চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় শত্রুতার জেরে এক মৎস্য চাষীর পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছের পোনা নিধনের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাতে দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী মৎস্য চাষী রেজাউল করিম। ঘটনাটি এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
ক্ষতির মুখে মৎস্য চাষী
ভুক্তভোগী রেজাউল করিম জানান, প্রায় দুই মাস আগে বিক্রির উদ্দেশ্যে তিনি তার পুকুরে কার্প, তেলাপিয়া ও রুই মাছের ডিম ছাড়েন। দীর্ঘদিন পরিচর্যা ও যত্নের মাধ্যমে ডিম থেকে রেণু পোনা উৎপাদন করেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে একটি পুকুরে গিয়ে তিনি দেখতে পান মাছের পোনা মরে পানির ওপর ভেসে উঠছে। কিছু সময়ের মধ্যেই পুরো পুকুরজুড়ে মৃত পোনায় ভরে যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে কেউ পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেছে। এতে তার প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আগেও বিষ প্রয়োগের অভিযোগ
রেজাউল করিম আরও জানান, এর আগেও ১০ থেকে ১২ দিন আগে তার আরও দুটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছিল বলে জানান তিনি। ধারাবাহিক এসব ঘটনার পেছনে শত্রুতার সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বারবার এ ধরনের ঘটনায় তিনি আর্থিকভাবে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পরিকল্পিতভাবে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই এ ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি।
থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি
ঘটনার বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন রেজাউল করিম। তিনি আশা করছেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হালিম বলেন, দুর্গাপুর ইউনিয়নে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের মতে, মৎস্য চাষ দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। এ ধরনের নাশকতা শুধু একজন চাষীকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং স্থানীয় উৎপাদন ও জীবিকার ওপরও প্রভাব ফেলে। ফলে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















