০৭:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
‘গেস পেপার’ বিতর্কে বাতিল নিট-ইউজি ২০২৬, তদন্তে সিবিআই জমি ভাগাভাগির বিরোধে দিনাজপুরে বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা কেরালার মুখ্যমন্ত্রী দৌড়ে এগিয়ে কে সি ভেনুগোপাল ফেনীতে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল বাবা-ছেলের রংপুর-রাজশাহীতে ভারী বৃষ্টির আভাস, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস কান উৎসবে বাংলাদেশের চার নির্মাতা, আন্তর্জাতিক ডকুমেন্টারি প্ল্যাটফর্মে নতুন সম্ভাবনা এইচআইভি চিকিৎসায় নতুন আশার আলো, একবারের কোষ থেরাপিতেই দীর্ঘ নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত রক্তকরবী: শোষণের অন্ধকার ভেদ করে মানুষের মুক্তির নাটক বিদেশি পণ্য কমানো ও জ্বালানি সাশ্রয়ে মোদির আহ্বান, চাপে ভারতের অর্থনীতি বাংলাদেশে গরুর মাংস আমদানির দাবি উঠছে কেন

কক্সবাজারে হামের ভয়াবহ বিস্তার, ২০ শয্যার ওয়ার্ডে ভর্তি ৮৭ শিশু

কক্সবাজারে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে হাম। জেলা সদর হাসপাতালের বিশেষ হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি শিশু ভর্তি থাকায় চরম সংকট তৈরি হয়েছে। ২০ শয্যার এই ওয়ার্ডে বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছে ৮৭ শিশু। কখনও এই সংখ্যা একশ ছাড়িয়েছে বলেও জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জায়গার অভাবে অনেক শিশুকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গত ৪০ দিনে জেলায় মারা গেছে ১৭ শিশু।

সোমবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, ওয়ার্ডের প্রায় প্রতিটি বেডে দুই থেকে চারজন শিশুকে রাখা হয়েছে। কোথাও শিশুরা মেঝেতে শুয়ে আছে, আবার কোথাও স্বজনের কোলে নিয়েই চলছে চিকিৎসা। উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের ছোটাছুটিতে পুরো ওয়ার্ডজুড়ে তৈরি হয়েছে চাপা আতঙ্কের পরিবেশ।

চিকিৎসাসেবায় চরম চাপ

রামু থেকে আসা এক অভিভাবক জানান, রোগীর তুলনায় চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা খুবই কম। প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও নেবুলাইজার সংকটও রয়েছে। বাধ্য হয়ে নিজের সন্তানের জন্য আলাদা নেবুলাইজার কিনতে হয়েছে তাকে। প্রথম দফায় চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরার পরও শিশুর অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্বিতীয়বার হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

আরেক অভিভাবকের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। প্রয়োজনের সময় নার্সদের সহযোগিতা না পেয়ে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে স্বজনদের। শিশুদের প্রতি আন্তরিক সেবার অভাব পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে বলেও দাবি তাদের।

বেড সংকটে মেঝেতে চিকিৎসা

হাসপাতালে শয্যা সংকট এতটাই তীব্র যে অনেক শিশুকে মেঝেতে শুইয়ে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। স্বজনদের অভিযোগ, রোগীর মায়েদের ছাড়া অন্য কাউকে ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। ফলে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের করিডোর ও সিঁড়িতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, কক্সবাজারের সবচেয়ে বড় সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র এই জেলা সদর হাসপাতাল। হামের প্রকোপ বাড়তে থাকায় আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হলেও রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

জনবল সংকটে চিকিৎসকরা বিপাকে

বর্তমানে ৮৭ শিশুর জন্য এক শিফটে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন মেডিকেল অফিসার, দুইজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও ছয়জন নার্স। সীমিত জনবল নিয়েই দিনরাত চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শান্তনু ঘোষ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩০ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৩ জন। মাত্র ২০ শয্যার বিপরীতে এত রোগী ভর্তি থাকায় সেবাদান অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ওয়ার্ডে মাত্র পাঁচজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগ করা গেলে পরিস্থিতি অনেকটা সামাল দেওয়া সম্ভব হতো। তবে সংকটের মধ্যেও চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

