টানা কয়েক দিনের মন্দাভাব কাটিয়ে আবারও চাঙ্গা হতে শুরু করেছে দেশের পুঁজিবাজার। প্রায় তিন সপ্তাহ পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দৈনিক লেনদেন ১ হাজার কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করেছে। অর্থ উপদেষ্টার বাজার সংস্কারের ইঙ্গিত এবং বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে মঙ্গলবার বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়।
মঙ্গলবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৪ পয়েন্টের বেশি বেড়ে ৫ হাজার ২২৯ পয়েন্টে অবস্থান নেয়। আগের কার্যদিবসে সূচকটি ছিল ৫ হাজার ২০৫ পয়েন্টে। একই দিনে মোট লেনদেন দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা, যা আগের দিনের ৭১৪ কোটি টাকা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। সর্বশেষ গত ২৮ এপ্রিল ডিএসইতে ১ হাজার কোটির বেশি লেনদেন হয়েছিল।
বাজারে ইতিবাচক মনোভাবের পেছনে বড় ভূমিকা রাখে অর্থ উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বক্তব্য। রাজধানীতে ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি (বিএসআইসি)’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি জানান, সরকার পুঁজিবাজারে বড় ধরনের সংস্কারের পথে এগোচ্ছে এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হবে। তার এই মন্তব্য বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি করে।
দিনের শুরুতে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও মাঝপথে কিছুটা সংশোধন হয়। তবে শেষ দিকে আবারও ক্রয়চাপ বাড়ায় সূচক শক্ত অবস্থানে বন্ধ হয়। এদিন মোট ৩৯৩টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৮৮টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৩৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৬৭টির দাম। ব্লক মার্কেটে লেনদেন হয়েছে ৩৭২ কোটি টাকা।
খাতভিত্তিক লেনদেনে প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন, বস্ত্র, বিমা এবং ব্যাংকিং খাত এগিয়ে ছিল। দিনের সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টসের শেয়ারে। কোম্পানিটির শেয়ার ১০ শতাংশ সার্কিট ব্রেকার ছুঁয়ে ২৪ টাকা ৩০ পয়সায় বন্ধ হয়। এছাড়া ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স এবং ভিএফএস থ্রেড ডাইংয়ের শেয়ারও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অন্যদিকে মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, মন্নো সিরামিক ও এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড দিনের বড় দরপতনের তালিকায় ছিল।
একই দিনে বাজার খোলার পর প্রথম দিকের লেনদেনেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। টানা পাঁচ দিনের দরপতনের পর বিনিয়োগকারীরা কমদামে থাকা ভালো মৌলভিত্তির শেয়ার কিনতে আগ্রহ দেখান। সকাল ১১টা পর্যন্ত ডিএসইএক্স সূচক ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২২৩ পয়েন্টে ওঠে। ডিএসই-৩০ এবং শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচকেও অগ্রগতি দেখা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর বাজারে অস্থিরতা বাড়লেও সাম্প্রতিক সংস্কার ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ভূমিকা রাখছে। নির্বাচনের পর কয়েকদিন লেনদেন ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ছাড়ালেও পরবর্তীতে তা কমে ৭০০ থেকে ৮৭৬ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। মঙ্গলবারের উল্লম্ফন তাই বাজারের জন্য নতুন ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















