ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে ভিয়েতনামকে উল্লেখ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নয়াদিল্লিতে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ও কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক তো লামের সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে “এনহ্যান্সড কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ”-এ উন্নীত করেছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল পেমেন্ট, বিরল খনিজ ও নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ অন্তত ১৩টি চুক্তি সই হয়েছে।
বুধবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভিয়েতনাম ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি ও ‘ভিশন মহাসাগর’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে ভারত ও ভিয়েতনাম আইনভিত্তিক শাসন, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে।
মোদি আরও জানান, বর্তমানে ভারত-ভিয়েতনাম বাণিজ্যের পরিমাণ ১৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ২৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সম্পর্কের নতুন ধাপ
ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভিয়েতনামের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণেও ভিয়েতনামকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে ভারত।
দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতের দেওয়া প্রতিরক্ষা ঋণসুবিধা ভিয়েতনামের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করেছে। এই সহযোগিতা দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া ভিয়েতনামের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ভারতের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সেক্রেটারিয়েটের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করেছে।
![]()
বিরল খনিজ ও ডিজিটাল পেমেন্টে জোর
সই হওয়া ১৩টি চুক্তির মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বিরল খনিজ ও তেজস্ক্রিয় খনিজসম্পদ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক। পাশাপাশি ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক ও ভিয়েতনামের স্টেট ব্যাংকের মধ্যে ডিজিটাল পেমেন্ট ও পেমেন্ট সিস্টেমে সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতাও হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় বিরল খনিজের গুরুত্ব বাড়তে থাকায় এই সহযোগিতা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
নেহরুর সফরের স্মরণ
ভারতীয় বিশ্ববিষয়ক পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে তো লাম ভিয়েতনামের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের সমর্থনের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ১৯৫৪ সালে হ্যানয় মুক্ত হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু প্রথম বিদেশি নেতা হিসেবে ভিয়েতনাম সফর করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক সমর্থন ভিয়েতনাম কখনও ভুলবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত
এর আগে দিনের শুরুতে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং নয়াদিল্লিতে ভিয়েতনামের উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফান ভ্যান জিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উদ্যোগ এবং গবেষণা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
দুই পক্ষ নিয়মিত সামরিক যোগাযোগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, ভারত-ভিয়েতনাম সম্পর্ক এখন কেবল কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই; বরং নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতার দিকেও দ্রুত এগোচ্ছে।
ভারত-ভিয়েতনাম কৌশলগত অংশীদারত্ব
ভারত ও ভিয়েতনাম ১৩টি চুক্তি সই করে প্রতিরক্ষা, বিরল খনিজ ও ডিজিটাল পেমেন্টে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















