মার্কিন রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই রিপাবলিকানদের “শক্তিশালী পুরুষের দল” হিসেবে দেখা হয়। আর সেই ভাবমূর্তিকে আরও জোরালো করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কখনও কেজ ফাইটিং স্টেডিয়ামে প্রবেশ, কখনও হত্যাচেষ্টাকে হালকা রসিকতায় উড়িয়ে দেওয়া—সব মিলিয়ে নিজেকে তিনি এক ধরনের “মাচো নেতা” হিসেবেই তুলে ধরেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, তরুণ পুরুষ ভোটারদের একটি বড় অংশ ধীরে ধীরে তার দিক থেকে সরে যাচ্ছে।
তরুণ ভোটারদের হতাশা বাড়ছে
২০২৪ সালের নির্বাচনে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী পুরুষ ভোটারদের একটি বড় অংশ ট্রাম্পকে সমর্থন করেছিল। কিন্তু এখন সেই সমর্থনে ভাটা পড়েছে। নতুন জরিপে দেখা গেছে, এই বয়সী পুরুষদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কারণ হিসেবে সামনে এসেছে জীবনযাত্রার ব্যয়, বাড়ির দাম, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ।

অনেক তরুণেরই লক্ষ্য পরিবার গড়া, নিজের বাড়ি কেনা এবং স্থায়ী জীবন শুরু করা। কিন্তু উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপ সেই স্বপ্নকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার এক তরুণ রেস্তোরাঁ কর্মী জানান, বাজারে গিয়ে এখন ৮০ ডলারের কমে কেনাকাটা করা কঠিন। তিনি দুইটি চাকরি করেও বাবা-মায়ের বাড়ি ছাড়তে পারছেন না। তার মতে, জীবন এখন “অস্বাভাবিক ব্যয়বহুল” হয়ে উঠেছে।
ডেমোক্র্যাটদের প্রতিও ক্ষোভ
তবে ট্রাম্পের প্রতি হতাশা মানেই যে তরুণরা ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকছে, তা নয়। অনেক তরুণ পুরুষ মনে করেন, ডেমোক্র্যাটরা পুরুষদের সমস্যাকে গুরুত্ব দেয় না। তাদের অভিযোগ, এই দলটি প্রায়ই পুরুষদের নিয়ে সমালোচনা করে, কিন্তু পুরুষদের বাস্তব সংকট নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে চায় না।
জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকের বেশি মানুষ মনে করেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মধ্যে “পুরুষবিরোধী মনোভাব” একটি বাস্তব সমস্যা। ফলে তরুণ পুরুষ ভোটারদের একটি বড় অংশ এখন দ্বিধায় রয়েছে। কেউ রিপাবলিকানদের পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছে না, আবার ডেমোক্র্যাটদের প্রতিও আগ্রহ হারাচ্ছে।
বাড়ির সংকট ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা

বিশ্লেষকদের মতে, বাড়িভাড়ার ঊর্ধ্বগতি তরুণ পুরুষদের স্বাধীন জীবন শুরু করার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাড়ির উচ্চমূল্যের কারণে অনেকে চাকরির সুযোগ থাকা শহরে যেতে পারছেন না। আবার অনেকেই বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে কর্মসংস্থানেও প্রভাব পড়ছে।
অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করেন, আবাসন খাতে জটিল নিয়ম এবং সীমিত নির্মাণের সুযোগ বাড়ির দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে তরুণদের জন্য স্বাধীন জীবন শুরু করা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। এই বাস্তবতা রাজনীতিতেও নতুন চাপ তৈরি করছে।
দুই দলের জন্যই বড় সতর্কবার্তা
তরুণ পুরুষ ভোটাররা এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ “সুইং ভোটার” হয়ে উঠছেন। নতুন জরিপ বলছে, তাদের বড় একটি অংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন। কেউ ভোট দেবেন কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। ফলে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলের জন্যই এটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র “পুরুষালী ভাবমূর্তি” দিয়ে তরুণদের ধরে রাখা সম্ভব নয়। তারা এখন বাস্তব জীবনের সমাধান চায়—চাকরি, সাশ্রয়ী বাসস্থান এবং স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ। এসব প্রশ্নের কার্যকর উত্তর না দিলে আগামী নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের সমর্থন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















