মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালির অবরোধ এশিয়ার জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোকে নতুন বাজার খুঁজতে বাধ্য করেছে। থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ নতুন উৎস থেকে তেল আমদানির পাশাপাশি স্থানীয় বিকল্প হিসেবে কৃষিভিত্তিক জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে।
বায়োফুয়েল ব্যবহারে জোর দিচ্ছে এশিয়ার দেশগুলো
এশিয়ার বিভিন্ন দেশ বায়োফুয়েল ব্যবহারের পরিকল্পনা ঘোষণা বা বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করছে। ইন্দোনেশিয়া ৫০ শতাংশ পাম অয়েল মিশ্রিত ডিজেল (B50) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। ভিয়েতনাম ইতোমধ্যে ১০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি (E10) বিক্রি শুরু করেছে। ভারত E20 চালুর পর আরও শক্তিশালী মিশ্রণের দিকে এগোচ্ছে।

জ্বালানি নিরাপত্তাই প্রধান লক্ষ্য
এই উদ্যোগগুলোর মূল উদ্দেশ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ইন্দোনেশিয়া আশা করছে B50 চালুর ফলে বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন লিটার ডিজেল সাশ্রয় হবে এবং আমদানির প্রয়োজন কমবে। অন্যদিকে ভারত ইতোমধ্যে ইথানল মিশ্রণের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করেছে।
জনপ্রিয়তা ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা
তবে বায়োফুয়েল ব্যবহারে কিছু সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে পুরোনো গাড়ির ইঞ্জিন উচ্চমাত্রার ইথানল সহ্য করতে পারে না—যা ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে।
খাদ্য উৎপাদনে চাপের আশঙ্কা

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো কৃষিজমির ব্যবহার। জ্বালানি উৎপাদনের জন্য ফসল চাষ বাড়ালে খাদ্য উৎপাদন কমে যেতে পারে এবং খাদ্যের দাম বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে ভারতে চালের একটি অংশ ইথানল উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়েছে।
বৈশ্বিক বাজারেও প্রভাব পড়ার শঙ্কা
ইন্দোনেশিয়া যদি পাম অয়েল জ্বালানিতে বেশি ব্যবহার করে, তবে রপ্তানি কমে গিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বাড়তে পারে। এতে আমদানিনির্ভর দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন খাদ্য সংকটের ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নেওয়া এসব পদক্ষেপ অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে খাদ্য সংকটকে তীব্র করে তুলতে পারে—বিশেষ করে যখন বৈশ্বিক পরিস্থিতি ইতোমধ্যে অস্থিতিশীল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















