তরুণ পেসার নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়ে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টের শেষ দিনে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেন এই গতিতারকা। ৯.৫ ওভারে মাত্র ৪০ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং গড়েন নাহিদ।
এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তৃতীয় টেস্ট জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শক্তির ভারসাম্য বদলে যাওয়ারও স্পষ্ট বার্তা দিল স্বাগতিকরা।
২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। উইকেটের অনিয়মিত বাউন্স ও নাহিদের গতি-নির্ভর বোলিংয়ের সামনে টিকতে পারেননি সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত ৫২.৫ ওভারে ১৬৩ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।
শুরুর আঘাতেই পাকিস্তানকে চাপে ফেলেন নাহিদ। অধিনায়ক শান মাসুদকে মাত্র ২ রানে ফিরিয়ে দেন তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরে থেকে ভেতরে ঢুকে আসা বল ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়ে। এরপর একপ্রান্তে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন আবদুল্লাহ ফজল। তার ৬৬ রানের লড়াকু ইনিংস পাকিস্তানকে কিছুটা আশা দেখালেও সেটি বেশিক্ষণ টেকেনি।

মধ্যাহ্ন বিরতির পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন নাহিদ। প্রথমে সৌদ শাকিলকে ১৫ রানে ফেরান। এরপর ম্যাচের অন্যতম সেরা ডেলিভারিতে বোল্ড করেন মোহাম্মদ রিজওয়ানকে। প্রায় ১৪৭ কিলোমিটার গতির বল অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করে ভেতরে ঢুকে সরাসরি স্টাম্প উড়িয়ে দেয়। রিজওয়ান হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকেন।
বাংলাদেশের এই জয়ের ভিত গড়ে দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৭ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন তিনি। শতক থেকে মাত্র ১৩ রান দূরে থাকলেও দলের স্বার্থে ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেন শান্ত। তার সঙ্গে মুমিনুল হকের ৫৬ রান পাকিস্তানের সামনে কঠিন লক্ষ্য দাঁড় করিয়ে দেয়।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তেও ছিল উত্তেজনা। পাকিস্তানের শেষ ব্যাটার শাহিন শাহ আফ্রিদিকে শর্ট বল দিয়ে ফাঁদে ফেলেন নাহিদ। প্রতিরোধ করতে গিয়ে গ্লাভসে লেগে বল শর্ট লেগে ক্যাচ ওঠে। ক্যাচটি তালুবন্দি হতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম।
পাঁচ উইকেট পূর্ণ করার পর সতীর্থদের দিকে ছুটে যান নাহিদ। তার আগুনে বোলিংয়েই নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের স্মরণীয় জয়। এই পারফরম্যান্সে দেশের ক্রিকেটে নতুন পেস আক্রমণের শক্তিরও প্রমাণ মিলেছে।
দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে আগামী ১৬ মে সিলেটে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















