পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ১১ মে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় তিনি এই নির্বাচনী জয়কে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
জি এম কাদের বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এবার প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, জনসম্পৃক্ততা এবং নেতৃত্বের প্রতি আস্থার ফল হিসেবেই জনগণ শুভেন্দু অধিকারীকে নির্বাচিত করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বার্তায় শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও পারিবারিক ঐতিহ্যের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। জি এম কাদের উল্লেখ করেন, শুভেন্দুর বাবা শিশির কুমার অধিকারী দীর্ঘদিন সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পূর্ব মেদিনীপুরে তার জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড অধিকারী পরিবারের রাজনৈতিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে বলেও তিনি মত দেন।

রাজনীতিতে দীর্ঘ পথচলা
জি এম কাদের তার বার্তায় শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের কথাও স্মরণ করেন। নন্দীগ্রাম আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা, বিধানসভা ও সংসদে দায়িত্ব পালন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে তিনি শুভেন্দুর রাজনৈতিক শক্তির মূল ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেন।
তার ভাষায়, শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক যাত্রা ধৈর্য, সংগ্রাম এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড় সংযোগের প্রতিফলন। এই অভিজ্ঞতাই তাকে পশ্চিমবঙ্গের নেতৃত্বের আসনে পৌঁছে দিয়েছে।
বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কের গুরুত্ব
জি এম কাদের বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুই বাংলার মানুষের মধ্যে ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের গভীর বন্ধন রয়েছে, যা বহু শতকের ঐতিহ্যের অংশ।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে বাণিজ্য, সংস্কৃতি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও জনকল্যাণভিত্তিক উদ্যোগ দুই অঞ্চলের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সীমান্তের দুই পাশের মানুষের কল্যাণে জাতীয় পার্টি সবসময় ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে উল্লেখ করে জি এম কাদের বলেন, জনগণকেন্দ্রিক নেতৃত্ব ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে বোঝাপড়া এবং সহযোগিতা আরও বাড়াবে।
বার্তার শেষাংশে শুভেন্দু অধিকারীর নতুন দায়িত্ব পালনে সফলতা কামনা করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে দুই বাংলার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য এবং ইতিবাচক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















