০২:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় রাশিয়া-ইউক্রেন তিন দিনের সিজফায়ার — আজ থেকে কার্যকর, ১,০০০ বন্দি বিনিময় ইরান বলছে পারমাণবিক কর্মসূচি অলঙ্ঘনীয় — মার্কিন প্রস্তাবকে “সর্বোচ্চবাদী” বলে নাকচ হরমুজে ১,৫০০ জাহাজে আটকা ২২,৫০০ নাবিক — “প্রোজেক্ট ফ্রিডম” এখন স্থগিত ইউএই-তে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা — ফুজাইরায় আগুন, আকাশে মিসাইল ড্রোনের বিস্ফোরণ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষের দ্বারপ্রান্তে — ১৪ দফা চুক্তির খসড়া তৈরি, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মার্কিন নৌবাহিনীতে ইরানি হামলা, পাল্টা আঘাতে তিন বন্দর ধ্বংস — ট্রাম্প বলছেন “লাভ ট্যাপ” গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ জনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার রংপুরে  কৃষকরা ফসল ফেলে দিচ্ছেন, ৬ কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা ট্রাম্প-শি বৈঠক: দুই পরাশক্তির সম্পর্কের ফাটল কি এবার মেরামত হবে? যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল মৃত্যুদণ্ডে ফিরছে ফায়ারিং স্কোয়াড ও প্রাণঘাতী ইনজেকশন

তেলবাজারে স্বস্তির ইঙ্গিত, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার আশায় কমল অপরিশোধিত তেলের দাম

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা কিছুটা কমতে পারে—এমন আশায় বুধবার আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে উত্থান হয়েছে। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে।

মঙ্গলবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য শুরু করা সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত করা হবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় “বড় অগ্রগতি” হয়েছে। এরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করে।

বুধবার আরও কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ বন্ধে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে। সেই খবরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচেও নেমে যায়। তবে পরে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির এক মুখপাত্র ওই প্রস্তাবকে “আমেরিকার ইচ্ছার তালিকা” বলে মন্তব্য করলে বাজারে আবার কিছুটা অনিশ্চয়তা ফিরে আসে।

Oil slides on US-Iran peace hopes, but supply crunch may persist for weeks:  Analysts - Economy News | The Financial Express

তেলের দামে বড় পতন

বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলারের আশপাশে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দামও প্রায় ৬ শতাংশ কমে ৯৬ ডলারের কাছাকাছি দাঁড়ায়।

বিশ্ববাজারে এখন সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির দিকে। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে সেখানে জাহাজ চলাচলে ব্যাঘাত তৈরি হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের সতর্কতা

তবে বাজারে স্বস্তির এই ধারা স্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে সতর্ক করছেন জ্বালানি বিশ্লেষকেরা। ন্যাশনাল সেন্টার ফর এনার্জি অ্যানালিটিকসের জ্যেষ্ঠ ফেলো নিল অ্যাটকিনসন বলেন, পরিস্থিতি আবারও খারাপ হতে পারে।

তার ভাষায়, “সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় তেলের বাজার এখনও অস্থিতিশীল। বাজার কার্যত চাপের মধ্যে রয়েছে এবং বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি বড় ধরনের চাপে পড়েছে।”

US is not superior to other nations, says Chinese Foreign Minister Wang Yi  - Global Times

চীনের কূটনৈতিক তৎপরতা

এদিকে বুধবার বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া। চীন ইরানি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী সপ্তাহে ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের আগে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বেইজিং প্রভাব খাটাতে পারে।

শেয়ারবাজারে উত্থান

তেলের দাম কমার খবরে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বুধবার ০.৬ শতাংশ বেড়ে নতুন উচ্চতার দিকে এগিয়েছে।

ইউরোপে স্টক্স ৬০০ সূচক ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। জার্মানি ও ব্রিটেনের বাজারেও উল্লেখযোগ্য উত্থান হয়েছে। এশিয়ার বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে, আর চীনের মূল ভূখণ্ডের শেয়ারবাজারে ১ শতাংশের বেশি উত্থান হয়েছে।

Oil prices settled down 2% on expectations for US-Iran nuclear deal |  Reuters

জ্বালানির খুচরা দামে চাপ

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরা মূল্য এখনও বাড়ছে। এএএ মোটর ক্লাবের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দেশটিতে গ্যাসোলিনের গড় মূল্য গ্যালনপ্রতি ৪.৫৪ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৫৩ শতাংশ বেশি।

