০৫:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প-ভ্যান্স দ্বন্দ্ব, গ্যাসের দামেই চাপ রিপাবলিকান শিবিরে ‘বাংলাদেশে আদিবাসী নেই’ বক্তব্যের প্রতিবাদ, দুই মন্ত্রীর মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবি যুক্তরাষ্ট্র-ফিলিপাইন সহযোগিতা তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার না করার আহ্বান চীনের ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা দিবসের আগে বিরল জাভান হক-ঈগলের জন্ম, নাম ‘গারুদা’ পারমাণবিক বোমার জন্মের মধ্যেই ছিল তার ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা হামসদৃশ উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা ৯১৮ বনালু উৎসবে অংশ নিয়ে মুসলিম পরিচয়ে কটাক্ষ, কান্নায় ভেঙে পড়লেন ফারিয়া আবদুল্লাহ মন্ত্রীদের সন্তান সরকারি স্কুলে পড়ুক, দাবি ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ত্রিশা, বিজয়কে ডিএমকের মুখপত্রের কড়া আক্রমণ ঝু রংজি: চীনের অর্থনৈতিক উত্থানের নেপথ্যের সেই কঠোর কারিগর

এআই দুনিয়ার নিয়ন্ত্রণ কি কেবল ধনকুবেরদের হাতেই যাচ্ছে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনার পাশাপাশি বাড়ছে গভীর উদ্বেগও। প্রযুক্তি দুনিয়ার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির হাতে ভবিষ্যতের অর্থনীতি, সমাজ ও মানুষের চিন্তাজগতের নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে—এমন আশঙ্কা এখন আর কেবল বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাধারণ মানুষের মধ্যেও বাড়ছে ভয়, সন্দেহ এবং ক্ষোভ।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় এআই কোম্পানিগুলোর নেতৃত্বে আছেন অল্প কয়েকজন ব্যক্তি। ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান, টেসলা ও এক্সের ইলন মাস্ক, মেটার মার্ক জাকারবার্গ কিংবা অ্যানথ্রপিকের ড্যারিও আমোদেই—এই নামগুলো এখন শুধু প্রযুক্তি নয়, বৈশ্বিক ক্ষমতার আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে। সমালোচকদের মতে, এআইয়ের দ্রুত বিস্তার এমন এক বাস্তবতা তৈরি করছে যেখানে মানুষের কর্মসংস্থান, তথ্যপ্রবাহ, এমনকি সামাজিক সম্পর্কও নিয়ন্ত্রিত হতে পারে সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।

জনমনে বাড়ছে অসন্তোষ

We Need a Plan for When Superintelligent AI Breaks Loose

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে এআই অবকাঠামো নির্মাণকে ঘিরে মানুষের ক্ষোভ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকায় নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব প্রকল্প বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহার করছে, পরিবেশের ওপর চাপ তৈরি করছে এবং স্থানীয় জীবনে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একটি অংশও স্বীকার করছেন যে, এআই এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে এর ভেতরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রেই নির্মাতাদের কাছেও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। এই অনিশ্চয়তাই মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।

অর্থনীতি ও বৈষম্যের নতুন প্রশ্ন

এআই নিয়ে আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো অর্থনৈতিক বৈষম্য। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য ও বিনিয়োগ দ্রুত বাড়লেও সাধারণ মানুষের জীবনে বাড়ছে ব্যয় ও অনিশ্চয়তা। যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন সংকট যখন তীব্র, তখন বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে এআই অবকাঠামো তৈরিতে। সমালোচকদের মতে, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সুফল সমাজের সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছাবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

India's Potential as an AI Superpower: Insights from Former WEF Director,  ETEnterpriseai

বিভিন্ন জরিপেও দেখা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষ এআই নিয়ে আশাবাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। উচ্চ আয়ের মানুষদের মধ্যে প্রযুক্তি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব তুলনামূলক বেশি হলেও মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা।

সরকারের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে

এআই নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়েও চলছে বিতর্ক। এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রতি তুলনামূলক নমনীয় অবস্থানে ছিল। তবে সম্প্রতি নতুন এআই মডেল বাজারে আনার আগে সরকারি পর্যালোচনার প্রস্তাব সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির ঝুঁকি বাড়তে থাকায় সরকারও এখন নিয়ন্ত্রণমূলক অবস্থানের দিকে ঝুঁকছে।

বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করছেন, ভবিষ্যতের লড়াই কেবল প্রযুক্তিগত নয়, রাজনৈতিকও। কারণ এআই যত বেশি মানুষের জীবনে প্রবেশ করবে, ততই বাড়বে নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ও ক্ষমতার প্রশ্ন।

