০৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
ভারতে বিনিয়োগে অনীহা কেন: আস্থাহীনতার অর্থনীতি মায়ের শান্তির প্রতীকেই শক্তি খুঁজে পান মাইকেলা রদ্রিগেজ যুদ্ধের অন্ধকার পেরিয়ে গয়নার জগতে আলো ছড়ানো এক নারীর গল্প ব্র্যাকের সেবায় এক বছরে ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ, আগামী পাঁচ বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য অলিম্পিকের ঝলকে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় জাপানি গয়না ব্র্যান্ড বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতিতে জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরলেন হুমায়ুন কবির অক্রম খানের ‘লেডি ম্যাকবেথ’ ব্যালেতে শেক্সপিয়ারের নতুন ব্যাখ্যা ক্যাসি মাসগ্রেভসের নতুন অ্যালবামে একাকীত্বের জয়, ভাঙা হৃদয় থেকে আত্মখোঁজের গল্প টেনিসে বিদ্রোহের গুঞ্জন, গ্র্যান্ড স্ল্যাম বয়কট হলে কাঁপবে কোটি ডলারের সাম্রাজ্য প্যাট্রিসিয়া কর্নওয়েলের অন্ধকার জীবন: রহস্য লেখকের নিজের গল্পও যেন থ্রিলার

ট্রাম্পের নতুন চীন কৌশল ঘিরে উদ্বেগ, মার্কিন অর্থনীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। কিন্তু এবার তাঁর সম্ভাব্য নতুন অর্থনৈতিক কৌশল ঘিরে মার্কিন রাজনীতি ও নীতিনির্ধারণী মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আলোচনায় এসেছে, ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে এমন একটি বড় বিনিয়োগ চুক্তির সম্ভাবনা, যার আওতায় চীন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে পারে।

এই সম্ভাব্য চুক্তিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, শিল্পখাত ও প্রযুক্তিগত ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই ধরনের বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে স্বল্পমেয়াদে অর্থ আনলেও দীর্ঘমেয়াদে তা দেশের শিল্পভিত্তি ও নিরাপত্তাকে দুর্বল করতে পারে।

চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান থেকে নতুন মোড়

ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্থানের অন্যতম বড় ভিত্তি ছিল চীনের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থান। তিনি বহুবার অভিযোগ করেছেন, চীন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাঁর প্রথম মেয়াদে চীনা পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করা হয় এবং পরে বাইডেন প্রশাসনও সেই নীতির অনেক অংশ বজায় রাখে।

কিন্তু সাম্প্রতিক আলোচনায় দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্প এখন চীনা বিনিয়োগকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানোর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও শিল্প কারখানা নির্মাণে চীনা কোম্পানির অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। এতে অনেকেই মনে করছেন, ট্রাম্পের আগের কঠোর অবস্থানের সঙ্গে বর্তমান কৌশলের বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

মার্কিন শিল্পখাতে নতুন শঙ্কা

বিশেষজ্ঞদের বড় একটি অংশের আশঙ্কা, চীনা কোম্পানিগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্রে বড় পরিসরে কারখানা গড়ে তোলে, তাহলে তা স্থানীয় শিল্পখাতের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পে চীন ইতোমধ্যেই বিশ্বে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রীয় সহায়তা, বিশাল সরবরাহ ব্যবস্থা এবং কম খরচের সুবিধা নিয়ে বাজারে প্রবেশ করে। ফলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর পক্ষে সেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে যেতে পারে। এতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব শিল্পভিত্তি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

MAGA leaders warn Trump the base is checking out. Will he listen? - The  Washington Post

প্রযুক্তি ও তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

চীনা বিনিয়োগের আরেকটি বড় বিতর্ক প্রযুক্তি ও তথ্য নিরাপত্তা ঘিরে। সমালোচকদের দাবি, চীনা কোম্পানিগুলো কেবল ব্যবসায়িক লাভের জন্য কাজ করে না; তাদের কার্যক্রমের পেছনে চীনা রাষ্ট্রের প্রভাবও থাকে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রযুক্তি চুরি, তথ্য সংগ্রহ এবং গবেষণা তথ্য সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাই বড় পরিসরে চীনা বিনিয়োগ হলে তা মার্কিন অবকাঠামো, শিল্পপ্রযুক্তি এবং নাগরিক তথ্যের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।

বাণিজ্য নীতিতে নতুন দ্বন্দ্ব

ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে চীনের প্রভাব থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর আলোচনা অনেকের কাছে দ্বৈত অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সমালোচকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজেই চীনের বড় বিনিয়োগ গ্রহণ করে, তাহলে ইউরোপ বা এশিয়ার মিত্র দেশগুলোকেও চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও কৌশলগত জোটের ভারসাম্য বদলে যেতে পারে।

চীনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে সতর্কতা

অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, চীন কেবল অর্থনৈতিক লাভ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্য নিয়েই বিদেশে বিনিয়োগ করে। তাদের মতে, বিদেশি অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর ওপর প্রভাব তৈরি করা বেইজিংয়ের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ।

এই কারণেই ট্রাম্পের সম্ভাব্য নতুন চীন নীতি এখন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে বড় বিতর্কে পরিণত হয়েছে। কেউ এটিকে অর্থনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, এটি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘস্থায়ী কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ট্রাম্পের চীন কৌশল ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্ক, শিল্প ও নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে বিনিয়োগে অনীহা কেন: আস্থাহীনতার অর্থনীতি

ট্রাম্পের নতুন চীন কৌশল ঘিরে উদ্বেগ, মার্কিন অর্থনীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক

০৬:২৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। কিন্তু এবার তাঁর সম্ভাব্য নতুন অর্থনৈতিক কৌশল ঘিরে মার্কিন রাজনীতি ও নীতিনির্ধারণী মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আলোচনায় এসেছে, ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে এমন একটি বড় বিনিয়োগ চুক্তির সম্ভাবনা, যার আওতায় চীন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে পারে।

এই সম্ভাব্য চুক্তিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, শিল্পখাত ও প্রযুক্তিগত ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই ধরনের বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে স্বল্পমেয়াদে অর্থ আনলেও দীর্ঘমেয়াদে তা দেশের শিল্পভিত্তি ও নিরাপত্তাকে দুর্বল করতে পারে।

চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান থেকে নতুন মোড়

ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্থানের অন্যতম বড় ভিত্তি ছিল চীনের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থান। তিনি বহুবার অভিযোগ করেছেন, চীন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাঁর প্রথম মেয়াদে চীনা পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করা হয় এবং পরে বাইডেন প্রশাসনও সেই নীতির অনেক অংশ বজায় রাখে।

কিন্তু সাম্প্রতিক আলোচনায় দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্প এখন চীনা বিনিয়োগকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানোর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও শিল্প কারখানা নির্মাণে চীনা কোম্পানির অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। এতে অনেকেই মনে করছেন, ট্রাম্পের আগের কঠোর অবস্থানের সঙ্গে বর্তমান কৌশলের বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

মার্কিন শিল্পখাতে নতুন শঙ্কা

বিশেষজ্ঞদের বড় একটি অংশের আশঙ্কা, চীনা কোম্পানিগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্রে বড় পরিসরে কারখানা গড়ে তোলে, তাহলে তা স্থানীয় শিল্পখাতের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পে চীন ইতোমধ্যেই বিশ্বে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রীয় সহায়তা, বিশাল সরবরাহ ব্যবস্থা এবং কম খরচের সুবিধা নিয়ে বাজারে প্রবেশ করে। ফলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর পক্ষে সেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে যেতে পারে। এতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব শিল্পভিত্তি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

MAGA leaders warn Trump the base is checking out. Will he listen? - The  Washington Post

প্রযুক্তি ও তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

চীনা বিনিয়োগের আরেকটি বড় বিতর্ক প্রযুক্তি ও তথ্য নিরাপত্তা ঘিরে। সমালোচকদের দাবি, চীনা কোম্পানিগুলো কেবল ব্যবসায়িক লাভের জন্য কাজ করে না; তাদের কার্যক্রমের পেছনে চীনা রাষ্ট্রের প্রভাবও থাকে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রযুক্তি চুরি, তথ্য সংগ্রহ এবং গবেষণা তথ্য সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাই বড় পরিসরে চীনা বিনিয়োগ হলে তা মার্কিন অবকাঠামো, শিল্পপ্রযুক্তি এবং নাগরিক তথ্যের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।

বাণিজ্য নীতিতে নতুন দ্বন্দ্ব

ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে চীনের প্রভাব থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর আলোচনা অনেকের কাছে দ্বৈত অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সমালোচকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজেই চীনের বড় বিনিয়োগ গ্রহণ করে, তাহলে ইউরোপ বা এশিয়ার মিত্র দেশগুলোকেও চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও কৌশলগত জোটের ভারসাম্য বদলে যেতে পারে।

চীনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে সতর্কতা

অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, চীন কেবল অর্থনৈতিক লাভ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্য নিয়েই বিদেশে বিনিয়োগ করে। তাদের মতে, বিদেশি অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর ওপর প্রভাব তৈরি করা বেইজিংয়ের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ।

এই কারণেই ট্রাম্পের সম্ভাব্য নতুন চীন নীতি এখন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে বড় বিতর্কে পরিণত হয়েছে। কেউ এটিকে অর্থনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, এটি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘস্থায়ী কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ট্রাম্পের চীন কৌশল ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্ক, শিল্প ও নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