০২:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
ক্রুজ জাহাজে মারণ হান্টাভাইরাস — ৩ মৃত, ১২ দেশে রোগী ছড়িয়ে পড়েছে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় রাশিয়া-ইউক্রেন তিন দিনের সিজফায়ার — আজ থেকে কার্যকর, ১,০০০ বন্দি বিনিময় ইরান বলছে পারমাণবিক কর্মসূচি অলঙ্ঘনীয় — মার্কিন প্রস্তাবকে “সর্বোচ্চবাদী” বলে নাকচ হরমুজে ১,৫০০ জাহাজে আটকা ২২,৫০০ নাবিক — “প্রোজেক্ট ফ্রিডম” এখন স্থগিত ইউএই-তে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা — ফুজাইরায় আগুন, আকাশে মিসাইল ড্রোনের বিস্ফোরণ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষের দ্বারপ্রান্তে — ১৪ দফা চুক্তির খসড়া তৈরি, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মার্কিন নৌবাহিনীতে ইরানি হামলা, পাল্টা আঘাতে তিন বন্দর ধ্বংস — ট্রাম্প বলছেন “লাভ ট্যাপ” গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ জনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার রংপুরে  কৃষকরা ফসল ফেলে দিচ্ছেন, ৬ কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা ট্রাম্প-শি বৈঠক: দুই পরাশক্তির সম্পর্কের ফাটল কি এবার মেরামত হবে?

হরমুজ বন্ধ, তেলের ধাক্কা দীর্ঘমেয়াদি: উপসাগরীয় জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে পারস্য উপসাগরের তেল সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি প্রবাহ থমকে গেছে, আর এর প্রভাব দ্রুত কাটবে না বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা।

তেল সরবরাহে স্থবিরতা, দাম বাড়ছে

হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। জ্বালানি-নির্ভর শিল্পগুলো এতে বড় ধাক্কা খেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রণালী খুলে গেলেও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে মাস বা এমনকি বছর লেগে যেতে পারে।

Reopening Strait of Hormuz Would Ease Oil Crisis but Only So Much - The New  York Times

পুনরুদ্ধারে বড় চ্যালেঞ্জ

যুদ্ধ শুরুর পর হাজার হাজার তেলকূপ দ্রুত বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এখন সেগুলো আবার চালু করতে বড় ধরনের প্রকৌশল ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

অনেক তেলবাহী জাহাজ ইতিমধ্যে বিভিন্ন গন্তব্যে ছড়িয়ে পড়েছে—তাদের ফিরে আসতে সময় লাগবে। একই সঙ্গে যেসব শ্রমিক যুদ্ধের কারণে এলাকা ছেড়েছেনতাদেরও ফিরে আসা দরকার।

ইরাকে সবচেয়ে বেশি সংকট

উপসাগরীয় অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক ইরাকে পরিস্থিতি সবচেয়ে জটিল। যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন ৪.৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন হতো, তা কমে ১.৬ মিলিয়নে নেমে এসেছে।

নিরাপত্তাহীনতা, বিদেশি কর্মীদের চলে যাওয়া এবং সীমিত সম্পদের কারণে অনেক তেলক্ষেত্রের অবস্থা এখনো পুরোপুরি মূল্যায়ন করা যাচ্ছে না।

Managing Risk and Reducing Damage From Well Shut-Ins

তেলকূপ পুনরায় চালু করা কঠিন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক কূপ ধীরে ধীরে চালু করতে হবে। ঘন তেলের কারণে পাইপলাইনে জমাট পদার্থ তৈরি হয়েছে, আবার কিছু পুরোনো কূপে চাপ কমে গেছে।

কিছু ক্ষেত্রে তেল তুলতে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করতে হবে, যা উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে।

