এইচআইভি চিকিৎসায় নতুন এক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন গবেষকরা। সাম্প্রতিক এক ছোট আকারের পরীক্ষায় দেখা গেছে, বিশেষ ধরনের একবারের কোষ থেরাপি কিছু রোগীর শরীরে ভাইরাসকে দীর্ঘ সময় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফলে প্রতিদিন ওষুধ খাওয়ার বাধ্যবাধকতা কমে আসার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
গবেষণাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, এখন পর্যন্ত এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোগীদের আজীবন অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধের ওপর নির্ভর করতে হয়। নতুন এই পদ্ধতি সফল হলে ভবিষ্যতে চিকিৎসার ধরনই বদলে যেতে পারে।
নতুন থেরাপি কীভাবে কাজ করে
গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ ধরনের ‘কার-টি’ কোষ থেরাপি। এতে রোগীর শরীর থেকে টি-সেল সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরিবর্তন আনা হয়। পরে সেই কোষ আবার শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যাতে তারা এইচআইভি আক্রান্ত কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, এই থেরাপি ভাইরাসের নির্দিষ্ট অংশকে লক্ষ্য করে কাজ করে। ফলে শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখার সক্ষমতা তৈরি হতে পারে।
পরীক্ষায় কী পাওয়া গেছে
প্রথম ধাপের এই পরীক্ষায় মোট কয়েকজন রোগী অংশ নেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে পূর্ণমাত্রার থেরাপি দেওয়া হয়। এর মধ্যে দুজন রোগী অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধ বন্ধ করার পরও দীর্ঘ সময় ভাইরাসকে খুব কম বা শনাক্ত করা যায় না এমন অবস্থায় রাখতে পেরেছেন। একজনের ক্ষেত্রে এই অবস্থা দুই বছরের বেশি সময় ধরে রয়েছে।

আরেকজন রোগীর শরীরে ভাইরাস কিছুটা ফিরে এলেও পরে তা আবার কম মাত্রায় নিয়ন্ত্রণে আসে। গবেষকরা বলছেন, যেসব রোগীর সংক্রমণ দ্রুত শনাক্ত হয়েছিল এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু হয়েছিল, তাদের ফল সবচেয়ে ভালো এসেছে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম
বর্তমানে রক্তের ক্যানসারের চিকিৎসায় কার-টি থেরাপি ব্যবহার করা হয়। তবে সেখানে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এই নতুন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এইচআইভি রোগীদের ক্ষেত্রে তেমন গুরুতর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিক। কারণ নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত না হলে বড় পরিসরে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্ভব হবে না।
এখনও বাকি অনেক পথ
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি এখনই চূড়ান্ত সমাধান নয়। গবেষণাটি খুব ছোট পরিসরে হয়েছে এবং আরও বড় আকারে পরীক্ষা প্রয়োজন। পাশাপাশি কোন ধরনের রোগীরা সবচেয়ে বেশি উপকার পাবেন, সেটিও এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
বিশ্বজুড়ে বর্তমানে কোটি কোটি মানুষ এইচআইভি নিয়ে জীবনযাপন করছেন। নতুন এই থেরাপি ভবিষ্যতে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করা গেলে তা বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে একবারের কোষ থেরাপিতে আশাব্যঞ্জক ফল মিলেছে। গবেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে বদলে যেতে পারে চিকিৎসার ধরন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















