হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ইরানের হামলার জবাবে মার্কিন বাহিনীর সামরিক অভিযান, চীনা তেলবাহী জাহাজে হামলা, নতুন নৌ চলাচল বিধিনিষেধ এবং যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের উদ্বেগ। বিশেষ করে বিশ্ব তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে চলমান এই সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
মার্কিন হামলা ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের সময় তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের ওপর ইরান হামলা চালায়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা হামলা চালিয়ে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরে ইরানকে দ্রুত সমঝোতায় আসার আহ্বান জানান এবং সতর্ক করে বলেন, চুক্তি না হলে আরও কঠোর হামলা হতে পারে।
ট্রাম্প একইসঙ্গে দাবি করেন, যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে বাস্তবে হরমুজ ঘিরে হামলা-পাল্টা হামলার খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
হরমুজে নতুন নিয়ম, জাহাজ চলাচলে বাড়তি ঝুঁকি
ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য নতুন নিয়ম জারি করেছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রণালি পার হওয়ার আগে জাহাজগুলোকে বিশেষ অনুমতি নিতে হবে। নিয়ম না মানলে হামলার ঝুঁকি থাকবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটগুলোর একটি এই হরমুজ প্রণালি। ফলে এখানে যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলছে। ইতোমধ্যে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চীনা জাহাজে হামলায় উদ্বেগ
চীনের মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং এতে চীনা নাবিকরাও ছিলেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর বেইজিং গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, এশিয়া ও ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তাও বড় চাপে পড়বে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা নিয়ে আলোচনা
যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। একটি প্রস্তাবে যুদ্ধ বন্ধ, পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করা, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং হরমুজে উত্তেজনা কমানোর বিষয় রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত দেয়নি।
এদিকে পাকিস্তানও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্রিয় হয়েছে। সিঙ্গাপুরের কাছে আটক জাহাজে থাকা পাকিস্তানি ও ইরানি নাবিকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
বিশ্ববাজারে বাড়ছে চাপ
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে ডলারের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। একইসঙ্গে এয়ারলাইন, জাহাজ পরিবহন ও জ্বালানি খাতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হরমুজে যুদ্ধের উত্তেজনায় বিশ্ব তেলবাজারে নতুন সংকটের আশঙ্কা
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















