০৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
দুই দশকের জোটে ইতি, ডিএমকের সঙ্গে কংগ্রেসের বিচ্ছেদে তামিল রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ ভারতের ডিজিটাল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ‘মিথোস’ আতঙ্ক, এআই-চালিত সাইবার হামলার ঝুঁকিতে ব্যাংক থেকে সামরিক নেটওয়ার্ক চম্বলের বুকে বালুর দস্যুতা, ধ্বংসের মুখে ভারতের অন্যতম নির্মল নদী মণিপুরে নতুন সহিংসতার আগুন, সংঘাতে জড়াচ্ছে নাগা অধ্যুষিত পাহাড়ও লরা উলভার্টের ব্যাটে দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন স্বপ্ন, বিশ্বকাপের আগে দারুণ ছন্দে প্রোটিয়া অধিনায়ক ভারত ভাগের সীমারেখা: মানচিত্র, রাজনীতি ও বাস্তবতার সংঘাত ভারতের ‘ইনভেসিভ’ উদ্ভিদ আতঙ্ক, প্রকৃত সংকট কি আরও গভীরে? ভারতে জুনে প্রথম ‘বিগ ক্যাট সামিট’, অংশ নেবে ৯৫ দেশ ভারত বলছে, অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরাতে দ্রুত পদক্ষেপ দরকার শেখা ও ভুলে যাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন পদার্থ তৈরি, রোবট প্রযুক্তিতে খুলতে পারে নতুন দিগন্ত

চীনের নতুন সামুদ্রিক বয়া, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পশ্চিমা নকশাকে বিদায়

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সামুদ্রিক গবেষণায় যে পশ্চিমা নকশার বয়া ব্যবহৃত হয়ে আসছিল, তা থেকে সরে এসে নতুন ধরনের বুদ্ধিমান সামুদ্রিক বয়া চালু করেছে চীন। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শানডং প্রদেশের উপকূলে সম্প্রতি ছয় মিটার ব্যাসের একটি বিশাল কমলা রঙের ডিস্ক-আকৃতির বয়া স্থাপন করা হয়েছে, যা চীনা গবেষকদের ভাষায় বিশ্বের প্রথম একপাশে নোঙর করা ডিস্ক-স্টাইলের মহাসাগর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা।

চীনের অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের অধীন ইনস্টিটিউট অব ওশানোলজি জানিয়েছে, বয়াটি সফলভাবে সমুদ্র পরীক্ষা শেষ করে এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ইয়েলো সি পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে সমুদ্রের পুরো জলস্তরজুড়ে রিয়েল-টাইম ও ধারাবাহিক তথ্য সংগ্রহ সম্ভব হবে।

পুরোনো পশ্চিমা নকশা থেকে সরে আসা

দীর্ঘ প্রায় ৮০ বছর ধরে পশ্চিমা সামুদ্রিক প্রকৌশলে ডিস্ক-আকৃতির বয়াগুলো সাধারণত কেন্দ্রভিত্তিক একক নোঙর ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করত। এই পদ্ধতিতে বয়াটি সমুদ্রতলে একটি কেন্দ্রীয় শিকলের সঙ্গে বাঁধা থাকত। স্বাভাবিক অবস্থায় এটি কার্যকর হলেও শক্তিশালী স্রোত, ঢেউ এবং পানির নিচের পর্যবেক্ষণ কেবল একসঙ্গে কাজ করলে জটিলতা তৈরি হতো।

গবেষকদের মতে, বহু বছর ধরে সামুদ্রিক প্রকৌশলীরা “কেবল জড়িয়ে যাওয়ার দুঃস্বপ্ন” সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে পর্যবেক্ষণ কেবল নোঙরের শিকলে জড়িয়ে গিয়ে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও পুরো ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করত।

এই সমস্যার সমাধানে চীনের নতুন বয়ায় কেন্দ্রীয় নোঙরের পরিবর্তে পুরো নোঙর ব্যবস্থাকে একপাশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে পর্যবেক্ষণ কেবল ও নোঙর শিকল আলাদা অবস্থানে থাকে এবং কেবল জড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

চীনের দাবি, এটি বিশ্বের প্রথম সমন্বিত সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা যেখানে ডিস্ক-আকৃতির একপাশভিত্তিক নোঙর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর পর্যবেক্ষণ

নতুন বয়ার আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহায়ক স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। বয়াটিতে উচ্চ-নির্ভুলতার সেন্সর রয়েছে, যা বাতাস, ঢেউ ও সমুদ্রস্রোতের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করতে পারে। একই সঙ্গে পানির নিচে থাকা নোঙর কাঠামোর অবস্থা ও আকৃতিও শনাক্ত করতে সক্ষম।

এছাড়া বয়াটি সমুদ্রের গভীরতা অনুযায়ী ধারাবাহিক তথ্য সংগ্রহ করে তা সরাসরি উপকূলভিত্তিক গবেষণাগারে পাঠাতে পারে। এই প্রযুক্তিও পুরোপুরি চীনের নিজস্ব উন্নয়ন বলে দাবি করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।

