মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তার মধ্যে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ানোর দিকে এগোচ্ছে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। ব্যাংক অব জাপান (বিওজে) এপ্রিলের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করে জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়তে থাকায় আগামী জুনেই নীতিগত সুদের হার বাড়ানো হতে পারে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই নথিতে বিওজের এক সদস্যের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত থাকলেও পরবর্তী মুদ্রানীতি বৈঠক থেকেই সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা যথেষ্ট বেশি। আগামী ১৬ জুন জাপানের পরবর্তী নীতিগত বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বাজারে বাড়ছে সুদ বৃদ্ধির প্রত্যাশা
গত ২৮ এপ্রিল গভর্নর কাজুও উয়েদার নেতৃত্বাধীন বোর্ড ৬-৩ ভোটে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এই বিভক্ত ভোটাভুটি বিশ্লেষকদের কাছে স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সুদ বাড়ানোর পক্ষে সমর্থন বাড়ছে।
ওভারনাইট সুদহার বিনিময় বাজারের হিসাব অনুযায়ী, জুন বৈঠকে সুদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন প্রায় ৭৭ শতাংশ। এপ্রিল বৈঠকের সারসংক্ষেপ সেই প্রত্যাশাকেই আরও শক্তিশালী করেছে।
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও মূল্যস্ফীতির চাপ
বিওজের নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা। তাদের আশঙ্কা, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি ও আমদানি ব্যয় বেড়ে জাপানে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে।
এক সদস্যের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরপেক্ষ সুদের হারের দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া জরুরি হয়ে পড়বে। বর্তমানে জাপানের নীতিগত সুদের হার ০.৭৫ শতাংশ, যা উন্নত অর্থনীতিগুলোর মধ্যে অন্যতম নিম্ন স্তর।
আরেক সদস্য বলেন, জাপানের প্রকৃত সুদের হার বিশ্বে সবচেয়ে কম পর্যায়ে রয়েছে। তাই মূল্যবৃদ্ধির দ্বিতীয় ধাক্কা সামাল দিতে নেতিবাচক প্রকৃত সুদহার সমন্বয় চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
![]()
যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট টোকিও সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বেসেন্ট জাপান সরকারকে বিওজেকে স্বাধীনভাবে সুদের হার বাড়ানোর সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেরি না হয়।
যদিও প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি অতীতে সুদ বাড়ানোর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, তবুও জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাটায়ামা পুনর্ব্যক্ত করেন যে মুদ্রানীতির সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে বিওজের ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত।
ইয়েনের দুর্বলতা বাড়াচ্ছে চাপ
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এক পর্যায়ে প্রতি ডলারে ১৬০ ইয়েনের সীমা অতিক্রম করলে জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে বলে ধারণা করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েনের দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা বিওজের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। কারণ দুর্বল মুদ্রা আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতিকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে। তাই এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য অতিরিক্ত নমনীয় অবস্থান নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এপ্রিল বৈঠকে বিওজে তাদের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। বৈঠক-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর উয়েদাও তুলনামূলক কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দেন, যদিও তাতে ইয়েনের পতন পুরোপুরি ঠেকানো যায়নি।
জাপানের সুদের হার বৃদ্ধি
জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকির কারণে জুনেই সুদের হার বাড়াতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















