ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি থাকা সাত মাস বয়সী ওই শিশুটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ নিয়ে হাসপাতালটির হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার ওই শিশুকে গত ৮ মে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় সোমবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ
হাম পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে চাপে পড়েছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ গোলাম মাওলা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ৮৯ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

তিনি জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২৪৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ২৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৫ শিশু হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের বয়স তিন মাস থেকে ১০ বছরের মধ্যে। তবে আক্রান্তদের বেশিরভাগই তিন মাস থেকে এক বছর বয়সী শিশু।
শিশু আইসিইউ চালু হয়নি
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মঈনুদ্দিন খান বলেছেন, হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তবে জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকটের কারণে এখনও শিশুদের জন্য বিশেষ আইসিইউ চালু করা সম্ভব হয়নি। আপাতত শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় বাবল সিপ্যাপ সহায়তা ব্যবহার করা হচ্ছে।
বেড সংকটে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা
হাসপাতালে রোগীর চাপ এতটাই বেড়েছে যে অনেক শিশুকে মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত বেড না থাকায় হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে রোগীদের রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০৯ জনে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















