ইরান যুদ্ধের প্রভাবে পারস্য উপসাগরের তেল সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি প্রবাহ থমকে গেছে, আর এর প্রভাব দ্রুত কাটবে না বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা।
তেল সরবরাহে স্থবিরতা, দাম বাড়ছে
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। জ্বালানি-নির্ভর শিল্পগুলো এতে বড় ধাক্কা খেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রণালী খুলে গেলেও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে মাস বা এমনকি বছর লেগে যেতে পারে।

পুনরুদ্ধারে বড় চ্যালেঞ্জ
যুদ্ধ শুরুর পর হাজার হাজার তেলকূপ দ্রুত বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এখন সেগুলো আবার চালু করতে বড় ধরনের প্রকৌশল ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
অনেক তেলবাহী জাহাজ ইতিমধ্যে বিভিন্ন গন্তব্যে ছড়িয়ে পড়েছে—তাদের ফিরে আসতে সময় লাগবে। একই সঙ্গে যেসব শ্রমিক যুদ্ধের কারণে এলাকা ছেড়েছেন, তাদেরও ফিরে আসা দরকার।
ইরাকে সবচেয়ে বেশি সংকট
উপসাগরীয় অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক ইরাকে পরিস্থিতি সবচেয়ে জটিল। যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন ৪.৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন হতো, তা কমে ১.৬ মিলিয়নে নেমে এসেছে।
নিরাপত্তাহীনতা, বিদেশি কর্মীদের চলে যাওয়া এবং সীমিত সম্পদের কারণে অনেক তেলক্ষেত্রের অবস্থা এখনো পুরোপুরি মূল্যায়ন করা যাচ্ছে না।

তেলকূপ পুনরায় চালু করা কঠিন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক কূপ ধীরে ধীরে চালু করতে হবে। ঘন তেলের কারণে পাইপলাইনে জমাট পদার্থ তৈরি হয়েছে, আবার কিছু পুরোনো কূপে চাপ কমে গেছে।
কিছু ক্ষেত্রে তেল তুলতে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করতে হবে, যা উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে।
পুনরুদ্ধারে সময় লাগবে
গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে, ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলের তেলক্ষেত্রগুলোকে যুদ্ধ-পূর্ব উৎপাদনের ৮৫% পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে প্রায় ৯ মাস সময় লাগতে পারে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় ৫০% তেলক্ষেত্র দুই সপ্তাহে আগের অবস্থায় ফিরতে পারে, আর ৮০% ক্ষেত্র ছয় সপ্তাহে পুনরুদ্ধার সম্ভব। তবে বাকি ২০% ক্ষেত্র—বিশেষ করে ইরাক ও কুয়েতে—বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
উপসাগরীয় তেল সরবরাহে এই বিঘ্ন শুধু স্বল্পমেয়াদি সমস্যা নয়—এটি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