চীনা গবেষকদের ভাষ্য, একক নোঙর ব্যবস্থার বয়ায় এই প্রথম স্থিতিশীল ও রিয়েল-টাইম পূর্ণ গভীরতার সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সম্ভব হলো।

পুরোনো বয়ার বিদায়

নতুন বয়াটি চালুর সময় একই স্থানে ১৬ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করা একটি ছোট তিন মিটার ব্যাসের পুরোনো বয়াকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গবেষকদের মতে, এটি শুধু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, বরং সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় একটি প্রতীকী রূপান্তরও।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রযুক্তি সমুদ্র গবেষণা, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই দশকের জোটে ইতি, ডিএমকের সঙ্গে কংগ্রেসের বিচ্ছেদে তামিল রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

চীনের নতুন সামুদ্রিক বয়া, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পশ্চিমা নকশাকে বিদায়

০৬:০০:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সামুদ্রিক গবেষণায় যে পশ্চিমা নকশার বয়া ব্যবহৃত হয়ে আসছিল, তা থেকে সরে এসে নতুন ধরনের বুদ্ধিমান সামুদ্রিক বয়া চালু করেছে চীন। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শানডং প্রদেশের উপকূলে সম্প্রতি ছয় মিটার ব্যাসের একটি বিশাল কমলা রঙের ডিস্ক-আকৃতির বয়া স্থাপন করা হয়েছে, যা চীনা গবেষকদের ভাষায় বিশ্বের প্রথম একপাশে নোঙর করা ডিস্ক-স্টাইলের মহাসাগর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা।

চীনের অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের অধীন ইনস্টিটিউট অব ওশানোলজি জানিয়েছে, বয়াটি সফলভাবে সমুদ্র পরীক্ষা শেষ করে এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ইয়েলো সি পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে সমুদ্রের পুরো জলস্তরজুড়ে রিয়েল-টাইম ও ধারাবাহিক তথ্য সংগ্রহ সম্ভব হবে।

পুরোনো পশ্চিমা নকশা থেকে সরে আসা

দীর্ঘ প্রায় ৮০ বছর ধরে পশ্চিমা সামুদ্রিক প্রকৌশলে ডিস্ক-আকৃতির বয়াগুলো সাধারণত কেন্দ্রভিত্তিক একক নোঙর ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করত। এই পদ্ধতিতে বয়াটি সমুদ্রতলে একটি কেন্দ্রীয় শিকলের সঙ্গে বাঁধা থাকত। স্বাভাবিক অবস্থায় এটি কার্যকর হলেও শক্তিশালী স্রোত, ঢেউ এবং পানির নিচের পর্যবেক্ষণ কেবল একসঙ্গে কাজ করলে জটিলতা তৈরি হতো।

গবেষকদের মতে, বহু বছর ধরে সামুদ্রিক প্রকৌশলীরা “কেবল জড়িয়ে যাওয়ার দুঃস্বপ্ন” সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে পর্যবেক্ষণ কেবল নোঙরের শিকলে জড়িয়ে গিয়ে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও পুরো ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করত।

এই সমস্যার সমাধানে চীনের নতুন বয়ায় কেন্দ্রীয় নোঙরের পরিবর্তে পুরো নোঙর ব্যবস্থাকে একপাশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে পর্যবেক্ষণ কেবল ও নোঙর শিকল আলাদা অবস্থানে থাকে এবং কেবল জড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

চীনের দাবি, এটি বিশ্বের প্রথম সমন্বিত সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা যেখানে ডিস্ক-আকৃতির একপাশভিত্তিক নোঙর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর পর্যবেক্ষণ

নতুন বয়ার আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহায়ক স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। বয়াটিতে উচ্চ-নির্ভুলতার সেন্সর রয়েছে, যা বাতাস, ঢেউ ও সমুদ্রস্রোতের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করতে পারে। একই সঙ্গে পানির নিচে থাকা নোঙর কাঠামোর অবস্থা ও আকৃতিও শনাক্ত করতে সক্ষম।

এছাড়া বয়াটি সমুদ্রের গভীরতা অনুযায়ী ধারাবাহিক তথ্য সংগ্রহ করে তা সরাসরি উপকূলভিত্তিক গবেষণাগারে পাঠাতে পারে। এই প্রযুক্তিও পুরোপুরি চীনের নিজস্ব উন্নয়ন বলে দাবি করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।

চীনা গবেষকদের ভাষ্য, একক নোঙর ব্যবস্থার বয়ায় এই প্রথম স্থিতিশীল ও রিয়েল-টাইম পূর্ণ গভীরতার সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সম্ভব হলো।

পুরোনো বয়ার বিদায়

নতুন বয়াটি চালুর সময় একই স্থানে ১৬ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করা একটি ছোট তিন মিটার ব্যাসের পুরোনো বয়াকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গবেষকদের মতে, এটি শুধু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, বরং সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় একটি প্রতীকী রূপান্তরও।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রযুক্তি সমুদ্র গবেষণা, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।