০৪:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
জ্বালানি নিরাপত্তায় ৪২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গড়ছে ভারত, গ্যাস ব্যবহারকারীদের ওপর নতুন শুল্কের পরিকল্পনা ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ, প্রায় ৫৮ হাজার শিক্ষার্থীকে আবার পরীক্ষা দিতে বলল মেক্সিকোর শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটেনি সাইবার প্রতারণা দমনে কঠোর আইন, মৃত্যুদণ্ডের বিধান অনুমোদন করল মিয়ানমারের জান্তা যুক্তরাষ্ট্রের ছাতার নিচে কতটা নিরাপদ জাপানের ইয়েন? রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপল কিয়েভ, নিহত অন্তত ১৭ মিয়ানমারের পাহাড়ে শুরু হয়েছে ২১ শতকের নতুন ‘গ্রেট গেম’  ও বাংলাদেশ    এআই কর্মসংস্থান, ফেডের নতুন দিকনির্দেশনা ও মূল্যস্ফীতির বৈষম্য—বিশ্ব অর্থনীতিতে তিন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন মোদির ভিডিও সরানো বিতর্ক: তিন দিনের মধ্যে ক্ষমা না চাইলে মেটার ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা হারানোর হুঁশিয়ারি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাকরি-ঝড়, নতুন ফেড ও ‘দুই গতির’ মূল্যস্ফীতি: বিশ্ব অর্থনীতি কোন মোড়ে দাঁড়িয়ে?

কেরালার মুখ্যমন্ত্রী দৌড়ে এগিয়ে কে সি ভেনুগোপাল

কেরালার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে জোর আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক বৈঠক ও দলীয় পর্যায়ের মতামতের ভিত্তিতে এখন লড়াই মূলত দুই নেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে এসেছে। এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ ও দলের শীর্ষ সংগঠক কে সি ভেনুগোপাল।

রাহুল গান্ধীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সম্প্রতি কেরালার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কংগ্রেস নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইউডিএফ কনভেনর অধূর প্রকাশ, কেপিসিসির শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান থিরুভানচুর রাধাকৃষ্ণনসহ আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা।

এছাড়া কেরালা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির পাঁচ সাবেক সভাপতি এবং তিন কার্যকরী সভাপতির সঙ্গেও আলোচনা করেন রাহুল গান্ধী। এই বৈঠকগুলোকে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

১০ নেতার মধ্যে ৭ জনের সমর্থন ভেনুগোপালের পক্ষে

দলীয় সূত্রের দাবি, আলোচনায় অংশ নেওয়া ১০ জন গুরুত্বপূর্ণ নেতার মধ্যে ৭ জন কে সি ভেনুগোপালকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দিয়েছেন।

অন্যদিকে কেরালা বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা ভিডি সতীশনের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন দুই নেতা। একজন নেতা নিরপেক্ষ অবস্থানে ছিলেন বলে জানা গেছে।

সূত্র বলছে, কে মুরলিধরন ও ভি এম সুদীরন সতীশনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে ভেনুগোপালকে সমর্থন করা বাকি নেতাদের নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ছিটকে গেলেন রমেশ চেন্নিথালা?

কেরালার রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ রমেশ চেন্নিথালার নামও মুখ্যমন্ত্রী দৌড়ে আলোচনায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তিনি অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

সোমবার দিল্লি থেকে ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে চেন্নিথালা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা রাজ্যের কংগ্রেস ও ইউডিএফের সবাই মেনে নেবে।

তিনি বলেন,
“আমরা যা বলার ছিল, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছি। তারা সব শুনেছেন। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তাদের।”

চেন্নিথালা আরও বলেন, সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় লাগা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ।

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উদ্বিগ্ন রাহুল গান্ধী

বৈঠকে রাহুল গান্ধী কেরালা কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে বিভিন্ন পক্ষের শক্তি প্রদর্শন, রোড শো এবং প্রকাশ্য সমর্থন প্রদর্শন দলীয় ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের ভেতরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হলেও শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

বিধানসভায় ইউডিএফের বড় জয়

সাম্প্রতিক কেরালা বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) ১৪০ আসনের মধ্যে ১০২টি আসনে জয় পেয়েছে।

অন্যদিকে বিদায়ী এলডিএফ জোট পেয়েছে ৩৫টি আসন। বিজেপি পেয়েছে ৩টি আসন।

এই বড় জয়ের পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কেরালার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাকে বেছে নেয় কংগ্রেস নেতৃত্ব।

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি নিরাপত্তায় ৪২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গড়ছে ভারত, গ্যাস ব্যবহারকারীদের ওপর নতুন শুল্কের পরিকল্পনা

কেরালার মুখ্যমন্ত্রী দৌড়ে এগিয়ে কে সি ভেনুগোপাল

০৭:২০:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

কেরালার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে জোর আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক বৈঠক ও দলীয় পর্যায়ের মতামতের ভিত্তিতে এখন লড়াই মূলত দুই নেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে এসেছে। এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ ও দলের শীর্ষ সংগঠক কে সি ভেনুগোপাল।

রাহুল গান্ধীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সম্প্রতি কেরালার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কংগ্রেস নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইউডিএফ কনভেনর অধূর প্রকাশ, কেপিসিসির শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান থিরুভানচুর রাধাকৃষ্ণনসহ আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা।

এছাড়া কেরালা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির পাঁচ সাবেক সভাপতি এবং তিন কার্যকরী সভাপতির সঙ্গেও আলোচনা করেন রাহুল গান্ধী। এই বৈঠকগুলোকে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

১০ নেতার মধ্যে ৭ জনের সমর্থন ভেনুগোপালের পক্ষে

দলীয় সূত্রের দাবি, আলোচনায় অংশ নেওয়া ১০ জন গুরুত্বপূর্ণ নেতার মধ্যে ৭ জন কে সি ভেনুগোপালকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দিয়েছেন।

অন্যদিকে কেরালা বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা ভিডি সতীশনের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন দুই নেতা। একজন নেতা নিরপেক্ষ অবস্থানে ছিলেন বলে জানা গেছে।

সূত্র বলছে, কে মুরলিধরন ও ভি এম সুদীরন সতীশনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে ভেনুগোপালকে সমর্থন করা বাকি নেতাদের নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ছিটকে গেলেন রমেশ চেন্নিথালা?

কেরালার রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ রমেশ চেন্নিথালার নামও মুখ্যমন্ত্রী দৌড়ে আলোচনায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তিনি অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

সোমবার দিল্লি থেকে ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে চেন্নিথালা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা রাজ্যের কংগ্রেস ও ইউডিএফের সবাই মেনে নেবে।

তিনি বলেন,
“আমরা যা বলার ছিল, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছি। তারা সব শুনেছেন। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তাদের।”

চেন্নিথালা আরও বলেন, সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় লাগা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ।

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উদ্বিগ্ন রাহুল গান্ধী

বৈঠকে রাহুল গান্ধী কেরালা কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে বিভিন্ন পক্ষের শক্তি প্রদর্শন, রোড শো এবং প্রকাশ্য সমর্থন প্রদর্শন দলীয় ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের ভেতরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হলেও শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

বিধানসভায় ইউডিএফের বড় জয়

সাম্প্রতিক কেরালা বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) ১৪০ আসনের মধ্যে ১০২টি আসনে জয় পেয়েছে।

অন্যদিকে বিদায়ী এলডিএফ জোট পেয়েছে ৩৫টি আসন। বিজেপি পেয়েছে ৩টি আসন।

এই বড় জয়ের পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কেরালার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাকে বেছে নেয় কংগ্রেস নেতৃত্ব।