১০:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
স্কটল্যান্ডের কোন দুর্গে যাবেন, আর কোনটি এড়িয়ে চলাই ভালো—স্থানীয়ের চোখে সেরা তালিকা মেটার ১৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতা: কিশোরদের জন্য বদলাবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম, চাপ বাড়ছে টিকটক-ইউটিউবেও নিকেতু ইরালু: শান্তির এক সাহসী সেতু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪০ কিলোমিটার যানজট নতুন বিশ্বব্যবস্থায় ভারতীয় শিল্পের ঘুম ভাঙার সময় এখনই খাবারের নিশ্চয়তা থেকে শান্তির রাজনীতি: যুদ্ধের আড়ালে মানুষের আসল প্রয়োজন কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা কারাগারে ইমরান খানকে হত্যা করা হচ্ছে—বাবার জীবন নিয়ে চরম শঙ্কায় দুই ছেলে ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল, ইউক্রেনে বড় পদক্ষেপের সুযোগ দেখছে পুতিন: গোয়েন্দা রিপোর্ট বেসরকারি শিক্ষকদের অধিকার ও সুশাসনে নতুন উদ্যোগ, গঠিত হলো শিক্ষক অ্যালায়েন্স

আইএমএফের হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ ২৯.৪৭ বিলিয়ন ডলার

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের পর বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশের গ্রস রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে এই রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৫ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে আইএমএফের বিপিএম৬ হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। তবে আকুর বিল পরিশোধের পর এক ধাক্কায় প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার কমে যায়।

ব্যাংক লেনদেন ৩টা পর্যন্ত, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার জারি

রিজার্ভ বাড়ার পেছনের কারণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের শুরুতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার। এরপর ধীরে ধীরে রিজার্ভ বাড়তে থাকে। এর পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনা।

এর আগে ২৩ এপ্রিল দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৫ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার। এরপর রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত থাকায় এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ কিছুটা কমে আসায় রিজার্ভ আরও বাড়ে। সবশেষ ৭ মে তা ৩৫ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

তবে আকুর বিল পরিশোধের কারণে সেই রিজার্ভ আবারও কমে এসেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, আমদানি ব্যয় বেশি থাকলে নির্দিষ্ট সময় পরপর আকুর নিষ্পত্তির সময় রিজার্ভে চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা।

আকুতে ১৫১ কোটি ডলার পরিশোধ, কমবে রিজার্ভ | আমার দেশ

আকু কী এবং কীভাবে কাজ করে

আকু বা এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন হলো এশিয়ার কয়েকটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে গড়ে ওঠা একটি আন্তঃআঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আমদানি-রফতানিজনিত লেনদেনের অর্থ প্রতি দুই মাস পরপর সমন্বয় করা হয়।

বাংলাদেশ যেসব দেশের সঙ্গে আকুর আওতায় বাণিজ্য করে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ। এসব দেশের সঙ্গে আমদানি-রফতানির অর্থ সরাসরি প্রতিদিন নিষ্পত্তি না হয়ে নির্দিষ্ট সময় পর একসঙ্গে পরিশোধ করা হয়। ফলে বিল পরিশোধের সময় রিজার্ভে বড় অঙ্কের চাপ দেখা দেয়।

অন্যদিকে আকুর বাইরে অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকলে এবং রপ্তানি আয় স্থিতিশীল থাকলে ভবিষ্যতে আবারও রিজার্ভ বাড়তে পারে। তবে আমদানি ব্যয়ের চাপ এবং বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি রিজার্ভের গতিপ্রকৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কটল্যান্ডের কোন দুর্গে যাবেন, আর কোনটি এড়িয়ে চলাই ভালো—স্থানীয়ের চোখে সেরা তালিকা

আইএমএফের হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ ২৯.৪৭ বিলিয়ন ডলার

০১:৩১:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের পর বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশের গ্রস রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে এই রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৫ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে আইএমএফের বিপিএম৬ হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। তবে আকুর বিল পরিশোধের পর এক ধাক্কায় প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার কমে যায়।

ব্যাংক লেনদেন ৩টা পর্যন্ত, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার জারি

রিজার্ভ বাড়ার পেছনের কারণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের শুরুতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার। এরপর ধীরে ধীরে রিজার্ভ বাড়তে থাকে। এর পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনা।

এর আগে ২৩ এপ্রিল দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৫ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার। এরপর রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত থাকায় এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ কিছুটা কমে আসায় রিজার্ভ আরও বাড়ে। সবশেষ ৭ মে তা ৩৫ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

তবে আকুর বিল পরিশোধের কারণে সেই রিজার্ভ আবারও কমে এসেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, আমদানি ব্যয় বেশি থাকলে নির্দিষ্ট সময় পরপর আকুর নিষ্পত্তির সময় রিজার্ভে চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা।

আকুতে ১৫১ কোটি ডলার পরিশোধ, কমবে রিজার্ভ | আমার দেশ

আকু কী এবং কীভাবে কাজ করে

আকু বা এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন হলো এশিয়ার কয়েকটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে গড়ে ওঠা একটি আন্তঃআঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আমদানি-রফতানিজনিত লেনদেনের অর্থ প্রতি দুই মাস পরপর সমন্বয় করা হয়।

বাংলাদেশ যেসব দেশের সঙ্গে আকুর আওতায় বাণিজ্য করে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ। এসব দেশের সঙ্গে আমদানি-রফতানির অর্থ সরাসরি প্রতিদিন নিষ্পত্তি না হয়ে নির্দিষ্ট সময় পর একসঙ্গে পরিশোধ করা হয়। ফলে বিল পরিশোধের সময় রিজার্ভে বড় অঙ্কের চাপ দেখা দেয়।

অন্যদিকে আকুর বাইরে অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকলে এবং রপ্তানি আয় স্থিতিশীল থাকলে ভবিষ্যতে আবারও রিজার্ভ বাড়তে পারে। তবে আমদানি ব্যয়ের চাপ এবং বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি রিজার্ভের গতিপ্রকৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।