ফেনীর দাগনভূঞায় মাদকের টাকা না পেয়ে নিজের মাকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হামলার শিকার হয়েছেন ওই যুবকের বাবা ও বোনও। রোববার রাতে উপজেলার দিলপুর গ্রামে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।
নিহত নারী লাকি বেগমের বয়স ছিল ৪৫ বছর। আহতরা হলেন তার স্বামী মোহাম্মদ মোস্তফা (৫৫) এবং মেয়ে মোসাম্মৎ মিথিলা মোস্তফা (১৮)। তারা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেন রাফি রাতে বাড়িতে ফিরে মায়ের কাছে মাদক কেনার জন্য টাকা দাবি করেন। তবে তার মা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাফি ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান।

ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় গুরুতর আহত হন লাকি বেগম। এ সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন মেয়ে মিথিলা ও বাবা মোস্তফা। তাদের ওপরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়।
পরিবারের ওপর নৃশংস হামলা
আহত তিনজনকে দ্রুত ফেনী ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা লাকি বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে গুরুতর আহত মোস্তফা ও মিথিলাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
মোহাম্মদ মোস্তফা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে মেয়ে মিথিলা রাজাপুর আলিম মাদরাসার দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন রাফিকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেন।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহরিয়ার কবির জানান, হাসপাতালে আনার আগেই লাকি বেগমের মৃত্যু হয়েছিল।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফাইজুল আজিম নোমান বলেন, ঘটনাস্থল থেকেই রাফিকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, অনলাইনে দুটি ছুরি অর্ডার করেছিলেন তিনি। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রও জব্দ করেছে পুলিশ।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















