ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাঁচাতে নতুন করে বড় ধরনের অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির পর দলের ভেতরে চাপ বাড়তে থাকায় সোমবার লন্ডনে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তিনি। সেই ভাষণে ইউরোপের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।
গত সপ্তাহের নির্বাচনে লেবার পার্টি ইংল্যান্ডে প্রায় দেড় হাজার কাউন্সিলর হারিয়েছে। ওয়েলসেও দলটির দীর্ঘদিনের আধিপত্য বড় ধাক্কা খেয়েছে। এর পর থেকেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ইতোমধ্যে ৪০ জনের বেশি লেবার এমপি তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন।
দলের ভেতরে চাপ বাড়ছে
![]()
স্টারমারের সাবেক ডেপুটি অ্যাঞ্জেলা রেইনার সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন, দলকে বামপন্থার দিকে না নিলে নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। তার এই মন্তব্য লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।
স্টারমারের ঘনিষ্ঠদের দাবি, তিনি এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে সাজাতে চান। এমনকি ভবিষ্যতে ইউরোপীয় একক বাজার ও কাস্টমস ইউনিয়নে ফের যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও লেবারের পরবর্তী নির্বাচনী ইশতেহারে থাকতে পারে।
ভাষণে স্টারমার বলতে পারেন, “ছোট ছোট পরিবর্তনে আর কাজ হবে না।” একই সঙ্গে ব্রিটেনকে আবার “ইউরোপের কেন্দ্রে” ফিরিয়ে নেওয়ার কথাও তুলে ধরবেন তিনি।
সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা
দলের ভেতরে এখন থেকেই সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নাম সামনে আসছে বেশি। যদিও তিনি বর্তমানে পার্লামেন্ট সদস্য নন, তবু জরিপে তাকে জনপ্রিয় বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ ছাড়া অ্যাঞ্জেলা রেইনার ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে স্ট্রিটিংকে দলের অনেক সদস্য “ব্লেয়ারপন্থী” হিসেবে দেখেন বলে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

নেতৃত্ব রক্ষায় স্টারমারের চেষ্টা
স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ব্রিটিশ ব্যবসা ও বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল বলেছেন, ভোটাররা কার্যত লেবার পার্টির পায়ের নিচ থেকে মাটি সরিয়ে নিয়েছে। তার ভাষায়, এটি এমন এক বার্তা, যা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, এখন দলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ, আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বড় সমাধান প্রয়োজন। স্টারমার সেই নতুন পথই দেখাতে চাইছেন।
স্টারমারের পক্ষ নিয়ে কাইল দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী এখনও সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি। এমনকি তিনি আগামী আট বছর দেশ পরিচালনার লক্ষ্যও সামনে রেখেছেন।
তবে দলের ভেতরে অনেকে মনে করছেন, সোমবারের ভাষণই স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটা নির্ধারণ করে দিতে পারে। ভাষণ ব্যর্থ হলে আরও এমপি প্রকাশ্যে বিদ্রোহে নামতে পারেন।
এদিকে জানা গেছে, সপ্তাহান্তে লেবার সরকারের দুই মন্ত্রী একসঙ্গে পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে স্টারমারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিজের দলের আস্থা ফিরিয়ে আনা।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















