মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় শুক্রবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন হয়। নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় সেই সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে।
শুক্রবার সকালে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০১ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। একই সময়ে মার্কিন ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বাজার খোলার পরপরই উভয় সূচক তিন শতাংশের বেশি পর্যন্ত লাফ দেয়।
তবে সপ্তাহজুড়ে সামগ্রিক হিসাবে তেলের দাম এখনও নিম্নমুখী রয়েছে। কারণ, এর আগে কয়েকদিন ধরে বাজারে এমন ধারণা তৈরি হয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ থামাতে একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। সেই আশায় টানা তিন দিন তেলের দাম কমেছিল।
হরমুজ নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা
ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র এক মাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই তারা পাল্টা আঘাত হেনেছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, মার্কিন হামলায় একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজসহ আরও কয়েকটি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ তেহরানের।
এই সংঘর্ষের মধ্যেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের উদ্বেগ
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বর্তমানে তেলের বাজার বাস্তব সরবরাহ পরিস্থিতির চেয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে বেশি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে এখন এক ধরনের বিভ্রান্তি কাজ করছে। একদিকে যুদ্ধবিরতির আশাবাদ, অন্যদিকে নতুন হামলা—এই দুই বিপরীত সংকেতের কারণে বিনিয়োগকারীরা দিক হারিয়ে ফেলছেন।
একজন বিশ্লেষক বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার প্রশ্নে এখনও বড় ধরনের মতবিরোধ রয়ে গেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ এই পথ দিয়ে হতো। ফলে সেখানে যেকোনো অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তেলের সরবরাহে চাপ
বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ এখনও চাপে রয়েছে বলেও মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা তেলের বাজারে প্রায় ৭০০ কোটি ডলারের লেনদেন তদন্ত করছে। অভিযোগ রয়েছে, ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার আগেই বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা হয়েছিল, যা বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, সরবরাহ সংকট এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মিলিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে। ফলে আগামী কয়েকদিনে তেলের দামে আরও বড় ওঠানামা দেখা যেতে পারে।
মার্কিন-ইরান সংঘাতে হরমুজ ঘিরে তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতা
মার্কিন-ইরান উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে তেলের দাম। হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন শঙ্কায় জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