এআই কি শেষ পর্যন্ত কয়েকজন ধনকুবেরের একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করবে, নাকি এটি বিদ্যুৎ কিংবা ইন্টারনেটের মতো সবার জন্য উন্মুক্ত প্রযুক্তিতে পরিণত হবে—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এতটুকু পরিষ্কার, এআই এখন কেবল প্রযুক্তির গল্প নয়; এটি ক্ষমতা, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ সমাজব্যবস্থার গল্পও।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প-ভ্যান্স দ্বন্দ্ব, গ্যাসের দামেই চাপ রিপাবলিকান শিবিরে

এআই দুনিয়ার নিয়ন্ত্রণ কি কেবল ধনকুবেরদের হাতেই যাচ্ছে?

০২:৪৬:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনার পাশাপাশি বাড়ছে গভীর উদ্বেগও। প্রযুক্তি দুনিয়ার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির হাতে ভবিষ্যতের অর্থনীতি, সমাজ ও মানুষের চিন্তাজগতের নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে—এমন আশঙ্কা এখন আর কেবল বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাধারণ মানুষের মধ্যেও বাড়ছে ভয়, সন্দেহ এবং ক্ষোভ।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় এআই কোম্পানিগুলোর নেতৃত্বে আছেন অল্প কয়েকজন ব্যক্তি। ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান, টেসলা ও এক্সের ইলন মাস্ক, মেটার মার্ক জাকারবার্গ কিংবা অ্যানথ্রপিকের ড্যারিও আমোদেই—এই নামগুলো এখন শুধু প্রযুক্তি নয়, বৈশ্বিক ক্ষমতার আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে। সমালোচকদের মতে, এআইয়ের দ্রুত বিস্তার এমন এক বাস্তবতা তৈরি করছে যেখানে মানুষের কর্মসংস্থান, তথ্যপ্রবাহ, এমনকি সামাজিক সম্পর্কও নিয়ন্ত্রিত হতে পারে সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।

জনমনে বাড়ছে অসন্তোষ

We Need a Plan for When Superintelligent AI Breaks Loose

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে এআই অবকাঠামো নির্মাণকে ঘিরে মানুষের ক্ষোভ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকায় নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব প্রকল্প বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহার করছে, পরিবেশের ওপর চাপ তৈরি করছে এবং স্থানীয় জীবনে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একটি অংশও স্বীকার করছেন যে, এআই এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে এর ভেতরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রেই নির্মাতাদের কাছেও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। এই অনিশ্চয়তাই মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।

অর্থনীতি ও বৈষম্যের নতুন প্রশ্ন

এআই নিয়ে আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো অর্থনৈতিক বৈষম্য। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য ও বিনিয়োগ দ্রুত বাড়লেও সাধারণ মানুষের জীবনে বাড়ছে ব্যয় ও অনিশ্চয়তা। যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন সংকট যখন তীব্র, তখন বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে এআই অবকাঠামো তৈরিতে। সমালোচকদের মতে, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সুফল সমাজের সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছাবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

India's Potential as an AI Superpower: Insights from Former WEF Director,  ETEnterpriseai

বিভিন্ন জরিপেও দেখা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষ এআই নিয়ে আশাবাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। উচ্চ আয়ের মানুষদের মধ্যে প্রযুক্তি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব তুলনামূলক বেশি হলেও মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা।

সরকারের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে

এআই নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়েও চলছে বিতর্ক। এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রতি তুলনামূলক নমনীয় অবস্থানে ছিল। তবে সম্প্রতি নতুন এআই মডেল বাজারে আনার আগে সরকারি পর্যালোচনার প্রস্তাব সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির ঝুঁকি বাড়তে থাকায় সরকারও এখন নিয়ন্ত্রণমূলক অবস্থানের দিকে ঝুঁকছে।

বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করছেন, ভবিষ্যতের লড়াই কেবল প্রযুক্তিগত নয়, রাজনৈতিকও। কারণ এআই যত বেশি মানুষের জীবনে প্রবেশ করবে, ততই বাড়বে নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ও ক্ষমতার প্রশ্ন।

এআই কি শেষ পর্যন্ত কয়েকজন ধনকুবেরের একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করবে, নাকি এটি বিদ্যুৎ কিংবা ইন্টারনেটের মতো সবার জন্য উন্মুক্ত প্রযুক্তিতে পরিণত হবে—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এতটুকু পরিষ্কার, এআই এখন কেবল প্রযুক্তির গল্প নয়; এটি ক্ষমতা, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ সমাজব্যবস্থার গল্পও।