ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির পর বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সম্ভাব্য ‘পুশ-ইন’ ঠেকাতে যশোরের বেনাপোল ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাহিনীটি।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বেনাপোল সীমান্তজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। যশোর-৪৯ বিজিবি ও খুলনা-২১ বিজিবির অধীন প্রায় ১০২ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বাড়ানো হয়েছে টহল ও নজরদারি। বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্ত দিয়ে যেন কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা অবৈধ কার্যক্রম না ঘটে, সে জন্য অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বেনাপোল সীমান্তের রঘুনাথপুর, শিকারপুর, সাদিপুর, ঘিবা, পুটখালী, গোগা, দৌলতপুর ও রুদ্রপুরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় দিন-রাত টহল জোরদারের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগণকেও অপ্রয়োজনীয় চলাচল থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে রাতের সময়।
যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানিয়েছেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তার ভাষ্য, সীমান্ত দিয়ে কেউ যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী পরিস্থিতিকে সামনে রেখেই এই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তেও একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জেলার প্রায় ১৪০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে বিজিবি। ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ যেন কাউকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দিতে না পারে, সে জন্য কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া শূন্যরেখা এলাকায় চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বুধবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের শেষ দিনের অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর সম্ভাব্য পুশ-ইনের আশঙ্কা মাথায় রেখে সরকার আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
তিনি জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিজিবিকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও সরকার এখনই বড় ধরনের আশঙ্কা দেখছে না, তবু সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা ঘিরে সরকারের এই তৎপরতা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন প্রতিবেশী অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও কিছুদিন জোরদার থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