হামের সংক্রমণ বাড়ছে জেলায়

কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে এক হাজার ৭৮৮ জন। এর মধ্যে ৪২৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় ১১৯ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে মারা গেছে ১৭ শিশু।

কক্সবাজারে দ্রুত সংক্রমণ বৃদ্ধিতে অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

কক্সবাজারে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবে ২০ শয্যার ওয়ার্ডে ভর্তি ৮৭ শিশু। সংকটে চিকিৎসাসেবা, গত ৪০ দিনে মৃত্যু ১৭ জনের।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘গেস পেপার’ বিতর্কে বাতিল নিট-ইউজি ২০২৬, তদন্তে সিবিআই

কক্সবাজারে হামের ভয়াবহ বিস্তার, ২০ শয্যার ওয়ার্ডে ভর্তি ৮৭ শিশু

০৫:৫৯:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

কক্সবাজারে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে হাম। জেলা সদর হাসপাতালের বিশেষ হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি শিশু ভর্তি থাকায় চরম সংকট তৈরি হয়েছে। ২০ শয্যার এই ওয়ার্ডে বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছে ৮৭ শিশু। কখনও এই সংখ্যা একশ ছাড়িয়েছে বলেও জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জায়গার অভাবে অনেক শিশুকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গত ৪০ দিনে জেলায় মারা গেছে ১৭ শিশু।

সোমবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, ওয়ার্ডের প্রায় প্রতিটি বেডে দুই থেকে চারজন শিশুকে রাখা হয়েছে। কোথাও শিশুরা মেঝেতে শুয়ে আছে, আবার কোথাও স্বজনের কোলে নিয়েই চলছে চিকিৎসা। উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের ছোটাছুটিতে পুরো ওয়ার্ডজুড়ে তৈরি হয়েছে চাপা আতঙ্কের পরিবেশ।

চিকিৎসাসেবায় চরম চাপ

রামু থেকে আসা এক অভিভাবক জানান, রোগীর তুলনায় চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা খুবই কম। প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও নেবুলাইজার সংকটও রয়েছে। বাধ্য হয়ে নিজের সন্তানের জন্য আলাদা নেবুলাইজার কিনতে হয়েছে তাকে। প্রথম দফায় চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরার পরও শিশুর অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্বিতীয়বার হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

আরেক অভিভাবকের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। প্রয়োজনের সময় নার্সদের সহযোগিতা না পেয়ে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে স্বজনদের। শিশুদের প্রতি আন্তরিক সেবার অভাব পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে বলেও দাবি তাদের।

বেড সংকটে মেঝেতে চিকিৎসা

হাসপাতালে শয্যা সংকট এতটাই তীব্র যে অনেক শিশুকে মেঝেতে শুইয়ে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। স্বজনদের অভিযোগ, রোগীর মায়েদের ছাড়া অন্য কাউকে ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। ফলে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের করিডোর ও সিঁড়িতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, কক্সবাজারের সবচেয়ে বড় সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র এই জেলা সদর হাসপাতাল। হামের প্রকোপ বাড়তে থাকায় আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হলেও রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

জনবল সংকটে চিকিৎসকরা বিপাকে

বর্তমানে ৮৭ শিশুর জন্য এক শিফটে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন মেডিকেল অফিসার, দুইজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও ছয়জন নার্স। সীমিত জনবল নিয়েই দিনরাত চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শান্তনু ঘোষ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩০ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৩ জন। মাত্র ২০ শয্যার বিপরীতে এত রোগী ভর্তি থাকায় সেবাদান অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ওয়ার্ডে মাত্র পাঁচজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগ করা গেলে পরিস্থিতি অনেকটা সামাল দেওয়া সম্ভব হতো। তবে সংকটের মধ্যেও চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

হামের সংক্রমণ বাড়ছে জেলায়

কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে এক হাজার ৭৮৮ জন। এর মধ্যে ৪২৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় ১১৯ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে মারা গেছে ১৭ শিশু।

কক্সবাজারে দ্রুত সংক্রমণ বৃদ্ধিতে অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

কক্সবাজারে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবে ২০ শয্যার ওয়ার্ডে ভর্তি ৮৭ শিশু। সংকটে চিকিৎসাসেবা, গত ৪০ দিনে মৃত্যু ১৭ জনের।