একইভাবে ডিজেলের গড় দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে গ্যালনপ্রতি ৫.৬৭ ডলার, যা সংঘাত শুরুর পর থেকে ৫১ শতাংশ বেশি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, অপরিশোধিত তেলের দামের পরিবর্তনের প্রভাব খুচরা বাজারে পৌঁছাতে সাধারণত কয়েকদিন সময় লাগে।

ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর আছে—এমন সংকেতই মূলত বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্যও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় রাশিয়া-ইউক্রেন তিন দিনের সিজফায়ার — আজ থেকে কার্যকর, ১,০০০ বন্দি বিনিময়

তেলবাজারে স্বস্তির ইঙ্গিত, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার আশায় কমল অপরিশোধিত তেলের দাম

১২:৩৩:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা কিছুটা কমতে পারে—এমন আশায় বুধবার আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে উত্থান হয়েছে। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে।

মঙ্গলবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য শুরু করা সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত করা হবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় “বড় অগ্রগতি” হয়েছে। এরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করে।

বুধবার আরও কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ বন্ধে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে। সেই খবরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচেও নেমে যায়। তবে পরে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির এক মুখপাত্র ওই প্রস্তাবকে “আমেরিকার ইচ্ছার তালিকা” বলে মন্তব্য করলে বাজারে আবার কিছুটা অনিশ্চয়তা ফিরে আসে।

Oil slides on US-Iran peace hopes, but supply crunch may persist for weeks:  Analysts - Economy News | The Financial Express

তেলের দামে বড় পতন

বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলারের আশপাশে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দামও প্রায় ৬ শতাংশ কমে ৯৬ ডলারের কাছাকাছি দাঁড়ায়।

বিশ্ববাজারে এখন সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির দিকে। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে সেখানে জাহাজ চলাচলে ব্যাঘাত তৈরি হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের সতর্কতা

তবে বাজারে স্বস্তির এই ধারা স্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে সতর্ক করছেন জ্বালানি বিশ্লেষকেরা। ন্যাশনাল সেন্টার ফর এনার্জি অ্যানালিটিকসের জ্যেষ্ঠ ফেলো নিল অ্যাটকিনসন বলেন, পরিস্থিতি আবারও খারাপ হতে পারে।

তার ভাষায়, “সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় তেলের বাজার এখনও অস্থিতিশীল। বাজার কার্যত চাপের মধ্যে রয়েছে এবং বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি বড় ধরনের চাপে পড়েছে।”

US is not superior to other nations, says Chinese Foreign Minister Wang Yi  - Global Times

চীনের কূটনৈতিক তৎপরতা

এদিকে বুধবার বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া। চীন ইরানি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী সপ্তাহে ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের আগে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বেইজিং প্রভাব খাটাতে পারে।

শেয়ারবাজারে উত্থান

তেলের দাম কমার খবরে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বুধবার ০.৬ শতাংশ বেড়ে নতুন উচ্চতার দিকে এগিয়েছে।

ইউরোপে স্টক্স ৬০০ সূচক ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। জার্মানি ও ব্রিটেনের বাজারেও উল্লেখযোগ্য উত্থান হয়েছে। এশিয়ার বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে, আর চীনের মূল ভূখণ্ডের শেয়ারবাজারে ১ শতাংশের বেশি উত্থান হয়েছে।

Oil prices settled down 2% on expectations for US-Iran nuclear deal |  Reuters

জ্বালানির খুচরা দামে চাপ

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরা মূল্য এখনও বাড়ছে। এএএ মোটর ক্লাবের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দেশটিতে গ্যাসোলিনের গড় মূল্য গ্যালনপ্রতি ৪.৫৪ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৫৩ শতাংশ বেশি।

একইভাবে ডিজেলের গড় দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে গ্যালনপ্রতি ৫.৬৭ ডলার, যা সংঘাত শুরুর পর থেকে ৫১ শতাংশ বেশি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, অপরিশোধিত তেলের দামের পরিবর্তনের প্রভাব খুচরা বাজারে পৌঁছাতে সাধারণত কয়েকদিন সময় লাগে।

ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর আছে—এমন সংকেতই মূলত বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্যও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।