মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব এবার সরাসরি ভারতের অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে খরচ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি এক বছরের জন্য সোনা না কেনা, বিদেশ ভ্রমণ কমানো এবং প্রয়োজন ছাড়া জ্বালানি ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন।
হায়দরাবাদে এক রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোদি বলেন, বৈশ্বিক সংকটের সময়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষা করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে এবং এর চাপ ভারতের অর্থনীতির ওপরও পড়ছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ে পুরোনো অভ্যাসে ফেরার ডাক
করোনা মহামারির সময় মানুষ যেভাবে ঘরে বসে কাজ, অনলাইন বৈঠক ও ভার্চুয়াল যোগাযোগে অভ্যস্ত হয়েছিল, সেই অভ্যাস আবার ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন মোদি। তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমাতে পারলে জ্বালানি ব্যবহারও কমবে।
একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকে মেট্রো রেল, একসঙ্গে গাড়ি ব্যবহার এবং বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের দিকে ঝোঁকার পরামর্শ দেন। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কের বদলে রেল ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সোনা কেনা বন্ধের আহ্বান কেন
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সোনা আমদানিকারক দেশ। বিয়ে, উৎসব ও বিভিন্ন সামাজিক আয়োজনে দেশটিতে সোনার চাহিদা ব্যাপক। কিন্তু এই সোনা বিদেশ থেকে আমদানি করতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়।
এই পরিস্থিতিতে মোদি দেশবাসীর প্রতি এক বছরের জন্য সোনা কেনা বন্ধ রাখার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কিছুটা কমবে। তিনি আরও বলেন, বিদেশে ঘুরতে যাওয়া, গন্তব্যভিত্তিক বিয়ে আয়োজন কিংবা অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফরও আপাতত কমিয়ে আনা উচিত।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এটি বড় চাপ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে একদিকে মানুষ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকছে, অন্যদিকে তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

বিরোধীদের সমালোচনা
মোদির এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতের বিরোধী দলগুলোর সমালোচনাও শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতারা অভিযোগ করেছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে। সাধারণ মানুষের ওপর চাপ না দিয়ে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রধানমন্ত্রী মোদির আহ্বানকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এটি দেশকে আরও আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে সহায়তা করবে।
ভারতে সোনা কেনা কমানোর আহ্বান ও জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্ব পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় আরও বড় প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















