতুন পথ ভাবতে শুরু করে। তাঁর দাবি, তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসের অধিকাংশ কর্মী এই বিচ্ছেদে সন্তুষ্ট।

স্টালিন-রাহুল দূরত্বে চূড়ান্ত ভাঙন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনের ফল যাই হোক না কেন, ডিএমকে নেতৃত্ব আগেই কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল। বিশেষ করে আসন ভাগাভাগির তিক্ত অভিজ্ঞতা মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্টালিনকে ক্ষুব্ধ করে।

স্টালিনের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো ছিল বলে তিনি বিশ্বাস করতেন। কিন্তু আলোচনা চলাকালে রাহুল গান্ধী সরাসরি যোগাযোগ করেননি। এমনকি নির্বাচনী প্রচারণাতেও দুই নেতাকে একই মঞ্চে খুব একটা দেখা যায়নি।

নির্বাচনে জয়ী কংগ্রেস প্রার্থীদের স্টালিনের সঙ্গে দেখা করে কৃতজ্ঞতা জানানোর প্রস্তাবও শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়। এরপরই স্পষ্ট হয়ে যায়, দুই দলের সম্পর্ক কার্যত শেষ হয়ে গেছে।

তবে কংগ্রেসের ভেতরেও এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এক নেতা প্রশ্ন তুলেছেন, বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকের সঙ্গে সব নির্বাচনে জোট করা কতটা বাস্তবসম্মত হবে। তাঁর মতে, বিজেপির বিরুদ্ধে স্টালিন যেভাবে অবস্থান নিয়েছেন, বিজয়ও ভবিষ্যতে একই অবস্থানে থাকবেন কি না, সেটি এখনও পরিষ্কার নয়।

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এই বিচ্ছেদ এখন নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডিএমকে-কংগ্রেস জোট ভাঙনের পর তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।