পুনরুদ্ধারে সময় লাগবে

গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে, ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলের তেলক্ষেত্রগুলোকে যুদ্ধ-পূর্ব উৎপাদনের ৮৫% পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে প্রায় ৯ মাস সময় লাগতে পারে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় ৫০% তেলক্ষেত্র দুই সপ্তাহে আগের অবস্থায় ফিরতে পারে, আর ৮০% ক্ষেত্র ছয় সপ্তাহে পুনরুদ্ধার সম্ভব। তবে বাকি ২০% ক্ষেত্র—বিশেষ করে ইরাক ও কুয়েতে—বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

উপসাগরীয় তেল সরবরাহে এই বিঘ্ন শুধু স্বল্পমেয়াদি সমস্যা নয়—এটি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্রুজ জাহাজে মারণ হান্টাভাইরাস — ৩ মৃত, ১২ দেশে রোগী ছড়িয়ে পড়েছে

হরমুজ বন্ধ, তেলের ধাক্কা দীর্ঘমেয়াদি: উপসাগরীয় জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা

০১:১০:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে পারস্য উপসাগরের তেল সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি প্রবাহ থমকে গেছে, আর এর প্রভাব দ্রুত কাটবে না বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা।

তেল সরবরাহে স্থবিরতা, দাম বাড়ছে

হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। জ্বালানি-নির্ভর শিল্পগুলো এতে বড় ধাক্কা খেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রণালী খুলে গেলেও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে মাস বা এমনকি বছর লেগে যেতে পারে।

Reopening Strait of Hormuz Would Ease Oil Crisis but Only So Much - The New  York Times

পুনরুদ্ধারে বড় চ্যালেঞ্জ

যুদ্ধ শুরুর পর হাজার হাজার তেলকূপ দ্রুত বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এখন সেগুলো আবার চালু করতে বড় ধরনের প্রকৌশল ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

অনেক তেলবাহী জাহাজ ইতিমধ্যে বিভিন্ন গন্তব্যে ছড়িয়ে পড়েছে—তাদের ফিরে আসতে সময় লাগবে। একই সঙ্গে যেসব শ্রমিক যুদ্ধের কারণে এলাকা ছেড়েছেনতাদেরও ফিরে আসা দরকার।

ইরাকে সবচেয়ে বেশি সংকট

উপসাগরীয় অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক ইরাকে পরিস্থিতি সবচেয়ে জটিল। যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন ৪.৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন হতো, তা কমে ১.৬ মিলিয়নে নেমে এসেছে।

নিরাপত্তাহীনতা, বিদেশি কর্মীদের চলে যাওয়া এবং সীমিত সম্পদের কারণে অনেক তেলক্ষেত্রের অবস্থা এখনো পুরোপুরি মূল্যায়ন করা যাচ্ছে না।

Managing Risk and Reducing Damage From Well Shut-Ins

তেলকূপ পুনরায় চালু করা কঠিন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক কূপ ধীরে ধীরে চালু করতে হবে। ঘন তেলের কারণে পাইপলাইনে জমাট পদার্থ তৈরি হয়েছে, আবার কিছু পুরোনো কূপে চাপ কমে গেছে।

কিছু ক্ষেত্রে তেল তুলতে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করতে হবে, যা উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে।

পুনরুদ্ধারে সময় লাগবে

গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে, ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলের তেলক্ষেত্রগুলোকে যুদ্ধ-পূর্ব উৎপাদনের ৮৫% পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে প্রায় ৯ মাস সময় লাগতে পারে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় ৫০% তেলক্ষেত্র দুই সপ্তাহে আগের অবস্থায় ফিরতে পারে, আর ৮০% ক্ষেত্র ছয় সপ্তাহে পুনরুদ্ধার সম্ভব। তবে বাকি ২০% ক্ষেত্র—বিশেষ করে ইরাক ও কুয়েতে—বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

উপসাগরীয় তেল সরবরাহে এই বিঘ্ন শুধু স্বল্পমেয়াদি সমস্যা নয়—এটি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।